শরীয়তপুরে হতদরিদ্র পরিবারের ত্যাগ ও স্বপ্ন ফেরাতে বিনা খরচে বিদেশে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণের সংযোগে থাকা জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ম্যাটকো এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটি প্রশিক্ষণ দিয়ে মোট ২১৬ জন যুবককে ওয়ার্কার ভিসায় দুবাই পাঠানোর তালিকা করেছে; এর মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার ১১ জনের পাসপোর্ট, ভিসা ও নথিপত্র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
প্রতারণার কবলে পড়ে জীবনধারণ কষ্ট—প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আশার আলো
নড়িয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকার কৃষক ইয়াজল মোল্লার ছেলে নূর হোসাইন (৩৫) কনস্ট্রাকশনের প্রশিক্ষণ শেষে দুবাই যাওয়ার সুযোগ পেয়ে স্বস্তি পেয়েছেন। ছয় মাস আগে দুবাই যাওয়ার আশায় এক দালালকে তিনি ৩ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন; দালাল টাকা নিলে পর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে এক লাখ টাকা ফেরত পেলেও বাকিটা ফেরত পাননি। ঋণ শোধ করতে স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ধার নেওয়া টাকা ফিরিয়ে দিতে গিয়ে পরিবারের জীবনযাত্রা কষ্টকর হয়েছে—টেনে-টুনে আরেকটি ধার ফিরিয়ে দিয়ে তিনি বলছেন প্রায় ৮০ হাজার টাকা শোধ করেছেন।
নূর হোসাইন সংবাদকর্মীদের বলেন, “প্রতারিত হয়েছি। অনেক কষ্ট করেছি; কিন্তু এখন কনস্ট্রাকশনের কাজ শিখেছি, আর এখানে কোনো খরচ আমার পকেটে যায়নি। দুবাই গিয়ে কাজ করে পরিবারকে বাঁচাতে পারব।”
ম্যাটকো কি করছে এবং কর্মীদের অবস্থা
ম্যাটকো এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে আইনগত ও যাতায়াত বিষয়ক খরচসহ প্রশিক্ষণ-নির্ভর অন্যান্য খরচ বহন করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি ও সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণের ব্যক্তিগত সহকারী শাহাদাত হোসেন উজ্জ্বল জানান, মোট ২১৬ জনকে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিয়ে ওয়ার্কার হিসেবে দুবাই পাঠানো হবে। এর আগে ২২ আগস্ট ৪৬ জন পাঠানো হয়েছিল এবং আজ ১১ জনের নথি প্রদান করা হলো। উজ্জ্বল আরও জানালেন, এখনও ১৫৯ জন পাঠানোর জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন।
“কর্মীরা মাসে এক হাজার থেকে ১২০০ দিরহাম বেতন পাবেন। এছাড়া ওভারটাইমের সুযোগও থাকবে,”
উজ্জ্বল বলেন যে, আনুমানিক একজন কর্মীকে দুবাই পাঠাতে খরচ হয় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে স্টিল ফিক্সার, মেসন, ক্লিনারসহ বিভিন্ন ট্রেড রয়েছে।
কোন ধারার প্রশিক্ষণ ও স্থানীয় প্রভাব
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী প্রশিক্ষণে সাধারণত কনস্ট্রাকশনভিত্তিক কাজের দক্ষতা, সাইট সেফটি, যাতায়াত-নথিপত্র প্রস্তুতি ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নিয়মাবলী শেখানো হয়। স্থানীয়ভাবে এই ধরনের উদ্যোগের প্রভাব কয়েক দিক থেকে পরিলক্ষিত হবে—কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবারগুলোর আয় বাড়ানো ও প্রতারণায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনরুদ্ধার।
- প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মোট যুবক: ২১৬
- এখনো পাঠানো হয়েছে: ৫৭ (আগের ৪৬ + আজকের ১১)
- অপেক্ষমাণ: ১৫৯
| আইটেম | সংখ্যা / তথ্য |
|---|---|
| মোট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত | ২১৬ জন |
| আগে পাঠানো | ৪৬ জন (২২ আগস্ট) |
| আজ পাঠানো | ১১ জন |
| অপেক্ষমাণ | ১৫৯ জন |
| প্রতিটি কর্মীর আনুমানিক ব্যয় | ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা |
স্থানীয় প্রশ্ন ও সতর্কতা
স্থানীয়রা বলেন, বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে পড়ার না এমন নিশ্চয়তা থাকা জরুরি। নূর হোসাইনের মতো অনেকেই আগে প্রতারণার শিকার হওয়ার কারণেই আজকের উদ্যোগে আগ্রহী হয়েছিলেন। এ প্রেক্ষাপটে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের নথিপত্র, নিয়োগপত্র ও ভিসার বাস্তব যাচাই নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে স্থানীয় প্রশাসন ও শ্রমীয় সংগঠনগুলোর কাছে অনুরোধ থাকবে।
এভাবে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে ট্রেনিং ও ওয়ার্কার ভিসা সংযোগ হলে শরীয়তপুরের পরিবারের আয়-উপার্জন শক্তি বাড়তে পারে। তবে যথাযথ তথ্য, নিয়োগপত্রের স্বচ্ছতা ও শ্রম আইনগত রক্ষা নিশ্চিত করা না হলে কর্মীদের ঝুঁকি থেকে যায়।
ম্যাটকো কর্তৃপক্ষ এ কার্যক্রম কিভাবে দীর্ঘমেয়াদে পরিচালনা করবে এবং পাঠানো কর্মীদের পুনর্বাসন ও কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিত করবে—এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
বর্তমানে এ উদ্যোগে সরাসরি কী করণীয় এবং কোন বিভাগীয় তত্ত্বাবধান থাকবে—এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি হাতে পেলেই পরবর্তী প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হবে।