শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার একটি ঘটনার অভিযোগে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পরিচয়ের পর ইমুতে নিয়মিত কথোপকথনের মধ্য দিয়ে এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে একজন কিশোরীর। পরে দেখা করার জন্য যাওয়ার এক পর্যায়ে ওই কিশোরীকে জোর করে তুলে নিয়ে সখিপুরে নিয়ে যাওয়ার এবং সেখানে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন কিশোরীর মা।
ঘটনাক্রম ও অভিযোগ
পুলিশ ও মামলার কাগজপত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে গত ২১ সেপ্টেম্বর। ওই দিন নড়িয়ার ডিঙ্গামানিক এলাকার গোলার মাঠে দেখা করতে গেলে অভিযুক্ত রাজু গাজী (২১) কিশোরীকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান। অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখান থেকে তাকে সখিপুর থানার চারভাগা শনি কান্দি গ্রামের রাজুর বাড়িতে নেওয়া হয় এবং সেখানে একদিন আটক রেখে ধর্ষণ করা হয়।
পরবর্তীতে কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকা নেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ আছে। সেখানে একটি আবাসিক হোটেলে আটকে রেখে পুনরায় ধর্ষণ করা হয়—এমনটাই অভিযোগে বলা হয়েছে। মামলায় আরও বলা হয়েছে, কিশোরী রাজুকে বিয়ের কথা বললে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয় এবং এরপর বাড়ির কাছাকাছি একটি সড়কে কিশোরীকে রেখে রাজু পালিয়ে যায়।
“ওসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন,”
সখিপুর থানার ওসি অস্থায়ীভাবে ঘটনার তথ্য সাংবাদিকদের জানান এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন টিম কাজ করছে।
আইনি ব্যবস্থা ও পরিবারিক প্রতিক্রিয়া
ভুক্তভোগীর মা মঙ্গলবার সখিপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। অভিযোগে সরকারের সংবিধান এবং শিশুর অধিকার সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধি-নিষেধের লঙ্ঘন উল্লেখ রয়েছে। পরিবার জানায়, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্যদের কাছে বিচার চেয়েও তারা সন্তুষ্ট না হওয়ায় আইনগত পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এছাড়া মামলার এজাহারে পরিবারের দাবি, অভিযুক্তের পক্ষ থেকে তাদের উপর ভয় দেখানো হয়েছে—মামলা করলে কিশোরীকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার হুমকি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। এই অভিযোগও মামলা দাখিলের অংশ হিসেবে থানা ও আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে।
- তারিখ: দেখা ও বলাৎকারের অভিযোগ ২১ সেপ্টেম্বর
- মামলা করা হয়েছে: ২২ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে
- অভিযুক্ত: রাজু গাজী (২১), সুলতান গাজীর ছেলে
- পদক্ষেপ: পুলিশ গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে
স্থানীয় নিরাপত্তা ও ডিজিটাল পরিচয়ের ঝুঁকির প্রাসঙ্গিকতা
টিকটক ও অনলাইন চ্যাট প্ল্যাটফর্মে পরিচয় গড়ে ওঠা সম্পর্ক নিয়ে এই ধরনের ঘটনা গত বছরগুলোতে বেড়েই চলেছে। বিশেষত কিশোর-কিশোরীরা অনলাইনে প্রতারণা, লোভ-প্রলোভন বা জোরপূর্বক অপহরণের শিকার হতে পারেন—এ প্রসঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে সতর্কতা বাড়ানো জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন।
স্থানীয় সমাজিক নেতারা জানান, অনলাইনে মিথ্যা পরিচয়ের কারণে তরুণদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে এবং অভিভাবকদের সন্তানের ডিজিটাল যোগাযোগ সম্পর্কে খোলাখুলি আলাপ করা উচিত। এছাড়া পুলিশকেও অনলাইন পরিচয় থেকে মিথ্যা সম্পর্ক চিহ্নিত করার জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও টেকনিক্যাল সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে—এমন কথা স্থানীয়দের মন্তব্যে উঠে এসেছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযুক্ত | রাজু গাজী (২১) |
| ভুক্তভোগীর বয়স | ১৪ বছর |
| প্রথম দেখা | ২১ সেপ্টেম্বর, ডিঙ্গামানিক গোলার মাঠ |
| মামলা দায়ের | ২২ সেপ্টেম্বর, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল |
বর্তমানে পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করে দ্রুত কারও বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ নেয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণ এই ধরনের ঘটনায় সতর্ক ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করলে অপরাধ শনাক্ত ও প্রতিরোধে সহায়ক হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করা হয়।
এই ঘটনার পর কিশোরীর পরিবার, স্থানীয় নেতারা ও পুলিশ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও সুরক্ষা নিশ্চিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে; অপরদিকে অনলাইন পরিচয়ে সৃষ্ট সম্পর্ক ও কিশোরদের নিরাপত্তা বিষয়ে আলোর প্রয়োজনীয়তাও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।