শরীয়তপুর সদর উপজেলার উত্তর বালুচর গ্রামের এক মন্দির থেকে সোমবার সকালে চারটি পিতলের মূর্তি চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, চুরির শিকার মূর্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্গা, গণেশ, লক্ষ্মী ও ভগবানের মূর্তি।
ঘটনাস্থল ও পাবলিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর বালুচর গ্রামের অশোক কুমার দের বাড়ির মন্দিরে—স্থানীয়রা সন্ধ্যায় মন্দিরে গিয়ে মূর্তিগুলো না পেয়ে পুলিশকে জানায়। পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম ঘটনার খবর নিশ্চিত করলেও তিনি জানান, এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশ বেলাগুলো বের করে পরিদর্শন করেছে এবং মূর্তিগুলো উদ্ধারে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
প্রাথমিক অনুসন্ধান ও সিসিটিভি ফুটেজ
মন্দিরে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে একজন যুবক লাল গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় ভিতরে ঢুকে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। পুলিশ সেই ফুটেজের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও বাড়ির মালিকের বর্ণনায় মন্দিরের দরজায় কোনো তালা ছিল না।
“সকালে আমরা সবাই কাজে চলে যাই। বাড়িতে কেউ ছিল না। বিকালে বাড়ি ফিরে পূজা দিতে মন্দিরে গিয়ে দেখি, ভেতরে রাখা চারটি পিতলের মূর্তি নেই। সন্ধ্যায় বিষয়টি থানায় জানাই।” — অশোক কুমার দে
বিস্তারিত তথ্য
এ ঘটনায় পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে—ওসি শাহ আলম জানান, মূর্তিগুলো উদ্ধারে পুলিশের টেকনিক্যাল এবং মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান চলছে। বর্তমানে হাতে থাকা তথ্যের মধ্যে কেবল সিসিটিভি ফুটেজ ও বাড়ির লোকদের বর্ণনা; কিন্তু আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি শুরু হয়নি।
| ঘটনার স্থান | তারিখ | চুরি হওয়া মূর্তি |
|---|---|---|
| উত্তর বালুচর, অশোক কুমার দের বাড়ি | সোমবার সকালে (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) | দুর্গা, গণেশ, লক্ষ্মী, ভগবানের মূর্তি |
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও নিরাপত্তা বিষয়ে ভাবনা
গ্রামের মানুষ এই ধরনের ঘটনা থেকে উদ্বিগ্ন। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা না হওয়া, দরজায় তালা না থাকা এবং সন্ধ্যার পর মন্দিরে কোনো কর্মচারী বা মণ্ডলীর উপস্থিতি না থাকার তত্ত্বগুলো স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
- সিসিটিভি ফুটেজ তদন্তের মূল সূত্র হিসেবে কাজ করছে।
- লিখিত অভিযোগ এখনও দায়ের না হওয়ায় আইনি কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে।
- পুলিশ মূর্তিগুলো উদ্ধারে মাঠ পর্যায়ে তল্লাশি চালাচ্ছে।
প্রয়োজনে কিভাবে এগোবেন
মন্দির মালিক ও এলাকাবাসীকে পরামর্শ হচ্ছে—প্রতিষ্ঠানীয় মালামাল চুরি হলে দ্রুত লিখিত অভিযোগ (এফআইআর/জিডি) দেওয়া এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণাদি পুলিশকে হস্তান্তর করা। স্থানীয় প্রশাসন ও থানার সঙ্গে সমন্বয় করে মন্দিরের নির্ধারিত সময়ে দায়িত্বশীল ও স্বেচ্ছাসেবক রাখলেই ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি কমানো সম্ভব।
অপেক্ষা ও আগামী পদক্ষেপ
ওসি শাহ আলম মূর্তিগুলো উদ্ধারে কাজ চালানো হচ্ছে বলে জানালেও তদন্তের গতিবেগ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে—প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের উপর। যেহেতু ঘটনাস্থলে তালা ছিল না, পুলিশ পেশাদার সাইবার ও ফিজিক্যাল অনুসন্ধান করে অভিযুক্ত শনাক্তের চেষ্টা চালাবে এবং প্রয়োজনে গ্রেপ্তারী পরোক্ষ নোটিশ জারি করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে ধর্মীয় প্রত্নসম্পত্তি ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের রক্ষায় সুসংগঠিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা পুনরায়浮িয়ে এসেছে—স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজ যৌথভাবে বিষয়টি ইউথেরন করতে হবে বলে মনে করেন এলাকার কয়েকজন চেনা মুখ।