শরীয়তপুর সদর — চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের অভ্যুত্থান দেখা দিয়েছে। ইউনিয়নের ১৩ সদস্যের মধ্যে ১০ জন সদস্য ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মেরাজ-এর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, চেয়ারম্যান দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও স্থানীয় সেবা প্রদানে নিয়মভঙ্গ, স্বেচ্ছাচারিতা ও সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় না করার ঘটনা ঘটছে।
উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা ও প্রতিক্রিয়া
যদিও ঘটনা ঘিরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ বেশ ক্ষুব্ধ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন বলেছেন অভিযোগগুলো যাচাই করে আইনানুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মূলত অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হলে প্রশাসন আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে—এমনটাই বোঝানো হয়েছে।
কী অভিযোগ বলা হয়েছে?
ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সদস্য দাবি করেন, চেয়ারম্যানের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ফলে পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে সদস্যদের অবহিত করা হচ্ছে না। তাদের ভাষ্যে, টিউবওয়েল ও বয়স্ক ভাতা প্রদানসহ অন্যান্য নাগরিক সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে এবং টাকা নেওয়া হলেও সেবা না দিয়ে সময়ক্ষেপণ বা হয়রানি করা হচ্ছে। অভিযোগকারীরা বলেন, টাকা ফেরত চাওয়ার পরও তা ফেরত দেওয়া হয়নি, ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং কিছুজন স্থানীয় বাসিন্দা কয়েকদিন আগে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঝাড়ুমিছিলও করেছে।
“ইউনিয়ন পরিষদে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ এলে চেয়ারম্যান আমাদের অবগত করেন না। এমনকি নাগরিকদের বয়স্ক ভাতা, টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার কথা বলে নগদ টাকা নেওয়া হলেও সেবা না দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। টাকা ফেরত চাইলে সেটিও ফেরত দেওয়া হয় না। এ কারণে এলাকাবাসী কিছুদিন আগে তার বিরুদ্ধে ঝাড়ুমিছিল করেছে। তার এ ধরনের কার্যক্রমের কারণে আমরা তাকে চেয়ারম্যানের পদে দেখতে চাই না। এজন্য আমরা ১০ জন ইউপি সদস্য তার বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছি।”
“তিনি আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় না করে একা একা কাজ করেন। কোনো বিষয়েই আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেন না। যেহেতু তিনি পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় না করেই কাজ করছেন, তাই আমরা ইউনিয়ন পরিষদের ১০ জন সদস্য তার বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছি।”
উপরের দুটি উদ্ধৃতি ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর প্যানেল সদস্য কামরুজ্জামান ও সংরক্ষিত নারী সদস্য সিজিয়া বেগমের। তারা সরাসরি বলেন, পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত না নিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সমস্যা বাড়ছে এবং এর প্রতিবাদ হিসাবেই অনাস্থা প্রস্তাব লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
পরিস্থিতির সত্ত্যতা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া
সূত্রে বলা হয়েছে, চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পর থেকে কার্যকরী কর্তৃপক্ষ হিসেবে ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মেরাজ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পরিষদের সদস্যরা দাবি করেছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তারা চেয়ারম্যানের সঙ্গে কাজের সমন্বয়হীনতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধারা পরিবর্তন লক্ষ করেছেন।
নিচে ইউপির প্রাসঙ্গিক তথ্য সংক্ষেপে আপনার সুবিধার জন্য দেওয়া হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সংখ্যা | ১৩ জন |
| অনাস্থা প্রদানকারী সদস্য | ১০ জন |
| চেয়ারম্যান অনুপস্থিতি | আব্দুস সালাম খান—যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান (৫ আগস্ট, ২০২৪ থেকে) |
- স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ইতিমধ্যেই নির্বাহী কর্মকর্তার দফতরের সামনে ঝাড়ুমিছিল করে বৈরিতা প্রকাশ করেছেন।
- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগ যাচাই করে আইনি ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
- ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন ঘটনাটি একটি ষড়যন্ত্র—তবে তার মন্তব্য পুরোপুরি প্রকাশিত হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন কীভাবে এগোবে এবং অভিযোগের তদন্তে ঠিক কোন ধরনের ধারা গ্রহণ করা হবে, তা উপজেলা প্রশাসনের যাচাই শেষে স্পষ্ট হবে। অনাস্থা প্রস্তাবটি গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ইউনিয়ন পরিষদের কাজকর্মে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন ঘটতে পারে, বিশেষত স্থানীয় সেবা প্রদানের অংশে।
বিশেষভাবে লক্ষ্যনীয় যে, স্থানীয় স্তরে পরিষদের সদস্যদের মধ্যে মতভেদ ও প্রশাসনিক অনৈক্যতা সরাসরি সাধারণ মানুষের সেবা প্রাপ্তিকে প্রভাবিত করে। তাই এই ঘটনার তদন্ত ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ স্থানীয় জনগণের আস্থা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।