ভাঙ্গা (ফরিদপুর) — ভাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিস গত এক বছরে মোট ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি রাজস্ব সংগ্রহ করেছে, অফিস সূত্রে জানা গেছে। সাধারণ দাবি, সরকারি সংস্কার, লিজমানি ও বিভিন্ন নামজারি-ইজারা আয় মিলিয়ে এ আয় হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজস্বের প্রধান উৎস ও পরিমাণ
ভূমি অফিসের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী সাধারণ দাবি হিসেবে ১ কোটি ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৫২৩ টাকা ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা হয়েছে — এটি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ আদায় হিসেবে বিবেচিত। সরকারি সংস্কার নামে পৃথকভাবে ৮২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৪৫ টাকা আদায় করা হয়েছে, যা এ পর্যন্ত গৃহীত সর্বোচ্চ রেকর্ড বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
| রাজস্ব শিরোনাম | আদায় (টাকা) |
|---|---|
| সাধারণ দাবি (ভূমি উন্নয়ন কর) | ১,০৩,৪৯,৫২৩ |
| সরকারি সংস্কার ভূমি উন্নয়ন কর | ৮২,৩৭,৩৪৫ |
| অর্পিত সম্পত্তির লিজমানি | ১৫,৭৬,৪৯৮ |
| অনুমোদিত নামজারি | ৯৮,৯০,০০০ |
| অননুমোদিত বাতিল নামজারি | ২,৬৫,৬৫০ |
| হাট-বাজার একসনা বন্দোবস্ত | ৮,৭০,২৬৫ |
| জলমহাল ইজারা | ৭,৩৭,৬১২ |
নির্বাহী তৎপরতা ও মামলা—অফিসের দাবি
ভূমি সম্পর্কিত অনিয়ম রোধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানকে কেন্দ্র করে এই রাজস্ব অর্জনকে সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত ৩৯টি বিশেষ অভিযানে মোট ১৫৬টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব অভিযানের ফলে আদায়ী জরিমানার পরিমাণ ১৮ লাখ ৭৮ হাজার ৭০০ টাকা এবং বিভিন্ন অপরাধে ২০ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, ভূমি অফিস সূত্রে জানানো হয়েছে।
“স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত জনবান্ধব ভূমি সেবা প্রদানে আমাদের এই জোরদার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা ভূ-অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু রাজস্ব আদায়ই নয়, জনসাধারণের জটিলতা কমাতে সেবা সংক্রান্ত মিস কেসসমূহও নিষ্পত্তি করা হয়েছে। মোট ৩৭০টি বিবিধ বা মিস কেস সমাধান করে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি লাঘব করা হয়েছে বলে তথ্য আছে।
আইনি প্রক্রিয়া ও প্রতিবেদন প্রেরণ
চলমান আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্তে ভূমি অফিস বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় ৫৫০টি মামলার প্রতিবেদন, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ অনুসারে ৭৫টি মামলার প্রতিবেদন এবং অন্যান্য দেওয়ানি ও ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে।
- প্রচলিত নামজারি ও অনুমোদিত লেনদেনে রাজস্ব সংগ্রহে অগ্রগতি।
- অবৈধ কার্যকলাপ দমন ও আদালত পর্যায়ে উদ্যোগ বাড়ানো হয়েছে।
- সার্বিক সেবা প্রদানে মিস কেস নিষ্পত্তিতে লক্ষ্যযোগ্য কাজ হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জমিজমা সম্পর্কিত কয়েকজন নাগরিক বললেন, সেবা দ্রুত হলে কার্যত সুবিধা হবে; তবে প্রশাসনিক কার্যক্রমে পারদর্শিতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা প্রয়োজন। অপরদিকে জমিদারিত্ব বা ভূমি সম্বন্ধীয় দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ ও আদালত-কেস রয়েছে বলে উল্লেখ করেন কিছু ব্যক্তি, যেগুলি একপ্রান্তে রাজস্ব আদায় বাড়লেও সমাধান করা না হলে ফিরে আসতে পারে।
ভূমি অফিসের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রাজস্ব বৃদ্ধিতে ডিজিটালেকরণ ও নিয়মিত গণশুনানির ভূমিকা রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত গণশুনানির মাধ্যমে সরাসরি অভিযোগ নেয়ার ফলে সমস্যা চিহ্নিত ও তাৎক্ষণিক সমাধান সহজ হয়েছে—এটি স্থানীয়রা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
এ বিষয়ে আরও মন্তব্য চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাদরুল আলম বলেন, আদালতীয় ও প্রশাসনিক পথে অনিয়ম প্রতিহত করে সাধারণ মানুষের করদায়িতার সঠিক আদায়ে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় অর্থনৈতিক সুস্থতা ও সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ভাঙ্গার ভূমি অফিসের এই ফলাফলকে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর সেবা ও পরিবেশগত দিক থেকে ভূমির সুশাসনের একটি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে নামজারি ও সম্পত্তি বিরোধ নিষ্পত্তি এবং নিষ্পাপ নাগরিক সেবার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করাই মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে যাচ্ছে।