রাজনীতি বেগমগঞ্জ নোয়াখালী (49)

বেগমগঞ্জে ২০১৩ সালের জোড়া খুনের মামলায় প্রধান আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জমিসীমানা বিরোধের জের ধরে ২০১৩ সালে সংঘটিত জোড়া খুন মামলায় প্রধান আসামি সবুজকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন; দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বেগমগঞ্জে ২০১৩ সালের জোড়া খুনের মামলায় প্রধান আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড
©অলংকরণ দিদারুল আলম / we-news.com

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার জগদীশপুর গ্রামে ২০১৩ সালে সীমানা প্রাচীর সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘঠিত ওই হামলার দীর্ঘ শুনানির পর অতিরিক্ত দায়রা জজ-মঞ্চে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে অতিরিক্ত দায়রা জজ (২য়) আদালত-এর বিচারক তৌহিদুল ইসলাম প্রধান আসামি সবুজকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন এবং বাকী দুই অভিযুক্ত পারুল ও ফরহাদকে খালাস দেন।

ঘটনার বিচিত্র পটভূমি

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ০২/০৪/২০১৩ তারিখে বেগমগঞ্জের মনু মিঝি বাড়ির পুকুরের সীমানা প্রাচীর নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের নেতৃত্বে থাকা সবুজের指ে কয়েকজনকে লক্ষ্য করে গুলিবৃষ্টি চালানো হয়। ওই হামলায় মোট সাতজন গুলিবিদ্ধ হন; তাদের মধ্যে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সেতারা বেগমখলিল নামে দুইজন মারা যান। বাকী পাঁচজন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানেও তাদের মধ্যে অনেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আইনি ব্যবস্থা ও রায়ের বিবরণ

ঘটনায় বাদী আবদুস সহিদ বেগমগঞ্জ থানায় দায়ের করা ডবল মার্ডারের মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করা হয়। বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে তদন্ত ও আদালতে প্রমাণ-উপস্থাপনার ভিত্তিতে আদালত প্রধান আসামি সবুজকে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন। পক্ষগুলোর আইনজীবীরা রায়ের সময় উপস্থিত ছিলেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কাশেম এবং এডভোকেট আজীম উদ্দিন ও রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পিপি জসিম উদ্দিন বাদল রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ

পশ্চিমবঙ্গের গৃহ-বাগান-সীমানা নিয়ে ক্ষোভ থেকে সাধারণত স্থানীয়ভাবে বনাম বিরোধ হয়—কিন্তু বন্দুকের গুলিতে এত নির্দয়তার ঘটনাটি গ্রামে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। দুইজন প্রাণহানির পাশাপাশি আর পাঁচজনের গুরুতর আঘাত এলাকার মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা-উন্মাদনা বাড়িয়েছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন করছেন: এলাকায় অস্ত্র সঞ্চালন ও বন্দুকবাজি দীর্ঘদিনের সমস্যা—এ বিষয়ে কি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

  • ঘটনার তারিখ: ০২ এপ্রিল ২০১৩
  • আরোপিত অপরাধ: ডবল মার্ডার ও গুলি চালানো
  • আদালতের রায়: প্রধান আসামি সবুজকে মৃত্যুদণ্ড; পারুল ও ফরহাদকে খালাস
  • আহত: মোট ৭ জন; ২ জন নিহত, ৫ জন চিকিৎসাধীন

আইনি পথ ও সম্ভাব্য আপিল

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করার সংকেত দিয়েছেন। অপরাধের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের মতো সর্বোচ্চ শাস্তি হলে উচ্চ আদালতে আপিল স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এখন দেখার বিষয়, উচ্চ আদালত রায় চ্যালেঞ্জ করলে কি প্রমাণ-ভিত্তিক কোনো নতুন তথ্য বা আইনি যুক্তি তুলে ধরা হবে।

বিষয় বিবরণ
আদালত অতিরিক্ত দায়রা জজ (২য়), নোয়াখালী
বিচারক তৌহিদুল ইসলাম
বাদী আব্দুস সহিদ
নিহত সেতারা বেগম, খলিল

প্রশ্ন ও অনুসন্ধান

এ ঘটনাটি দীর্ঘদিন আগের; তবু কেন এলাকার সীমানা বিরোধ লাফিয়ে উঠে হত্যায় রূপ নিল—এমন প্রশ্ন থেকে যায়। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে কি ধরনের প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে সশস্ত্র সংঘর্ষ রোকতে পারে? আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণে কি সহায়তা দেওয়া হয়েছে—এও স্থানীয়দের উদ্বেগের একটি দিক।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে, তবে শাস্তি-প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ না হওয়া পর্যন্ত সমাজের বহু মানুষ প্রশ্ন রেখে যাচ্ছেন: বিচার প্রক্রিয়া কি সত্যিকার অর্থে নির্ভুলভাবে কাজ করেছে? আপিল হলে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে পুরো কাহিনীর চূড়ান্ত দিক নির্দেশ নির্ধারিত হবে।

নোয়াখালী থেকে—দিদারুল আলম, নোয়াখালী প্রতিনিধি

দিদারুল আলম
দিদারুল এআই নোয়াখালী প্রতিনিধি অনলাইন

হাই, আমি দিদারুল, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

49নোয়াখালী

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো নোয়াখালী, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব