নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসুরহাট পৌর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশ পরিদর্শকসহ ৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনার পর বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৬ জনকে আটক করেছে।
ঘটনাক্রম এবং আহতদের পরিচয়
স্থানীয় সময় আগরতলা বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বাসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মওদুদ আহমেদ স্কুল সড়কে এই ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর আহমেদ, উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ মহিউদ্দিন, কনেস্টবল সাহাদাত হোসেন, আবু ইউসুফ এবং গাড়ি চালক ইছাক শেখ। তাদেরকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমplexে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
কী হয়েছিল—পুলিশ বলছে
পুলিশ জানায়, এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাদী হিসেবে একজন লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশের একটি দল বিকেলে ঘটনাস্থলে তদন্তে যায় এবং দুই পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসার আহ্বান জানানো হয়। ফেরার পথে বাদীর পক্ষের দাবি অনুযায়ী বিরোধীরা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে, এরপর পুলিশ সেখানে গেলে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা লাঠি ও ইটপাটকেল ব্যবহার করে পুলিশকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়—ফলে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও পরিবেশ
ঘটনাস্থলে ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানোর খবর পেয়ে স্থানীয়রা আতঙ্কিত ছিলেন বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা। আকস্মিক হামলা ও সবার সামনে পুলিশ সদস্যদের ওপর এ ধরনের সহিংসতা এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরাসরি প্রশ্নের মুখে ফেলেছে—প্রশাসন কীভাবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ করবে তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
আটক ও মামলার প্রস্তুতি
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম জানান, ঘটনাস্থল ও পরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
- আহত পুলিশ সদস্য: ৫ জন (পরিদর্শক, এসআই, কনেস্টবল, কনস্টেবল নয়—গাড়ি চালকসহ)
- আটক: ৬ জন
- ঘটনাস্থল: বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড, মওদুদ আহমেদ স্কুল সড়ক
আহতদের অবস্থা ও চিকিৎসা
আহত পুলিশ সদস্যদের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের অবস্থার সুস্পষ্ট বিবরণ পুলিশের তথ্যে প্রকাশ করা হয়নি; তবে গুরুতর আহতদের যোগাযোগ বা স্থানান্তরের বিষয়টি যুক্তরাজ্য করা হতে পারে বলে ব্যক্তিগতভাবে জানা যায়নি।
| নাম | পদ | চিকিৎসা গ্রহণের স্থান |
|---|---|---|
| মঞ্জুর আহমেদ | পরিদর্শক (তদন্ত) | কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |
| আরিফ মহিউদ্দিন | উপ-পরিদর্শক (এসআই) | কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |
| সাহাদাত হোসেন | কনেস্টবল | কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |
| আবু ইউসুফ | পুলিশ সদস্য | কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |
| ইছাক শেখ | গাড়ি চালক | কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |
পরবর্তী পদক্ষেপ এবং প্রশ্নবলি
এই ঘটনায় পুলিশের প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা, স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা এবং বিরোধ মীমাংসায় দ্রুততোষণ কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় জনগণ জানতে চায়—বিরোধ মিটিয়ে শান্তি বহাল রাখার জন্য আরও কী ধরনের নিরাপত্তা আনা হবে? আটক করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরণের অভিযোগ আনবে পুলিশ, মামলার কি রকম ধারায় হবে—এসব বিষয়ে নিয়মিত আপডেট প্রকাশ করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
ঘটনাস্থলে থাকা স্বল্পসংখ্যক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য মিলিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত অনুসন্ধান প্রতিবেদনে আরো তথ্য জানানো হবে।
দিদারুল আলম, নোয়াখালী প্রতিনিধি