নিবন্ধন ফি ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন দেড় হাজারের বেশি বিদ্যালয়ের প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষার্থী এবছর নবম শ্রেণির নিবন্ধন করেছে। বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. সাইফুর রহমান হাওলাদার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রতি শিক্ষার্থীর নিবন্ধন ফি ধার্য করা হয়েছে ৩৮৬ টাকা। এই পরিমাণ ফি নিয়ে বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষকমণ্ডলী ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।
ফি তুলনা ও অতিরিক্ত কাটা খাত
প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা ও বোর্ডগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে বরিশাল বোর্ডের ধার্যকৃত ফি বেশি। সূত্রে বলা হয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ফি ধার্য ছিল ১৯৬ টাকা এবং যশোর বোর্ডে ২১৬ টাকা। বরিশাল বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে চারটি খাতে বাড়তি ফি ধার্য করা হয়েছে—
- অন্ধকল্যাণ ফি: ৫ টাকা
- বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ তহবিল: ১০০ টাকা
- উন্নয়ন ফি: ৫০ টাকা
- ই-সার্ভিস ফি: ২৫ টাকা
উপরোক্তখাত যুক্ত থাকায় গণনায় বরিশাল বোর্ড ঢাকা বোর্ডের চেয়ে ১৯০ টাকা এবং যশোর বোর্ডের চেয়ে ১৭০ টাকা বেশি নেওয়া হয়েছে—সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এই অতিরিক্ত পার্থক্যের কারণে বলা হচ্ছে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোট মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে।
| বোর্ড | নিবন্ধন ফি (টাকা) | বরিশালের সঙ্গে পার্থক্য (টাকা) |
|---|---|---|
| বরিশাল | ৩৮৬ | — |
| ঢাকা | ১৯৬ | ১৯০ |
| যশোর | ২১৬ | ১৭০ |
শিক্ষক ও অভিভাবকের অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকজন প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, আন্তবোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব বোর্ডের নিবন্ধন ফি সমান হওয়া উচিত, কিন্তু বরিশাল বোর্ড অন্যান্য বোর্ডের তুলনায় বেশি ফি ধার্য করেছে। বাকেরগঞ্জ আলহাজ আ. মজিদ খান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন—
“অভিভাবকেরা অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কৈফিয়ত জানতে চেয়েছেন।”
শিক্ষক ও অভিভাবকরা বোর্ডের ভেতরের আর্থিক বরাদ্দ এবং অতিরিক্ত ফি কোথায় ব্যবহার করা হবে, সে সম্পর্কে তথ্য প্রকাশের দাবি করেছেন। কিছু শিক্ষকের অভিযোগ রয়েছে, কয়েক বছর ধরে বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অতিরিক্ত অর্থ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন।
বোর্ডের প্রতিক্রিয়া ও ব্যাখ্যা
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. সাইফুর রহমান হাওলাদার অনুরোধ করেছেন বিষয়টি প্রশাসন শাখা থেকে খতিয়ে দেখা হবে। তিনি স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ফি ধার্য করার কথা উল্লেখ করেছেন। এ নিয়ে কয়েকজন বোর্ড কর্মকর্তার প্রথমিক প্রতিক্র্যায় বলা হয়েছে—
“ফি নির্ধারণ করে প্রশাসন শাখা।”
আরও তথ্য জানতে চাইলে বোর্ডের নিবন্ধন শাখার ভারপ্রাপ্ত সেকশন অফিসার মো. এনামুল জানিয়েছেন, বোর্ডের অর্থ কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য বিদ্যালয় পরিদর্শককে দেখাতে বলেছেন। তবে শিক্ষা বোর্ড তাৎক্ষণিকভাবে মোট কত শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে, সে সংখ্যাটি নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি। বিদ্যালয় প্রধানরা গড়ে প্রতি বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৪০ জন করে শিক্ষার্থী নিবন্ধন হয়েছে বলেই সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী করণীয়
বরিশাল অঞ্চলে প্রায় দেড় হাজার বিদ্যালয়ের হাজার হাজার অভিভাবক ও শিক্ষার্থী এই ফি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি অনুভব করবেন। অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা অনেক পরিবারের জন্য উদ্বেগ তৈরি করতে পারে, বিশেষত নিম্ন আয়ের পরিবারে। স্থানীয় শিক্ষক সমিতির আমলাতান্ত্রিক ও নিরীক্ষণ ব্যবস্থার ওপরও এই ঘটনাটি প্রশ্ন তোলে।
অতএব বোর্ড কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুতভাবে ফি নির্ধারণের পদ্ধতি, অর্থের ব্যবহার ও অনুমোদন সূত্র প্রকাশ করা যাতে অভিভাবক ও শিক্ষকরা নিশ্চিত হতে পারেন যে আদায়কৃত অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করা হবে। শিক্ষা বিভাগের উচ্চতর কর্তৃপক্ষও যদি প্রয়োজন মনে করেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারে বলে স্থানীয়ভাবে দাবি উঠছে।