বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট পাসের হার হয়েছে ৬০.৩৫%—জানানো হয়েছে সোমবার সকাল ১০টায় বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে প্রকাশিত ফলাফলে। ফলাফল ঘোষণাটি করেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো: আবদুস সালাম; পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা।
মোট অংশগ্রহণ ও উত্তীর্ণের পরিসংখ্যান
ফলাফল অনুযায়ী, এবারের পরীক্ষায় মোট অংশগ্রহণ করেছেন ৮০,৪৫৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৩৭,৫৪৫ এবং ছাত্রী সংখ্যা ৪২,৯১৩। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন মোট ৪৮,৫৫৫ জন শিক্ষার্থী—যাদের মধ্যে ছাত্র ১৯,৯৫৫ এবং ছাত্রী ২৮,৬০০ জন।
উপসংহার হিসেবে দেখা যায়, পাসের হার ও শীর্ষমানের (জিপিএ-৫) অর্জনে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। এবারের জিপিএ-৫ পেয়েছেন মোট ২,৭৭৮ জন শিক্ষার্থী—গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে বলে বোর্ড রিপোর্টে উল্লেখ আছে।
জেলার পারফরম্যান্স
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ছয়টি জেলার মধ্যে পারফরম্যান্সে প্রথম স্থান সাংরক্ষণ করেছে পিরোজপুর জেলা। জেলার অনুকূলতা ও ফলের তুলনা নিম্নরূপ:
- পিরোজপুর: ৭০.৭২%
- বরগুনা: ৬২.৯১%
- বরিশাল: ৬১.৭২%
- ঝালকাঠি: ৫৮.০৩%
- পটুয়াখালী: ৫৭.১০%
- ভোলা: ৫৩.৭১%
পিরোজপুর ছাড়া বাকিদের পাস হার গত বছরের তুলনায় বেড়েছে; তবে ভোলা জেলায় সামান্য অনুন্নতি দেখা গেছে।
| বিষয় | সংখ্যা/হার |
|---|---|
| মোট পরীক্ষার্থী | ৮০,৪৫৮ |
| পাসকৃত | ৪৮,৫৫৫ |
| ছাত্র | ৩৭,৫৪৫ |
| ছাত্রী | ৪২,৯১৩ |
| জিপিএ-৫ | ২,৭৭৮ |
| পাসের হার | ৬০.৩৫% |
শতভাগ পাস ও শূন্য উত্তীর্ণ স্কুল
বোর্ড সূত্রে আরও জানা গেছে, মোট ১,৫১৫টি বিদ্যালয় এসএসসিতে অংশ নিয়েছিল; এদের মধ্যে ১৫টি বিদ্যালয়ের সব পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। গত বছরের সংখ্যাটি ছিল ১৭টি। এছাড়া উদ্বেগজনকভাবে একযোগে পাঁচটি বিদ্যালয়ে একটিও শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়নি—এই তথ্য স্থানীয়ভাবে শিক্ষা মান, পাঠদানের পদ্ধতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্লেষণ ও স্থানীয় প্রভাব
শিক্ষা কর্মী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামগ্রিক ফলাফলের পাশাপাশি পিছিয়ে থাকা বিদ্যালয়গুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। শতভাগ পাস পাওয়া বিদ্যালয়গুলোতে নিয়োজিত পাঠদান ও পাঠক্রম পরিচালনার পদ্ধতি, শ্রেণিকক্ষের অবস্থা ও শিক্ষকসমিতির কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা দরকার; একইভাবে শূন্য উত্তীর্ণ বিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা প্রস্তুতি, অনুপস্থিতি, শিক্ষক সংকট ও সহায়তা নিয়ে দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন।
স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকরা মনে করেন, ফলাফল শুধুই একটি প্রতিফলন; তবে শিক্ষা বোর্ড ও জেলা শিক্ষা অফিস দ্রুত ঘরোয়া ও বিস্তৃত সমীক্ষার মাধ্যমে দুর্বলতা চিহ্নিত করলে পরবর্তী বছরের প্রস্তুতি ও সুশৃঙ্খল পাঠদান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বোর্ড জানিয়েছে, ফলের বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন পরবর্তীতে ছাড়াও জেলা ভিত্তিক সভা এবং স্কুল পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে—এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা কী হবে, তার চূড়ান্ত নির্দেশনা বোর্ডের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের এবারের ফল স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও শিক্ষক মহলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে—একদিকে পাসের হার বাড়ায় স্বস্তি, অন্যদিকে জিপিএ-৫ কমে যাওয়া ও কিছু স্কুলে শূন্য উত্তীর্ণ হওয়া উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বরিশাল থেকে মনিরুজ্জামান খান, বরিশাল প্রতিনিধি