পরীক্ষা ফল প্রকাশের পর বোর্ডের বরাত
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ১৫টি বিদ্যালয়ে শতভাগ পাসের পাশাপাশি ৫টি বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া একটাও শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি—এ তথ্য চালু ফলনের প্রেক্ষিতে বোর্ড কর্তৃপক্ষ আজ (সোমবার) নিশ্চিত করেছেন।
বরিশাল বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা এই তথ্য জানান। এ সময় বোর্ডের সচিব অধ্যাপক আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন। বোর্ড সূত্রে জানানো হয়, বোর্ডের অধীনে মোট ১,৫১৫টি বিদ্যালয় রয়েছে। এসবের মধ্যে ১৫টি বিদ্যালয়ের সব পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হয়েছে। আবার ৫৫৬টি বিদ্যালয়ে পাসের হার ছিল ৫০ শতাংশের নিচে, আর ৯৩৯টি বিদ্যালয়ে পাসের হার ছিল ৫০ শতাংশের বেশি।
শতভাগ পাসকারী ও একেবারে জিরো পাসের তালিকা
শতভাগ পাসকারী বিদ্যালয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক—সাতটি—আছে বরিশাল জেলায়। এছাড়া পিরোজপুরে তিনটি, বরগুণায় দুইটি, ভোলায় দুইটি ও ঝালকাঠিতে একটি বিদ্যালয় শতভাগ সফলতা পেয়েছে। অন্যদিকে পাস না হওয়া পাঁচটি বিদ্যালয়ের মধ্যে জেলা অনুযায়ী রয়েছে—বরিশাল জেলা থেকে দুইটি, ঝালকাঠি থেকে দুইটি ও পিরোজপুর থেকে একটি।
| জেলা | শতভাগ পাসকারী বিদ্যালয় | একটাও পাস না হওয়া বিদ্যালয় |
|---|---|---|
| বরিশাল | ৭ | ২ |
| পিরোজপুর | ৩ | ১ |
| বরগুনা | ২ | — |
| ভোলা | ২ | — |
| ঝালকাঠি | ১ | ২ |
পাস না হওয়া বিদ্যালয় ও পরীক্ষার্থী সংখ্যা
বোর্ড থেকে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, পাস না হওয়ার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি তথ্য নিম্নরূপ—
- ঝালকাঠি জেলা সদর: সাওরাকাঠি নব আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়—এখান থেকে ৭ জন পরীক্ষা দিয়েছেন; সকলেই অনুতীর্ণ।
- ঝালকাঠি, কাঠালিয়া উপজেলা: বানাই রাবেয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়—এখান থেকে ৬ জন অংশ নেন; কেউ পাস করেননি।
- পিরোজপুর জেলা সদর: পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়—এখানে অংশ নেয়া ৮ জনের কেউ পাস করেনি।
- বরিশাল, বাকেরগঞ্জ উপজেলা: কেরামত গায়জাউদ্দীন নূরমোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়—এখানে ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন; সবাই ফেল করেন।
- বরিশাল, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা: পশ্চিম রতনপুর পঙ্কজ দেবনাথ উচ্চ বিদ্যালয়—এখানে অংশ নেয়া ৭ জনের কেউ উত্তীর্ণ হননি।
বিশ্লেষণ ও স্থানীয় প্রভাব
কিছু বিদ্যালয়ে শতভাগ পাসি থাকা এবং একই সঙ্গে কিছু বিদ্যালয়ে একটিও সফল না হওয়া—এই বিভাজন শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে বৈষম্য ও প্রস্তুতির বিভিন্ন মাত্রাকে তুলে ধরে। যে বিদ্যালয়গুলোতে একটিও পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেখানে পাঠদানের মান, বিভাগীয় পর্যবেক্ষণ, শিক্ষকমণ্ডলীর সহজলভ্যতা, এবং ছাত্রছাত্রীদের সামাজিক-অর্থনৈতিক সহায়ক পরিবেশ যাচাই করা জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বোর্ড প্রশাসন মেলামেশা ও ফলাফলের বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করে প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা বলেন, বোর্ড ভবিষ্যতে শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রণোদনা ও সাপোর্ট বাড়াতে কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
অগ্রগতি ও করণীয়
নিরীক্ষা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠ্য পরিকল্পনা এবং স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধিই সমস্যার টেকসই সমাধান। বোর্ড পর্যায়ে বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চালু না করলে অনেকে অভাবজনিত কারণে শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। স্থানীয় সমাজ, অভিভাবক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি মিলিয়ে এগুলো কার্যকরী করা প্রয়োজন।
ফলাফল ঘিরে বোর্ডের পরবর্তী পদক্ষেপ ও দুর্বল বিদ্যালয়গুলোর জন্য কি ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে—তার বিস্তারিত ঘোষণা এখনও পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ফলাফলগুলো বিশ্লেষণ করে এলাকায় নির্দিষ্ট সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করা যায়।
এই প্রতিবেদনে ব্যবহার হওয়া সকল তথ্য সরাসরি বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষানিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে সংগৃহীত।