বান্দরবান জেলা শহরের প্রধান সড়ক ও ফুটপাত থেকে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট ও হকারদের সামগ্রী সরিয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে বান্দরবান পৌরসভা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ট্রাফিক মোড় থেকে বান্দরবান বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের লক্ষ্য ও পরিধি
উচ্ছেদ কাজে অংশ নেয় পৌরসভার নির্বাহী ও কর্মীবৃন্দ; অভিযান পরিচালনা করা হয় শহরের ট্রাফিক মোড়, প্রধান বাজার এলাকা ও রাস্তার দুপাশের ফুটপাত জুড়ে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকান ও ভাসমান হকারদের বিরুদ্ধে। অভিযানের সময় সড়কের দুপাশের ফুটপাত দখল করে রাখা সামান্য ছাউনিসহ সব ধরনের মালামাল সরিয়ে ফেলা হয়।
পৌর প্রশাসনের মন্তব্য
“সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারী হকার ও দোকানদারদের সতর্ক করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সতর্ক করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে একইভাবে ফুটপাত দখল করে রাখলে পৌরসভার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
— এস এম মনজুরুল হক, প্রশাসক, বান্দরবান পৌরসভা
পৌরসভার প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক জানান, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত অবরুদ্ধ থাকায় পথচারীরা দুর্ভোগ পেতেন এবং যানজট বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। তাই এই অভিযানের মাধ্যমে পথচারীর চলাচল সহজ করা এবং যানজট কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযানের সময়ে করা কার্যক্রম
- ফুটপাত জুড়ে থাকা অস্থায়ী দোকান ও ছাউনিসহ সকল মালামাল সরানো।
- ভাসমান হকারদের স্থানান্তর ও সতর্কীকরণ।
- স্থায়ী দোকানদারদের কাছে ইতিমধ্যে ফুটপাত দখল না করার বিষয়ে সতর্কবার্তা প্রদান।
- ভবিষ্যতে নিয়ম ভঙ্গ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশঙ্কা জানানো।
অভিযানের ফলে স্থানীয়রা আশা করছেন যে রাস্তাঘাটের চলাচলও সহজ হবে এবং সকাল ও বিকেলে নিয়মিত ঘটে যাওয়া যানজটও কিছুটা কমবে। তবে কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক-কর্মচারীরা ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন—তারা বলছেন এই স্থলচ্যুতির ফলে তাদের ব্যবসায়িক আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে।
লোকাল উপজেলা ও বাজার পরিস্থিতি
বান্দরবানের বাজার এলাকাকে শহরের প্রাণকেন্দ্র বলা হয়—এখানে প্রতিদিন হাজারো পথচারী ও যানবাহন চলাচল করে। ফুটপাত দখল নিয়ে পূর্বেও অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন—বিশেষত প্রবগতি সময়টিতে পথচারীরা রাস্তার ফাঁক দিয়ে চলতে বাধ্য হন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। পৌরসভার বর্তমান সিদ্ধান্তকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, তবে কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বজায় রাখতে পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে বলে সংগঠিত মতামত রয়েছে।
| অবস্থান | কর্তব্যসংক্রান্ত কার্যক্রম |
|---|---|
| ট্রাফিক মোড় | অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদ, সামগ্রী সরানো |
| বান্দরবান বাজার | ভাসমান হকারদের সতর্ক করা, স্থানান্তরের নির্দেশ |
| প্রধান সড়ক | ফুটপাত অবরোধকারী মালামাল উদ্ধার |
পৌরসভার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রথম পর্যায়ে মূলত সতর্কতা ও মালামাল সরানোর কাজ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে একই কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে আইন অনুসারে কড়া ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয় একটি ব্যবসায়ী জানান—নাম প্রকাশ না করার শর্তে—একপর্যায়ে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান তাদের আচমকা আঘাত করবে, কারণ বিকল্প ভাড়া বিশ্লেষণ ছাড়াই তাদের সরিয়ে ফেলা হলে রুটিন জীবনে ব্যাঘাত হবে। অন্যদিকে পথচারীরা বলছেন, ফুটপাত মুক্ত হলে বয়স্ক ও শিশুদের জন্য চলাচল নিরাপদ হবে।
ফুটপাত উচ্ছেদের এই উদ্যোগ শহরবাসীর দৈনন্দিন চলাচল ও যানজট নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর হবে তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে। ততক্ষণে পৌরসভা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় ও বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথাবার্তা চলতেই থাকবে।
বান্দরবান থেকে