পটিয়া থেকে ছিনতাই হওয়া মালামালের সূত্রে লামায় অভিযান
চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে ছিনতাই হওয়া চিনিযুক্ত একটি কাভার্ডভ্যানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের চাম্বি মফিজ বাজারে যৌথ পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৪৪ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানটি বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পরিচালনা করা হয়।
ওই কাভার্ডভ্যানে থাকা মোট চিনির একটি চালান মেঘনা সুগার মিল থেকে পাঠানো হয়েছিল; সূত্রে বলা হয়, ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের জন্য মোট ২৮ টন চিনি ছিল। ঘটনার পর এক চালককে ভোরে পটিয়া-কক্সবাজার মহাসড়কের মনসা বাদামতল এলাকায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়; তিনি পরে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। চালকের অভিযোগ ছিল যে তাকে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করা হয়েছিল।
পুলিশের বক্তব্য ও উদ্ধারকৃত মালামালের পরিমাণ
আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আজিজনগর বাজারের কয়েকটি দোকানে যৌথ অভিযান চালিয়ে ১৪৪ বস্তা ছিনতাই হওয়া চিনি উদ্ধার করা হয়েছে।
“সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আজিজনগর বাজারের কয়েকটি দোকানে যৌথ অভিযান চালিয়ে ১৪৪ বস্তা ছিনতাই হওয়া চিনি উদ্ধার করা হয়েছে।”
পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক জানান, অভিযান ও তদন্ত এখনও চলছে। তার কথায়,
“আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। আপাতত বান্দরবান থেকে কিছু চিনি উদ্ধার করা গেছে। বাকি চিনিও উদ্ধারে কাজ চলছে।”
ঘটনার পটভূমি ও আর্থিক মূল্যায়ন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেঘনা সুগার মিল থেকে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের মালামাল হিসেবে পাঠানোটি ছিল। ট্রাকে থাকা মালের মধ্যে প্রথমে একটি অংশ খালাস করা হয় এবং বাকি অংশ কক্সবাজার-পটিয়া রুটে যাওয়ার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ। আর্থিকভাবে উদ্ধারকৃত চিনির আনুমানিক মূল্য ও গাড়ির মূল্য সম্পর্কেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে।
| বিবরণ | পরিমাণ / মূল্য |
|---|---|
| মোট চিনির ওজন (প্রেরিত) | ২৮ টন |
| আক্রমণে উদ্ধারকৃত চিনি | ১৪৪ বস্তা |
| চিনির আনুমানিক মূল্য | প্রায় ১৬ লাখ টাকা |
| গাড়ির আনুমানিক মূল্য | প্রায় ৪০ লাখ টাকা |
স্থানীয় প্রভাব ও তদন্ত অবস্থা
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ছিনতাই-রকম ঘটনার খবর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। বান্দরবানের লামা উপজেলায় বাজার ও প্রধান সড়কে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হলেও প্রতিদিন চলার মতো দামি চালান-সম্বলিত যানবাহন রাত্রে অথবা নির্দিষ্ট লোকলজ্জার সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়ে যাচ্ছে।
- পুলিশ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং বাকি লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
- চালকের অসুস্থতার পেছনে কী কারণে ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়েছে—তার বৈজ্ঞানিক তদন্ত ও মেডিক্যাল রিপোর্ট হাতে আসার পরই স্পষ্ট ধারনা পাওয়া যাবে।
- জরুরি সময়ে পরিবহনকারীদের নিরাপত্তা জোরদার ও রুট মনিটরিং বাড়ানোর দাবি উঠছে।
প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে যাওয়া সময়ে উদ্ধারকৃত মালামাল হস্তান্তর বা মামলার বিস্তারিত ধারা নিয়ে পুলিশ থেকে আরও তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বাকি পরিমাণ চিনিও উদ্ধারে তারা কাজ করছে।
বান্দরবান অঞ্চলের সড়কপথে বেড়ে ওঠা মালবাহী চলাচল ও সম্প্রতি নজরে পড়া ছিনতাইয়ের এই ধরনের ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবহন মালিকদের মধ্যে সমন্বয় জরুরি মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
রিপোর্টার: বান্দরবান প্রতিনিধি, WE NEWS