টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্বে থাকা কাজী ফাত্তাউর রহমান-কে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলা-তে বদলি করা হয়েছে। বদলির এই আদেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
অভিযোগ ও বদলি সম্পর্কিত অফিস আদেশ
এলজিইডির এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ওই প্রকৌশলীকে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর-ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। আদেশে উল্লেখ আছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ওই দিন থেকেই তিনি ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ হিসেবে গণ্য হবেন।
অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, রোয়াংছড়ি উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ উপজেলা প্রকৌশলী (জাতীয় বেতন স্কেলের ষষ্ঠ গ্রেড) যোগদান না করা পর্যন্ত তিনি আর্থিক ক্ষমতাসহ ওই পদে দায়িত্ব পালন করবেন। আদেশে বদলির সরাসরি কারণ হিসেবে সেতু নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ উল্লিখিত হয়েছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
অভিযোগ ওঠার পর সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে বদলি করে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ক্ষমতাসহ দায়িত্ব দেওয়ায় স্থানীয় মানুষ ও বাড়তি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রোয়াংছড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন পর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সূত্রপাত হয়েছে।
- অনেকে প্রশ্ন করছেন—গুরুতর অনিয়ম অভিযোগ হলে কেন তদন্ত করে দায় নির্ধারণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো না?
- কিছু জনের বক্তব্য, শুধু বদলি করে দিয়ে অনিয়মের জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হবে যদি অনুপযুক্ত তদন্ত না করা হয়।
- নতুন কর্মস্থলে যোগদানের আগেই ওই প্রকৌশলীকে ঘিরে রোয়াংছড়িতেও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে জানানো হয়েছে।
প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট ও প্রশ্ন
সরকারি প্রকল্পে উপাদানের মান ও নির্মাণের অদৃশ্যতা স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সেতু নির্মাণের মতো কাজে যদি কাঠামোগত উপাদানে অনিয়ম ঘটে, তা এলাকার মানুষের রোজগার, চলাচল ও নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে। এই প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত প্রকৌশলীকে আর্থিক ক্ষমতাসহ দায়িত্ব দেয়া হলে তা বিস্তর প্রশ্নের সৃষ্টি করে।
| ঘটনা | তারিখ/তথ্য |
|---|---|
| অফিস আদেশ জারি | বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর (এলজিইডি আদেশ অনুযায়ী) |
| নতুন কর্মস্থলে যোগদানের শেষ তারিখ | ২৭ সেপ্টেম্বর |
| দায়িত্ব | রোয়াংছড়ি উপজেলা — আর্থিক ক্ষমতাসহ (পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশলী না আসা পর্যন্ত) |
একজন অভিযুক্ত প্রকৌশলীর অবস্থান
অফিস আদেশ অনুযায়ী, বদলির সঙ্গে তিনি উপজেলা প্রকৌশলীর সবেতন চলতি দায়িত্ব পালন করবেন এবং পূর্ণাঙ্গ কোনো প্রকৌশলী যোগদান না করা পর্যন্ত ওই দায়িত্ব বহাল থাকবে। আদেশে বদলির কারণ হিসেবে যে অভিযোগটি তুলে ধরা হয়েছে, সেটি—সেতু নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করা।
স্থানীয়রা বলছেন, এমন গুরুতর অভিযোগে তদন্ত ও দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। শুধু বদলি করে দিয়ে দায়-দায়িত্ব থাকা ব্যক্তিকে আর্থিক ক্ষমতাসহ নতুন জায়গায় দায়িত্বরত করে দিলে তা যথাযথ জবাবদিহি ও প্রতিরোধ নীতির পরিপন্থী হতে পারে।
পেশাগত ও সামাজিক প্রভাব
সরকারি প্রকৌশল কর্মের বিরুদ্ধে অভিযোগ সর্বদা স্থানীয় বিশ্বাস ও প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। রোয়াংছড়ি ও আশপাশের এলাকায় একটি সেতু হয়নি বা দুর্বল হলে জনপরিবহন, কৃষি পণ্যের বাজারজাতকরণ ও জরুরি সেবায় বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য নির্মাণমান ও তদারকি নিয়ে চাপ বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে এলজিইডি বা সংশ্লিষ্ট উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অভিযোগের তদন্ত কতটা করা হবে এবং কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এই বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বদলি আদেশের ফলে স্থানীয় স্তরে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, সেগুলো রোধে কতটা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি তৈরী করা যায়, সেটিই এখন প্রধান চাহিদা।
ঘটনা ও আদেশের কপি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা যাচ্ছে, যাতে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তাদের ভূমিকা ও ক্ষমতা পুনর্মূল্যায়ন করা সম্ভব হয় এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।