বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক এলাকায় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চার বছরের এক শিশুর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে। পরিবারের সদস্যরা ওই শিশুকে সন্ধান না পেয়ে থানায় নিখোঁজ ডায়রি করলে পরে বাড়ির আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে শিশুটিকে একই এলাকার বাড়ির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনায় ওই শিশুর আপন ফুফু নারগিছ সুলতানা কচি (৫২) কে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনার সারমর্ম ও পুলিশের দাবি
নিহত শিশুর নাম তাইফা সুলতানা, স্থানীয় বাসিন্দা টিপু খানের কন্যা। ঘটনার বাড়ি ময়দার মিল এলাকায়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে থেকেই শিশুটি পরিবারের কাছে দেখায়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে কোনো ফল না পেয়ে বান্দরবান সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়।
পরবর্তী সময়ে পরিবারের লোকজন সিসিটিভি চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তাইফা ওই এলাকার নারগিষ সুলতানার বাড়িতে ঢোকছে। পরে ওই ঘরে শিশুটির নিথর দেহ দেখতে পায় পরিবার। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্ত নারীকে গ্রেফতার করে।
আটক এবং স্বীকারোক্তি
বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ পারভেজ ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে অনির্দিষ্টকালের গ্রহণযোগ্য আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত চলমান আছে জানিয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত কয়েকটি কথ্য বক্তব্য প্রদান করেছেন এবং হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
"আটক নারগিছ সুলতানা কচি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে," — ওসি মাসুদ পারভেজ।
স্থানীয় কথামতে মানসিক স্বাস্থ্য প্রসঙ্গ
স্থানীয়দের অনুক্রমে জানা যায়, নারগিছ সুলতানা কচি মানসিকভাবে অসুস্থ বলে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু চিকিৎসা বা নিয়মিত নজরদারির বিস্তারিত কোনো অফিসিয়াল তথ্য পুলিশ এখনও নিশ্চিত করেনি। এলাকাবাসীর কিছু অংশ পারিবারিক বিবাদের প্রেক্ষাপটে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কুটুক্তি করেছেন, তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
ঘটনার সময়রেখা
| সময় | ঘটনা |
|---|---|
| সোমবার সকাল | তাইফা পরিবারের কাছে অনুপস্থিত। খোঁজাখুঁজি শুরু। |
| পরবর্তী সময়ে | থানায় নিখোঁজ ডায়রি করা হয়। |
| বিকেল | সিসিটিভি দেখে তাইফাকে নারগিছের বাড়িতে ঢুকতে দেখা যায়; পরে মৃতদেহ পাওয়া যায়। |
| পরবর্তী | পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার ও নারগিছকে আটক করে। তদন্ত চলছে। |
আইনি প্রক্রিয়া ও বাকি প্রশ্নগুলো
পুলিশ ঘটনার প্রাথমিক সূচনা করেছে এবং সাময়িক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করছে। ওসি মাসুদ পারভেজ জানিয়েছেন, আইনি কার্যক্রম চালিয়ে আর্টিকেল অনুযায়ী তদন্ত সম্পন্ন করা হবে। তদুপরি, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন সমাজ ও পরিবারের জন্য নির্ধারণী ভূমিকা রাখবে। এগুলো পাওয়া গেলে হত্যার প্রকৃত কারণ, সময় ও ব্যবহৃত পদ্ধতি নিয়ে স্পষ্টতা আসবে।
প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় সমাজে দুঃখ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, এমন একে অপরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পরিবারে এমন নিপীড়ন অনৈতিক ও অগ্রহণযোগ্য। সামাজিক সমর্থন ও পরিবারের জন্য মানসিক প্রক্রিয়াকরণ সহায়তা জরুরি বলে এলাকার নেতারা উল্লেখ করেছেন।
- ঘটনার তদন্ত: পুলিশ কর্তৃক প্রাথমিক তদন্ত চলছে; ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষা।
- আটক ব্যক্তির অবস্থা: স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস আছে; আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা-রেকর্ড পুলিশের দায়িত্বে।
- পরিবারের অবস্থা: শোকাবস্থায় পরিবার; ভবিষ্যতে আইনি ও সামাজিক সহায়তা প্রয়োজন হবে।
এই ঘটনার ফলে বান্দরবানের সুয়ালক এলাকার পরিবার ও প্রতিবেশীরা নিরাপত্তাবোধ ও সামাজিক সহায়তার অভাব সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন। তদন্ত থেকে প্রাপ্ত ফলাফল এবং ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাবেন পরবর্তী সময়ে; সেগুলোর ওপর নির্ভর করে অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।
ঘটনাস্থল ও পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে, এই পর্যন্ত যা নিশ্চিত তা হলো: শিশুটির মৃত্যু হয়েছে এবং এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারি ও সরকারি কর্তৃপক্ষ বাকী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
উম্মে হাবিবা, বান্দরবান প্রতিনিধি, WE NEWS