বান্দরবানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আদিবাসী শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে মিছিল ও সমাবেশ করে দেশের সমস্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি চাকরিতে আদিবাসীদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা পুনর্বহালসহ ряда দাবি উপস্থাপন করেছেন। কর্মসূচিটি জেলা প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের বান্দরবান সরকারি কলেজ শাখা প্রধান সংগঠক হিসেবে কাজ করে।
সমাবেশ ও মিছিলের সূচনা
প্রতিবেশীরা জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বান্দরবান রাজার মাঠ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে উজানী পাড়া, মধ্যম পাড়া ও চৌধুরী মার্কেট হয়ে বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলে অংশ নেন বান্দরবান সরকারি কলেজসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
প্রধান দাবি ও পরিস্থিতি
সমাবেশে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী শিক্ষার্থীরা শিক্ষাক্ষেত্রে এবং সরকারি চাকরি অর্জনে বহু বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্কুল-কলেজের অবকাঠামো দুর্বল, পর্যাপ্ত ও দক্ষ শিক্ষক নেই এবং শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম থাকার অভিযোগ করেন তারা। এসব কারণে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন—এমন বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
চাহিদার বিস্তারিত
সমাবেশে নির্ধারিত মূল চাহিদিগুলো ছিল:
- উচ্চশিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে আদিবাসীদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল।
- প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্গা শিক্ষক প্রথা বন্ধ করা।
- শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ রেখে যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা।
- দুর্গম এলাকায় পর্যাপ্ত অবকাঠামো নির্মাণ ও শিক্ষার মানোন্নয়ন।
কয়েকজন বক্তব্য থেকে
পার্বত্য ছাত্র পরিষদের বান্দরবান জেলা শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক উশৈহ্লা মারমা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বর্গা শিক্ষক প্রথা বন্ধ করে অধিকতর যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের দাবি রয়েছে। তিনি বলেন, দুর্গম এলাকায় স্কুলের অবকাঠামো দ্রুত উন্নয়ন করা না হলে শিশুরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা থেকে ছিটকে যাবে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন—বিটন তঞ্চঙ্গ্যা (বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক), রিংয়ং ম্রো (বাংলাদেশ ম্রো স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন), এবং বান্দরবান সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা—উবাথোয়ই মার্মা, এডিসন চাকমা, জেকিপ্রু মার্মা ও মাহিনু আক্তার।
স্থানীয় প্রভাব ও ভূতপূর্ব প্রেক্ষাপট
পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা ও চাকরিতে আদিবাসী প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে বলেও কখনো বলা হয়, তবে স্থানীয় ছাত্রনেতারা মনে করেন বাস্তবে সুবিধা অনুপাতে নেই। পাহাড়ি এলাকার কড়াই-চড়াই, যোগাযোগের সমস্যা, শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা ও নিয়োগ ব্যবস্থার অনিয়ম শিক্ষাকে প্রভাবিত করছে। মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, অনেক পরিবারের সন্তান প্রতিকূলতার মধ্যে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে—তারা উপযুক্ত সুযোগ পেলে প্রতিযোগিতায় সুযোগ পাবে বলে বিশ্বাস করে।
আন্দোলনের পরবর্তী পথ ও প্রত্যাশা
শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দাবির বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ চান। দাবি পূরণ না হলে তারা ভবিষ্যতে বৃহত্তর কর্মসূচি ও সরকারি দপ্তরগুলোর সামনে আরো শক্ত আন্দোলন করেই দাবি জানাবেন—এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
| অবস্থান | কার্যক্রম |
|---|---|
| রাজার মাঠ | মিছিলের শুরু |
| উজানী পাড়া, মধ্যম পাড়া, চৌধুরী মার্কেট | মিছিল পথ |
| প্রেসক্লাব | সমাবেশ ও সমাপ্তি |
স্থানীয় প্রশাসন থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নে কি ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে সেটি জানতে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে বান্দরবানের আদিবাসী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলো আবারও আলোচনায় এসেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি চাকরিতে ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হলে পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক-আর্থিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে—এমন প্রত্যাশা রাখেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
উম্মে হাবিবা, বান্দরবান প্রতিনিধি