বাগেরহাটে সম্প্রতি দুইটি বেসরকারি ক্লিনিকে ঘটেছে প্রাণহানির ঘটনা—একটি অপারেশনের পর রোগীর মৃত্যু এবং অন্যটিতে জন্মানো এক নবজাতকের মৃত্যু। এসব ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
কে কোথায় মারা গেলেন—সংক্ষেপে ঘটনাবলি
পবিত্র তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট শহরের পুরাতন বাজার এলাকায় পলি ক্লিনিক-এর অপারেশন থিয়েটারে পিত্তথলির পাথর অপারেশনের পর রাতে নাসিমা আক্তার (২০) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তি কচুয়া উপজেলার বারোদাঁড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সুমন হাওলাদারের স্ত্রী।
আরেকটি ঘটনার ব্যপারে, শহরের দাসপাড়া মোড় এলাকার দবির উদ্দিন মেমোরিয়াল ক্লিনিক-এ জন্ম নেওয়া একটি নবজাতক ৮ আগস্ট মারা যায়। নবজাতকের পরিবার কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা।
তদন্ত কমিটি ও তাদের দায়িত্ব
দুই ঘটনায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পলি ক্লিনিকের রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন সিভিল সার্জন আ স ম মাহাবুবুল আলম। কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তির নাম ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান। অন্য দুই সদস্য হলেন—২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান মো. ফারুকুজ্জামান ও এনেস্থেশিয়া বিভাগের চিকিৎসক মো. এসকেন্দার।
নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আরেকটি দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটিতে রয়েছেন ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের শিশু বিভাগের কনসালটেন্ট শিহান মাহমুদ ও সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার শেখ রিয়াদুজ জামান।
| ঘটনা | ক্লিনিক | কমিটি সদস্যসংখ্যা | প্রধান সদস্য |
|---|---|---|---|
| অপারেশনের পর রোগীর মৃত্যু | পলি ক্লিনিক (পুরাতন বাজার) | ৩ | ডা. হাবিবুর রহমান |
| নবজাতকের মৃত্যু | দবির উদ্দিন মেমোরিয়াল ক্লিনিক (দাসপাড়া মোড়) | ২ | শিহান মাহমুদ (কমিটির সদস্য) |
পরিবারের বক্তব্য ও অভিযোগ
পলি ক্লিনিকে অপারেশনের পর মৃত্যুর ঘটনায় নিহত রোগীর স্বজনরা ক্লিনিকের সামনে ও ভেতরে তীব্র আপত্তি তোলেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে পরিবারের কাছে টাকা দিয়ে হামলা বা অভিযোগ বন্ধ করার চেষ্টা করে। পরিবারের সদস্যরা লিখিতভাবে অভিযোগ না দিয়ে পরে মৃতদেহ বাড়ি নিয়ে যান।
নবজাতকের ঘটনায় শিশুটির নানী আমিনুর বেগম অভিযোগ করেন যে নবজাতকের কষ্টের সময় ক্লিনিকের চিকিৎসক-নার্সরা তা পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেননি। পরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে পাঠানোর পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে অক্সিজেন দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে শিশুটি ক্লিনিকে ফেরালে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পুনরায় অক্সিজেন চিকিৎসা দিয়ে থাকেন বলে সূত্রে উল্লেখ আছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা ও প্রত্যাশা
সিভিল সার্জন কর্তৃক গঠিত এসব কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে ক্লিনিকের চিকিৎসা ব্যাবস্থা, যন্ত্রপাতি, রেকর্ড ও পরিজনদের বিবরণসহ ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। কেন্দ্রীয় বা জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেন, ঘটনাগুলোতে যদি অনিয়ম বা চিকিৎসা ত্রুটি পাওয়া যায়, তা হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও চিকিৎসাজনিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও করণীয়
বাগেরহাটে বেসরকারি ক্লিনিকে ঘটিত এইরকম মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় উদ্বেগ বাড়িয়েছে। রোগীর স্বজন-কর্তৃপক্ষের মতামত শুনে দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্ত সংশ্লিষ্টদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় গণমানুষকে ক্লিনিকের সেবার টাইপ, লাইসেন্স ও বহিরাগত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন থাকতে বলা জরুরি।
- তদন্তের সময়সীমা: জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশে তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত দাখিল করার কথা বলা হয়েছে।
- কী খোজ হবে: চিকিৎসা প্রটোকল মেনে চিকিৎসা হয়েছে কি না, অব্যবস্থাপনা বা অনৈতিক চাপ ছিল কি না এবং জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা সচল ছিল কি না।
- করণীয়: অভিযোগকারী পরিবার লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করতে পারেন এবং তদন্ত কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অনুরোধ আছে।
ঘটনার অনিশ্চয়তা কাটাতে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন, বলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা সম্প্রদায় ও এলাকাবাসী দাবি করেছেন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগও জানিয়েছে—যদি তদন্তে নিয়মবহির্ভূত কিছু পাওয়া যায়, প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।