ভবন অপরিচ্ছন্ন ও অনিরাপদ হয়ে পড়েছে
সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে বরগুনা পৌরসভার উদ্যোগে শহরের সিরাজউদ্দীন সড়কে নির্মাণ করা হয়েছে একটি অডিটরিয়াম মিলনায়তন (টাউন হল)। নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের মার্চ থেকে; প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ কোটি ২ লাখ টাকা এবং ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরো কাজ শেষ না করে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ করেই ২০২২ সালের দিকে চলে যায়। এরপর থেকে ছয় বছর ধরে ভবনটি পড়ে আছে এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জায়গাটি ভাঙচুর ও অনুপ্রবেশের শিকার হয়েছে।
সাংস্কৃতিক সংগঠনের দাবি ও লোকাল প্রভাব
বরগুনায় অন্তত ২০টির বেশি সক্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সংগঠনের প্রতিনিধিরা একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্র—অডিটরিয়াম চেয়েছিল যেখানে অনুষ্ঠান, সভা ও অনুশীলন করা যাবে। কাজটি অসম্পূর্ণ থাকায় সংগঠনগুলো পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছে না। খেলাঘর বরগুনা জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাসেল মাহমুদ বলেন,
“সাংস্কৃতিক চর্চা ও বিকাশের লক্ষ্যেই টাউন হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের জন্য আলাদা কক্ষ দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় সংগঠন কিংবা পৌরবাসী কোনো সুবিধা পাচ্ছে না।”
ভবনের বর্তমান ব্যবহার ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন
স্থানীয়রা জানায়, ব্যবহারহীন ও অরক্ষিত ভবনের দরজা-জানালা ছিঁড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে; কিছু অংশ বর্তমানে গরু-ছাগলের খোঁয়াড়ে পরিণত হয়েছে এবং মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। জেলা শ্রমিক আন্দোলনের সাবেক প্রেসিডেন্ট গোলাম হায়দার স্বপন অভিযোগ করেন,
“টাউন হলটি পুরোপুরি নির্মাণ করা সম্ভব হলে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সভা-সমাবেশ এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন অনেক সহজ হতো। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি এখন গরু-ছাগলের খোঁয়াড়ে পরিণত হয়েছে।”
- সংশ্লিষ্টতা হারানো: সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাদের অনুশীলন ও অনুষ্ঠানের জন্য স্থান না পেয়ে কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য।
- সম্পত্তি ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি: অরক্ষিত ভবনে ভাঙচুর ও অনুপ্রবেশ বাড়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি ও জনস্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- বাজেট ও দায়-দায়িত্ব: সরকারি অর্থে শুরু হওয়া প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ থাকায় পাবলিক ফান্ডের কার্যকর ব্যবহার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
প্রকল্পের তথ্য ও সময়সীমা
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সীট ক্ষমতা | প্রায় ৫০০ আসন |
| শুরু | ২০১৮ সালের মার্চ |
| প্রকল্প ব্যয় | ৭ কোটি ২ লাখ টাকা |
| নির্ধারিত সমাপ্তি | ২০২০ সালের মার্চ |
| ঠিকাদারিগত অগ্রগতি (যখন ছেড়ে গেছে) | প্রায় ৮০% (প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে) |
পৌরসূত্র ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বরগুনা পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, টাউন হলটি সভা-সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের কেন্দ্র হিসেবে পরিকল্পিত ছিল। কিন্তু ঠিকাদারের কাজ বন্ধ করে দেয়ার পর প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ আশা করছেন পৌরসভা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও রাজনৈতিক পক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ভবনটি সম্পূর্ণ রূপে শেষ করবে যাতে এটি পুনরায় সাংস্কৃতিক ও সম্প্রদায়ভিত্তিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে পারে।
এ মুহূর্তে ভবনের বর্তমান অবস্থান ও ভুক্তভোগীদের দ্বন্দ্বের কারণে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া টাউন হলটি পুনরুদ্ধার কঠিন বলে মনে করেন অনেকে। চলমান পরিবেশে প্রকল্পটির সার্বিক মূল্যায়ন, তহবিল পুনর্বিন্যাস এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তবায়ন ছাড়া ভবনটি পুনরায় অনায়াসে ব্যবহারযোজ্য করা যাবে না।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বলছে, টাউন হলে ফিরে পেলে বরগুনার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গতিবেগ বাড়বে এবং শহরের সামাজিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে—পৌর প্রশাসন ও সরকারি কর্তৃপক্ষ কবে এবং কীভাবে এই বিলম্বিত প্রকল্পটিকে কার্যকরভাবে শেষ করবে।