বরগুনায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ও স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই আয়-উপায় তৈরি করার প্রয়াস হিসেবে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এক দিনব্যাপী সবুজ ব্যবসা উন্নয়ন শীর্ষক কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের বাস্তবায়িত লোকাল গভর্নমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (লজিক) প্রকল্পের আওতায় বরগুনা আরডিএফ ট্রেনিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় জেলার তিনটি উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন থেকে সমবায় লিডার ও কমিউনিটি ম্যানেজমেন্ট ফ্যাসিলিটেটর অংশ নেন।
কেন জরুরি—উপকূলীয় ঝুঁকি এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান
আয়োজকরা জানান, উপকূলীয় জেলা হিসেবে বরগুনায় জলবায়ু পরিবর্তন ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপায়ে স্থানীয় জীবিকা ও পরিবেশকে প্রভাবিত করছে। নদীমাতৃক অঞ্চলে সল্টিভিকেশন, আগমনস্থল পরিবর্তন, বায়ু ও তাপমাত্রার ওঠানামা—এসব ঘটনাই কৃষি ও মৎস্যচাষসহ স্বল্পসামর্থ্য পরিবারগুলোর আয়ের উপর প্রভাব ফেলছে। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা এই প্রেক্ষাপটকে মাথায় রেখে পরিবেশবান্ধব ব্যবসার ধারণা কিভাবে আয়-উপার্জন বাড়াতে ও ক্ষতি কমাতে পারে তা নিয়ে পর্যালোচনা করেন।
প্রধান অংশগ্রহণ ও বক্তারা
কর্মশালার উদ্বোধন করেন বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এএসএম কাসেম। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য দেন লজিক প্রকল্পের বরগুনা জেলা জলবায়ু পরিবর্তন সমন্বয়কারী (ডিসিসিসি) কাজী জাওয়াদ হোসেন। বিষয়ভিত্তিক প্রেজেন্টেশন ও আলোচনা পরিচালনা করেন:
- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) অনিমেষ বালা,
- বিসিক শিল্পনগরী বরগুনার উপ-ব্যবস্থাপক কাজী তোফাজ্জল হক,
- যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বরগুনার উপ-পরিচালক মো. জাকির হোসেন।
তারা পরিবেশসম্মত ব্যবসা মডেল, স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করে ক্ষতিকর প্রভাব কমানো ও টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির বাস্তব উপায় নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে দিকনির্দেশনা ও মতবিনিময় করেন।
প্রশিক্ষণীর ফোকাস—অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মিল
কর্মশালায় যে মূল বার্তা উঠে আসে তা হলো—পরিবেশ রক্ষা ও আয় বৃদ্ধির মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করা। বক্তারা উল্লেখ করেছেন যে, স্থানীয় কাঁচামাল ও জ্ঞান ব্যবহার করে ক্ষতিকর পরিবেশগত প্রভাব সীমিত রেখে ছোট-মাঝারি ব্যবসা গড়ে তোলা সম্ভব। এতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ভঙুর উপকূলীয় অর্থনীতি স্থিতিশীল হতে পারে।
স্থানীয় ভূমিকা ও করণীয়
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা কয়েকটি বাস্তবজটিলতা তুলে ধরেন—অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার ঘাটতি, বাজারসংযোগ ও প্রযুক্তি গ্রহণে সীমাবদ্ধতা। সেই প্রেক্ষিতে উদ্যোক্তা ও সমবায় লিডারদের জন্য যা প্রস্তাবিত হয়েছে:
- স্থানীয় সম্পদের সীমিত সদ্ব্যবহার করে মাইক্রো-উদ্যোগ গঠন,
- প্রশিক্ষণ ও ক capacity উন্নয়ন ব্যবস্থা ব্যবস্থা জোরদার করা,
- সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে বাজারসংযোগের ব্যবস্থাপত্র করা।
লজিক প্রকল্পের কার্যক্রম ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা
উল্লেখ্য, বরগুনার সদর, পাথরঘাটা ও তালতলী উপজেলায় ২০১৭ সাল থেকে লজিক প্রকল্প কার্যক্রম চলছে। প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে স্থানীয়ভাবে জলবায়ু ঝুঁকি নিরুপণ করে উপযোগী অভিযোজনমুখী উদ্যোগ গ্রহণ ও টেকসই জীবিকা ব্যবস্থা করা। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা জানায় যে, প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও তত্ত্বাবধানে বহুগুণ সুফল মিললে তা এলাকার পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| কেও আয়োজন করেছে | লোকাল গভর্নমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (লজিক) |
| স্থান | বরগুনা আরডিএফ ট্রেনিং সেন্টার |
| অংশগ্রহণকারী | ৩৬ জন সমবায় লিডার ও সিএমএফ (১২ ইউনিয়ন, ৩ উপজেলা) |
| প্রতিষ্ঠাবছর (লজিক কার্যক্রম) | ২০১৭ থেকে চালু (বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, তালতলী) |
প্রভাব ও প্রত্যাশা
কর্মশালার সমাপ্তিতে অংশগ্রহণকারীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পরিবেশবান্ধব ব্যবসা ধারণা স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োগে সফল হলে জীবনযাত্রা ও কর্মসংস্থানে স্থায়ক উন্নতি সম্ভব। জেলা-পর্যায়ের সমন্বয় ও পর্যাপ্ত সহায়তা থাকলে এই ধরনের উদ্যোগগুলো উপকূলীয় ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ধরণের কর্মশালা বারবার আয়োজন ও মাঠপর্যায়ের তত্ত্বাবধান বাড়ালে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সচেতনতা বাড়বে, পরিবেশ-সন্মত প্রযুক্তি গ্রহণ বাড়বে এবং নতুবা ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় অর্থনীতি ধীরেসুদী স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে—এটাই আয়োজনকারীর প্রত্যাশা।