বরগুনার বামনা উপজেলার মধ্য আমতলী গ্রামে জমি সীমানা নিয়ে চলা বিরোধের জের ধরে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম মনোয়ারা বেগম (৬০)। পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার সকাল অনুমান ৯টায় বিরোধপূর্ণ স্থানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ নিয়ে ছয়-সাত জনের উপস্থিতিতে মারধর চালানো হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুরে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
নিহতের কন্যা মোছা. ডালিমা আক্তারের দেওয়া অভিযোগ ও থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রতিবেশী মো. হানিফ খাঁ, তাঁর স্ত্রী কহিনুর বেগম ও শ্যালক আলামিনসহ কয়েকজন রিজিস্ট্রেশনবিহীন শ্রমিক/রাজমিস্ত্রি নিয়ে বিরোধিত জমিতে প্রাচীর নির্মাণ শুরু করলে মনোয়ারা বেগম বাধা দিতে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয়। মামলায় উল্লেখ আছে—প্রতিপক্ষ তাঁকে ধাক্কা দেন, কাঠের চেরা ও লোহার রড দিয়ে মারধর করেন; বিশেষ করে লোহার রড দিয়ে মাথা ও কপালে আঘাত করার কথাও বলা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ আছে, আহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাঁর বুকের ওপর উঠে শারীরিক নির্যাতন চালান। পরে স্থানীয়রা চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে এসে ফেললে অভিযুক্তরা স্থান ত্যাগ করে। কড়া জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ১২টার দিকে মনোয়ারা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশি ব্যবস্থা ও পরিবার দাবি
বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের কন্যা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন এবং ঘটনার তদন্ত চলছে। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে বলে তিনি জানান।
“পূর্বপরিকল্পিতভাবে তারা আমার মাকে পিটিয়ে ও বুকের ওপর উঠে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।”
নিহতের পরিবারের দাবির কথাগুলো উথ্থিত হলেও, এখন পর্যন্ত পুলিশ মামলা গ্রহণ করে তদন্তের কথাই জানিয়েছে; গ্রেপ্তারি বা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন নিশ্চিত আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না—গত প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না।
প্রভাব ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়দের মতে, ওই এলাকায় গত চার–পাঁচ মাস ধরে জমি সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল এবং স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও সমস্যা মিটেনি। জমি নিয়ে স্থায়ী সমাধান না হওয়া, সালিশ-ফল অমান্য এবং গায়ের জোরে জায়গা দখলের চেষ্টা—এগুলো পারস্পরিক উত্তেজনা বাড়ানোর কারণ হিসেবে স্থানীয়রা দেখেছেন।
- পরিবার দাবি: পরিকল্পিত হত্যার রকমরেখা রয়েছে, বিচার চান পরিবার।
- পুলিশ বলছে: মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে, অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
- স্থানীয় সমস্যা: সালিশ-মিমাংশা না হওয়া এবং দীর্ঘদিনের বিরোধ।
টেবিল: ঘটনায় সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | মনোয়ারা বেগম |
| বয়স (প্রায়) | ৬০ |
| স্থান | মধ্য আমতলী, বামনা, বরগুনা |
| ঘটনার সময় | শুক্রবার সকাল (প্রায় ৯টা) |
| মৃত্যু ঘোষণা | দুপুর ১২টা, বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |
এ মামলা ও ঘটনার তদন্ত স্থানীয় সম্প্রদায়কে উদ্বিগ্ন করেছে। স্থানীয়ভাবে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিবারণের নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় আইনগত পরামর্শের অভাব থাকলে এই ধরনের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের আশঙ্কা থেকে যায়।
এ মুহূর্তে ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত অভিযুক্তদের অস্তিত্ব ও তাদের অবস্থান নিয়ে পুলিশের অভিযান চলছে; ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ ও ঘটনাক্রম আরও স্পষ্ট হবে। তদন্তকারীদের কাছে আছে—প্রতিবেশী বিরোধ, সাক্ষী বক্তব্য ও চিকিৎসা-নথি—যেগুলোই এই হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় প্রভাবিত করবে। করোনোত্তর সময়ের সংবেদনশীলতা বিবেচনায়, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ যেন দ্রুত, সমন্বিত ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত চালায়—এই দাবি পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা কী হবে তা নিয়েও নজর থাকবে। তবে এখনকার চেপে থাকা বাস্তবতা হলো—একটি ঘরে বাবা-মা আর সন্তানেরা এক সহিংস ঘটনার শিকার হয়েছেন, এবং তাদের দাবি বিচার না হওয়া পর্যন্ত ঘর-প্রতীক্ষা থামবে না।