বরগুনা পৌরসভার মোট ১০১ কিলোমিটার পাকা সড়কের মধ্যে প্রায় ২৮ কিলোমিটার এখন বেহাল। পিচঢালাই উঠে থাকা, বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ, কোথাও কোথাও সড়কের অংশধসে পড়ায় স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন—বিশেষত রিকশা, অটোরিকশা ও ভ্যানচালকেরা বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। পৌর প্রকৌশল বিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্য ও সরেজমিন প্রত্যক্ষদর্শী পর্যবেক্ষণে এ পরিস্থিতির চিত্র ধরা পড়েছে।
কোন কোন এলাকা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ
পৌরসভার এমনকি শহরের মূল সড়কগুলোরও বিভিন্ন অংশ খারাপ অবস্থায়। ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এলাকাসমূহ:
- আমতলার পাড়
- বটতলা
- ডিকেপি
- দিঘিরপাড়
- কড়ইতলা
- টাউন হল এলাকা
- সুলতান আলী ও হাসপাতাল সড়ক
- কেজি স্কুল, কাঠপট্টি, আবুল হোসেন ঈদগাহ
- চরকলোনি, পোস্ট অফিস পার্শ্ব ও পশু হাসপাতাল এলাকা
- জেলা বিএনপি কার্যালয়ের আশপাশ
চিত্র প্রত্যক্ষকরা জানান, বেশ কিছু স্থানে পিচ উঠে গিয়ে গভীর খানাখন্দ তৈরি হয়েছে; কোথাও সড়কের মাটি সরে গিয়ে অংশবিশেষ ধসে পড়েছে। দিঘিরপাড় সড়কে প্রায় ৫০ ফুট অংশ ধসে পড়ায় সেখানে যান চলাচল বন্ধ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মানুষের দৈনন্দিন পরিণতি ও প্রশাসনিক তথ্য
পৌরসভার মোট বাসিন্দার সংখ্যা প্রায় ৬০,৮৭৫, যারা এই সড়কগুলোর ওপর নির্ভর করে স্কুল, হাসপাতাল, বাজার ও অফিসে যাওয়া-আসা করে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর সংস্কার ও পুনর্নির্মাণে প্রয়োজন ধরা হয়েছে প্রায় ২৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১২ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং ঠিকাদার বেছে নিতে লটারির মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রাস্তা-পরিবহন চালকদের অভিযোগ
“আমি বিভিন্ন সড়কে গাড়ি চালাই। শহরের মূল সড়কগুলো মোটামুটি ভালো। কিন্তু হাসপাতাল সড়ক, দিঘিরপাড়, কেজি স্কুল ও ধানসিঁড়ি সড়কে গাড়ি চালানো খুবই কষ্টকর। গর্তে পড়ে প্রায়ই অটোরিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
চরকলোনি এলাকার এক অটোরিকশা চালক একই অভিযোগ তুলে বলেছেন, ভাঙাচোরা সড়কগুলিতে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের গাড়ির ক্ষতি হয় এবং অতিরিক্ত খরচে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রেই মানুষকে দূরবর্তী বা বিকল্প রাস্তায় চলাচল করতে হচ্ছে, ফলে সময় ও ব্যয় বাড়ছে।
কী করা হচ্ছে ও কী অনির্দিষ্ট
পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর সংস্কারের জন্য তত্ত্বাবধানে কিছু প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। তবে কাজের পরিমাণ ও সংশ্লিষ্ট বাজেটের জটিলতা, ঠিকাদার নির্বাচন ও বাস্তবায়ন সময়সূচি সম্পর্কে এখনও স্পষ্টতা অনুপস্থিত। ইতোমধ্যে একটি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং ঠিকাদার নির্বাচনের জন্য লটারির মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে—তবে বাকি কাজগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট তহবিল ও সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা কার্যকর না হলে সমস্যা স্বাভাবিকভাবেই ইউনিয়ন পর্যায় থেকে পৌর পর্যায় পর্যন্ত বহাল থাকবে।
| বিষয় | সংখ্যা/বিবরণ |
|---|---|
| মোট পাকা সড়ক | ১০১ কিমি |
| ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক | ২৮ কিমি |
| প্রয়োজনীয় আনুমানিক বাজেট | ২৩ কোটি টাকা |
| দরপত্র আহ্বানকৃত প্রকল্প | ১২ কোটি টাকা |
স্থানীয়দের প্রত্যাশা ও জরুরি পরামর্শ
স্থানীয় বাসিন্দারা চান দ্রুত এবং টেকসইভাবে সড়ক সংস্কার করা হোক, কারণ চলাচলের নিরাপত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জরুরি সেবা সবই সড়কের অবস্থার ওপর নির্ভরশীল। জনস্বার্থে কর্মকর্তাদের কাছে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো গুরুত্ব দিতে হবে:
- অগ্রাধিকারে ঝুঁকিপূর্ণ ও সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর দ্রুত জরুরি মেরামত
- পরিষ্কার সময়সূচি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন বিজ্ঞপ্তি প্রদর্শন
- টেকসই নির্মাণের উপকরণ ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিতকরণ
পৌরসভার কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দফতর দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে শহরের জনগণের দৈনন্দিন জীবনে প্রশস্তি আসবে এবং যানজট-দুর্ঘটনা ও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনা কমবে।