বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ১১০ পিস ইয়াবা জব্দ এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন ডিবির এসআই (নিরস্ত্র) বিকাশ কর্মকার।
অভিযানের সময় ও স্থান
প্রথম অভিযানটি তেঁতুলবাড়িয়ার বান্দাকাটা বাজারসংলগ্ন ফুলঝুড়ি-গুলাইসাখালী সড়কে পরিচালিত হয়; সেখানে তেঁতুলবাড়িয়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সাব্বির রহমান (১৯)কে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর হেফাজত থেকে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ওই অভিযান বিকেল প্রায় ৪টায় সংঘটিত হয়।
পরবর্তীতে বিকেল ৫টার দিকে একই এলাকার নিকটস্থ একটি বসতঘর তল্লাশি করে সেখানে থাকা শয়নকক্ষ থেকে আরও ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ঐ বাড়ির মালিক মো. লাল মিয়া জমাদ্দার (৬৬) ও তাঁর ছেলে মো. লিটন (৪০)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ও মামলার অবস্থা
ডিবি অভিযান পরিচালনার পর বরগুনায় গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। জেলার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা (পিপিএম-সেবা) বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বরগুনা জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।
“মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বরগুনা জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।” — মো. কুদরত-ই-খুদা, পুলিশ সুপার
তদন্ত ও আরকখন প্রয়োজনীয় তথ্য
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এসআই বিকাশ কর্মকার ও অন্যান্য ডিবি কর্মকর্তা এখন তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। জব্দকৃত ইয়াবার উৎস, বিতরণকারী চক্র বা স্থানীয় সরবরাহ কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে বলে ডিবি সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া এবং মামলার আনুষঙ্গিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাবে।
- তারিখ: ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার)
- অভিযানকারী: বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)
- অবস্থান: বরগুনা সদর, বদরখালী ইউনিয়ন, তেঁতুলবাড়িয়া এলাকা
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তালিকা ও উদ্ধারকৃত ইয়াবা
| নাম | বয়স | ঠিকানা (ওয়ার্ড/এলাকা) | জব্দকৃত ইয়াবা (পিস) |
|---|---|---|---|
| মো. সাব্বির রহমান | ১৯ | তেঁতুলবাড়িয়া, ৮ নম্বর ওয়ার্ড | ১০ |
| মো. লাল মিয়া জমাদ্দার | ৬৬ | তেঁতুলবাড়িয়া | ১০০ |
| মো. লিটন | ৪০ | তেঁতুলবাড়িয়া | (উল্লেখিত মহল শেষে গ্রেপ্তার) |
লোকাল সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া ও প্রাসঙ্গিক পর্যবেক্ষণ
নিহিত সূত্রে জানা যায়—তেঁতুলবাড়িয়া ও আশপাশের বাসিন্দারা মাদক সংক্রান্ত অপরাধকে অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে দেখেন। স্থানীয়রা বলেন, ছোট যুবকদের মধ্যে মাদক সেবা ও সরবরাহ বন্ধ করা না গেলে সামাজিক অবক্ষয় বাড়বে। ডিবির এই অভিযানের ফলে স্থানীয়দের মধ্যে অস্থিরতা কমে কিছুটা নিরাপত্তা বোধ ফিরে এসেছে তবে তারা আরও ব্যাপক তদন্ত ও জানমালের নিয়ন্ত্রণের দাবি করেছেন।
পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় স্কুল-কলেজ ও পরিবারগুলোর নিরাপত্তা বাড়তে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সফলতার জন্য মাদক প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়—প্রতিবারিক সচেতনতা, শিক্ষা ও সামাজিক স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন।
ডিবি তদন্তের পর যদি গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সংযুক্তি বা বড় সংখ্যক আসামির সন্ধান পাওয়া যায়, তা হলে বিষয়টি স্থানীয় আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে জানানো হবে। বর্তমানে তেঁতুলবাড়িয়া এলাকা ও বরগুনা সদর থানায় মামলার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।