টাঙ্গাইলে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক জনও উত্তীর্ণ হয়নি—এমন তথ্য সোমবার বিকেলে জেলা শিক্ষা অফিস থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। একই সময়ে জেলা মোট পাশের হার ঘোষণা করা হয়েছে ৫৯.০৬ শতাংশ হিসেবে।
পরিসংখ্যান এবং কাদের স্কুলগুলি?
জেলা শিক্ষা অফিসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী এবারে টাঙ্গাইলে ৭৫২টি স্কুল ও মাদ্রাসা-র মোট ৪৬,৪৫১ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৭,৪৭৬ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২,১৭৩ জন।
| বিবরণ | সংখ্যা |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠান সংখ্যা | ৭৫২ |
| পরীক্ষার্থী (অংশগ্রহণ) | ৪৬,৪৫১ |
| উত্তীর্ণ | ২৭,৪৭৬ |
| জিপিএ-৫ | ২,১৭৩ |
| পাশের হার | ৫৯.০৬% |
শতভাগ অকৃতকার্য কোন প্রতিষ্ঠানগুলো?
জেলার এমন অবস্থার পেছনে নাম প্রকাশিত হয়েছে এমন ছয়টি প্রতিষ্ঠান—এগুলোর মধ্যে রয়েছে এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান:
- ভুঞাপুর উপজেলার এমপিওভুক্ত গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়
- ভুঞাপুর উপজেলার নন-এমপিওভুক্ত বিএম দাখিল মাদ্রাসা
- ঘাটাইল উপজেলার নন-এমপিওভুক্ত মনতলা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা
- নাগরপুর উপজেলার নন-এমপিওভুক্ত সলিমাবাদ আনোয়ার খান মডেল উচ্চ বিদ্যালয়
- নাগরপুর উপজেলার আগদিঘুলিয়া দাখিল মাদ্রাসা
- মির্জাপুর উপজেলার এমপিওভুক্ত তরফপুর বহুমুখী দাখিল মাদ্রাসা
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী ব্যবস্থা
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, যেসব প্রতিষ্ঠানে কোনো পরীক্ষার্থীই পাশ করেনি, তাদের প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হবে। তিনি বলেন,
“যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাশ করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হবে। জবাব পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
নোটিশ দেয়া ও জবাব পাওয়ার প্রক্রিয়ার পর শিক্ষা প্রশাসন কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা শিক্ষাগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এখনো পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের দেওয়া নোটিশের সময়সীমা বা জবাব পর্যালোচনার নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য কারণ
টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা অফিসের পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, সামগ্রিকভাবে পাশের হার ৬০ শতাংশের নিচে রয়েছে। দীর্ঘকালীন শিক্ষাগত দুর্বলতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, শিক্ষকমানুষিক ঘাটতি, এবং কোভিড পরবর্তী শিক্ষার শিকড় ফেরাতে বিলম্ব—এসব কারণ পাশের হারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কারণে কিছু প্রতিষ্ঠান একেবারেই অপারগ হয়েছে—এ বিষয়গুলো নির্ধারণের দায়িত্ব জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তদন্তের পর পরিষ্কার হবে।
শিক্ষার্থীর স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করেন—ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুতভাবে পাঠদানের মান উন্নয়ন, শিক্ষকমণ্ডলীর প্রশিক্ষণ, উপযুক্ত পাঠ্যক্রম পুনর্গঠন এবং সহায়তা কার্যক্রম চালানো জরুরি। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য বহুমুখী পুনঃশিক্ষা ও ক্লাস, পরীক্ষার আগ্রাসী প্রস্তুতি কর্মশালা ও মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যকর করা প্রয়োজন।
এই ফলাফল ঘোষণার পর জেলা প্রশাসন, উপজেলা শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়- মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্য:
- যদি কোনো স্কুল বা মাদ্রাসার ফল সংক্রান্ত আপত্তি থাকে, জেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
- নোটিশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ নির্দেশক সময়সীমার মধ্যে জবাব জমা দেবেন; পরবর্তী ব্যবস্থা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইলের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষায় গড়ে তোলার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের যৌথ উদ্যোগে কার্যকর করা না হলে এই রকম ফলাফল পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।