টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় সরকারি ভোক্তা ওষুধ ভ্রষ্টাচারের অভিযোগ সামনে আসার পর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবু নইম মোহাম্মদ সোহেলকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পার-২ শাখার মাধ্যমে শনিবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই পদায়নের আদেশ জানানো হয়।
ঘটনার বিবরণ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বদলি ও পদায়নকৃত কর্মকর্তাকে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে; অন্যথায় তিনি বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন। প্রজ্ঞাপনটি যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বলে জানানো হয়েছে।
এই বদলি আদেশের পটভূমিতে আসে গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া খণ্ডচিত্রটি—মধ্য রাতে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি পিকআপ গাড়ি যাতে সরকারি ওষুধ ভর্তি ছিল, তা ভূঞাপুরের যমুনা নদীতে ফেলার সময় জনতার হাতে আটক করা হয়। ঘটনার পরে পিকআপ চালককে আটক করে পিকআপসহ থানায় নেওয়া হয়।
আইনি ব্যবস্থা ও গ্রেপ্তার
ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে চালককে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি ওই ঘটনায় বাদি হয়ে ডা. আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে চালক আজমত নামে ওই ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল চালাচালানি কিংবা বড় তথ্যবহুল ব্যক্তি-গোষ্ঠীকে আড়াল করতে থানায় চালককে একমাত্র অভিযুক্ত করে চুরির মামলা করা হয়েছে। তাতে ক্ষুদ্ধ হয়ে স্থানীয় শ্রমিক ও গ্রামবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও বিক্ষোভ
বৃহস্পতিবার রাতে মামলা দায়েরের পর থেকেই শনিবার পর্যন্ত বিক্ষোভ থামেনি। খবর অনুযায়ী:
- শুক্রবার শ্রমিকরা ঘাটাইল খাদ্যগুদামের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।
- শনিবার বিকেলে স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, থানা ঘেরাও ও সড়ক অবরোধের কর্মসূচি পালন করে।
- বিক্ষোভকারীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার অনুরোধ করে।
পুলিশের আশ্বাস পাওয়ার পর সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও ঘটনার জেরশেশ এখনও বজায় রয়েছে। সড়ক অবরোধের কারণে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
খেলা—প্রতিরোধ না নিবারণের প্রশ্ন?
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি ওষুধ পরিসরে অনিয়ম প্রতিরোধে প্রশাসনিক দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে বদলি (ওএসডি) করা হয়েছে, তা কতটা প্রতিবিধানমূলক হবে এবং তদন্তের মাধ্যমে কি ফলাফল আসবে—এই প্রশ্ন এখন সাংবাদিকদের ও স্থানীয়দের মনের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
| সময়সূচি | ঘটনা |
|---|---|
| গত বুধবার মধ্যরাত | পিকআপবাহী সরকারি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলার সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে |
| বৃহস্পতিবার (দিবাগত রাত) | উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সোহেল বাদি হয়ে মামলা দায়ের |
| শুক্রবার | চালক আদালতে; কারাগারে প্রেরণ; শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ |
| শনিবার | প্রজ্ঞাপন—ডা. সোহেলকে ওএসডি করা হয়; হাসপাতাল ও থানা ঘেরাও ও বিক্ষোভ |
স্থানীয় দাবি ও অপেক্ষা
বিক্ষোভকারীরা নিম্নলিখিত দাবি তুলেছেন:
- মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের জবাবদিহি ও সম্পৃক্ত সকলের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
- ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও সরকারি সম্পদের অনিয়মজনিত লেনদেনের সুষ্ঠু অনুসন্ধান।
- প্রতিবেদন না দেওয়া বা কাগজপত্রে প্রভাব খাটিয়ে ঘটনাকে চাপা দেওয়া হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার গ্যারান্টি।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও দায়ীদের শনাক্তকরণে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানালেও এলাকাবাসী তদন্তের গতি ও ফলাফল সম্পর্কে উদ্বিগ্ন।
এই ধরনের কেলেঙ্কারি সহজেই স্থানীয় জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। প্রশাসনিক পদক্ষেপ, স্বচ্ছ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত কর্মসূচি না হলে জনগণের আস্থা ফেরানো কঠিন হবে বলে স্থানীয় নেতারা মন্তব্য করছেন।