টাঙ্গাইল জেলার ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় একটিও পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়নি বলে জেলা শিক্ষা অফিসের পর্যালোচনায় জানা গেছে। বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা মিলিয়ে জেলার মোট ৭৫২টি প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪৬,৪৫১ শিক্ষার্থী; এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৭,৪৭৬ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২,১৭৩ জন। তবুও ছয়টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া খবরটি শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কোনগুলো প্রতিষ্ঠানে ফল শূন্য?
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানের নামগুলো হলো—
- ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়
- ভূঞাপুরের বিএম দাখিল মাদ্রাসা
- ঘাটাইল উপজেলার মনতলা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা
- নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ আনোয়ার খান মডেল উচ্চ বিদ্যালয়
- নাগরপুরের আগদিঘুলিয়া দাখিল মাদ্রাসা
- মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর বহুমুখী দাখিল মাদ্রাসা
সংখ্যাগত চিত্র
| বিবরণ | সংখ্যা |
|---|---|
| শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মোট) | ৭৫২ |
| পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী | ৪৬,৪৫১ |
| উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী | ২৭,৪৭৬ |
| জিপিএ-৫ প্রাপ্ত | ২,১৭৩ |
| শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান | ৬ |
জেলা প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
দলীয় ও স্বাধীন বিশ্লেষণে ওই ছয় প্রতিষ্ঠানের ফল বিশ্লেষণ করে শিক্ষা কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনার তদারকি করার কথা জানিয়েছে জেলা শিক্ষা কার্যালয়। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন,
“যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। জবাব পাওয়ার পর বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
শিক্ষা কর্মকর্তার এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে শুধুমাত্র শিক্ষার্থীর ফলকে অভিমত করা হবে না; শিক্ষকের দায়িত্ব, পাঠদানের নিয়মিততা, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন পদ্ধতি ও দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা কেমন ছিল—এসব দিকও খতিয়ে দেখা হবে। জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, কারণ দর্শানোর নোটিশের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থা ও স্থানীয় প্রভাব
স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, একটি প্রতিষ্ঠানে সর্বস্বভাবে শূন্য পাস হওয়া কেবল শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা নয়; এটি শিক্ষক-সংস্থান, পাঠদানের ধারাবাহিকতা, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ও পরিচালনাগত দুর্বলতার প্রতিফলনও হতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের পদ্ধতি, শিক্ষক উপস্থিতি ও পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্তের দাবি উঠেছে।
অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা আশঙ্কা করছেন, যদি দ্রুত ও ফলপ্রসূ ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তবেই ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পড়বে—শিক্ষার্থীর মনোবল দুর্বল হবে, ভবিষ্যতে ভর্তিও কমতে পারে এবং এলাকার শিক্ষা মানের ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
পরবর্তী করণীয়
- জেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশে শুদ্ধাচার ও পাঠদানের মান যাচাই করে দ্রুত রিপোর্ট তৈরি করা হবে।
- প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জবাবদিহি শেষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- দুর্বল ফলের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ক্লাস, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন শক্ত করার মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করা হবে।
টাঙ্গাইলে সামগ্রিকভাবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হলেও ওই ছয় প্রতিষ্ঠানের শূন্য পাসের ঘটনা জেলা শিক্ষা কর্তৃপক্ষের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় শিক্ষা গভর্নেন্সের কাঠামো ও পাঠদানের মান উন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকরী উদ্যোগ না নিলে পরবর্তী বছরগুলোতে আরও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।