সংক্ষিপ্ত খবর
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার সারপলশিয়া এলাকার ‘ফুড অফিসার্স যমুনা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ পাটকলের ম্যানেজার মো. সাজিদুর রহমান (ওরফে শাহজাহান) আতঙ্কে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। পরিবার ও পাটকল সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস ধরে তাকে বিভিন্ন সময়ে মোট ৫ লাখ টাকা দাবি করে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। অভিযোগ আছে—চাঁদা না দিলে হত্যা ও লাশ গুম করে দেওয়ার আল্টিমেটামও দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার বিস্তারিত ও অভিযোগ
স্থানীয় ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, অভিযোগকারীর কথায়—কয়েকজন সশস্ত্র বা দলবল নিয়ে গত ২২ আগস্ট রাতে পাটকলের অফিসে ঢুকে ম্যানেজারের প্রতি কুৎসি ও হুমকি দিয়েছে। অভিযোগে নাম এসেছে—ওয়ারেস (২৫), মো. শামীম (৩০) ও মো. লিখন (৩০)– এরা বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোন ও সরাসরি ম্যানেজারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। পাটকলের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের চলে যেতে অনুরোধ করলেও অভিযুক্তরা চলে যায়নি।
পুনরায় গত ২৪ আগস্ট সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলে এসে ম্যানেজারকে খুঁজতে থাকে। এতে আতঙ্কিত অবস্থায় মারা যান ম্যানেজার—পাটকল সূত্রে বলা হয়েছে, তিনি মিলের ভিতরেই স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশি কার্যক্রম ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর পাটকলের সুপারভাইজার মো. আক্তার হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। কিন্তু স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পুলিশ মূলত চাঁদাবাজির ধারায় মামলা রেকর্ড করেছে; অন্য দিকে, মৃতদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করতে অনুমতি দেয়ার বিষয়টি এলাকায় বিস্তর প্রতিক্রিয়া জাগিয়েছে।
“ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করতে দিয়েছে পুলিশ।”
স্থানীয়রা বলছেন, ময়নাতদন্ত না করেই মরদেহ দাফন হলে হত্যার উদ্দেশ্য ও প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে সংশয় থেকে যায় এবং যথাযথ তদন্ত বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এই কারণে ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রভাব ও স্থানীয় উদ্বেগ
ঘটনাটি ভূঞাপুর ও আশপাশের উপজেলার বেসরকারি ও শিল্পতহলকে হিল্লোলিত করেছে। চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী হুমকির মধ্যে শ্রমিক, ব্যবস্থাপক ও ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাটকল কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীরা নিরাপত্তা ও দ্রুত নিশ্চয়তার দাবি করেছে, যাতে শিল্পকারখানাগুলো স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়।
- আকস্মিক মৃত্যু: ২৪ আগস্ট সন্ধ্যায় ম্যানেজারের স্ট্রোক ও মৃত্যুর ঘটনা।
- চাঁদার দাবি: মোট ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং হত্যার হুমকি।
- পুলিশি ব্যবস্থাসংক্রান্ত বিতর্ক: ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন অনুমতি, যা স্থানীয়ভাবে অসন্তোষের কারণ।
ঘটনাপঞ্জি (টাইমলাইন)
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ২২ আগস্ট | অভিযুক্তরা মিলে পাটকলে ঢুকে ম্যানেজারের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও চাঁদার দাবি। |
| ২৪ আগস্ট | আবার অবধি হুমকি দিয়ে ম্যানেজারকে হত্যার আলটিমেটাম; সন্ধ্যায় ম্যানেজার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। |
| ২৪ আগস্ট (পরবর্তী) | পাটকল সুপারভাইজার আক্তার হোসেন থানায় মামলা দাখিল; পুলিশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি দেয়। |
এই ঘটনায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ও সদর থানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা ও পাটকল কর্মীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচারপ্রক্রিয়ার ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ঘটনাটি টাঙ্গাইলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের কর্মস্থল নিরাপত্তা, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং পুলিশের তদন্তগত স্বচ্ছতা বিষয়ক আলোচনা তীব্র করবে বলে মনে করছে স্থানীয়রা। তদন্ত করে অভিযুক্তদের দ্রুত সনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি রয়েছে।