টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুরে রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টায় জাফরান রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারে টাঙ্গাইল জেলা নূরানী শিক্ষক ফাউন্ডেশন-এর জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল আগামী নূরানী স্কলারশিপ-২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে উপজেলা পর্যায়ের প্রস্তুতি, পরীক্ষা পরিচালনা ও দায়িত্ব বণ্টন নির্ধারণ করা।
সভা ও আয়োজকদের পরিচিতি
সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা নূরানী শিক্ষক ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ মাহদী হাসান শিবলী। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের অর্থ সম্পাদক মুফতি আব্দুর রশিদ। জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার দায়িত্বশীলরা সভায় উপস্থিত ছিলেন এবং সংগঠনের উচ্চপদস্থ সদস্যরা তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মাওলানা ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি রবিউল ইসলাম। এছাড়া উপজেলা দায়িত্বশীলদের সঙ্গে ঘাটাইল উপজেলা জিম্মাদার মুফতি জুবায়ের মাহমুদ, কালিহাতী উপজেলা জিম্মাদার মাওলানা আলামিন, সরিষাবাড়ী উপজেলা জিম্মাদার এইচ. এম. সাজ্জাদ হোসাইন এবং ভূঞাপুর উপজেলা জিম্মাদার হাফেজ মেহেদী হাসান মিরাজ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা: আয়োজন, পরীক্ষা ও দায়িত্ববণ্টন
সভায় প্রধান আলোচ্য ছিল কিভাবে নূরানী স্কলারশিপ-২০২৬ সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়। অংশগ্রহণকারীরা আলোচনা করেন পরীক্ষার কার্যবিধি, আবেদনপ্রক্রিয়া, উপজেলা পর্যায়ের প্রস্তুতি ও কর্তব্য বিভাজন নিয়ে। বক্তারা প্রয়োজনে পরীক্ষার ক্ষেত্র, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা এবং ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের কাছে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহনের আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিতরা সম্মত হন যে, সফল বাস্তবায়নের জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। এছাড়া স্টুডেন্ট বাছাই, যাচাই-বাছাই এবং ফল প্রকাশে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সক্রিয় মনিটরিং ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাও আলোচিত হয়।
উপজেলা স্তরের দায়িত্ব — সারণীভিত্তিক পরিকল্পনা
সভায় উপজেলার দায়িত্বশীলদের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সহজ সারণী উপস্থাপন করা হয় — কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে উপজেলা প্রশাসন ও সংগঠনের স্থানীয় প্রতিনিধিরা কীভাবে কাজ ভাগ করে নিবেন, তা আলোচনায় উঠে আসে।
| বিকল্প কার্যক্রম | উপজেলা দায়িত্বশীল |
|---|---|
| আবেদন সংগ্রহ ও যাচাই | উপজেলা জিম্মাদারগণ |
| পরীক্ষা কেন্দ্র নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনা | জেলা সমন্বয়ক ও উপজেলা দল |
| ফল যাচাই ও অনুমোদন | কেন্দ্রীয় পরিচালনা বোর্ড |
স্থানীয় প্রভাব ও প্রত্যাশা
নূরানী স্কলারশিপ-২০২৬ যদি পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়িত হয়, তা স্থানীয় দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য সহায়তা হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করেন সভার অংশগ্রহণকারীরা। যদিও সভায় প্রকৃত বৃত্তি সংখ্যা, আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বা আবেদন শর্তাবলীর বিশদ আলোচনা সংবাদ প্রতিবেদন সূত্রে উপস্থাপিত হয়নি, তথাপি সংগঠন তারা দ্রুত কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুসরণ করে ফলপ্রসূ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেই সভায় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
বক্তারা বিশেষভাবে জোর দেন যে, পরীক্ষা ও বাছাই প্রক্রিয়ায় জঙ্গি, অশুভ কর্মকাণ্ড অথবা অনৈতিক প্রভাব থেকে রক্ষা করতে কঠোর নির্দেশনা মেনে চলা হবে। এছাড়া প্রার্থীদের তথ্য যাচাই নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় বিদ্যালয় ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নেওয়া হবে।
পরবর্তি পদক্ষেপ
সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে—উপজেলা স্তরে নির্ধারিত দায়িত্বশীলরা ফের নিজেদের মধ্যে সমন্বয় সভা করে সময়সীমা ও কার্যপ্রণালী চূড়ান্ত করবেন। কেন্দ্রীয় টাঙ্গাইল জেলা নূরানী শিক্ষক ফাউন্ডেশন প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে এবং প্রতিটি উপজেলায় কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে।
- জেলা পর্যায়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন ও পরীক্ষা শৃঙ্খলাবদ্ধ করা।
- উপজেলা প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে পরীক্ষামূলক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা।
- স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মনিটরিং ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালু করা।
সভায় উপস্থিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ও স্থানীয় প্রতিনিধি-সমূহও তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন বলে জানান। টাঙ্গাইল জেলা নূরানী শিক্ষক ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগটি স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষাসেবা প্রসারে কতটা কার্যকর হবে তা আগামী কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে স্পষ্ট হবে।
সংগঠনের জরুরি এই সভার প্রতিপাদ্য ছিল—সুষ্ঠু পরিকল্পনা, দায়িত্বশীল প্রচেষ্টা এবং উপজেলা পর্যায়ের কার্যকর সমন্বয় ছাড়া কোনো বৃহৎ স্কলারশিপ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত করা যায় না।