সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীতে অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানায় শুক্রবার সকালে একটি জাহাজ থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গমনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হন; আহতদের মধ্যে কেউ কেউ এ মুহূর্তে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর immediate প্রতিক্রিয়া ও উদ্ধারকাজ
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদ জানায়, ঘটনাস্থলে তিনজনই মারা যান। যে জাহাজটিতে কাজ চলছিল, সেখানে হাউজকিপিং কর্মরত শ্রমিকরা যখন ট্যাংক পরিদর্শন করছিলেন তখন গ্যাস নির্গমন দেখা যায়। নির্গমনের পর কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
“বিস্ফোরণের খবর সঠিক নয়। বিষাক্ত গ্যাস লিকেজে তিনজন মারা গেছেন। আহত আছেন কয়েকজন।” — চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম
চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম দুর্ঘটনার প্রাথমিক চিত্র এভাবেই উল্লেখ করেছেন এবং বিস্ফোরণের সম্ভাবনাকে রিস্টরেক্ট করেছেন। তবে সত্যিই কী কারণে গ্যাস নির্গমণ হলো, কর্মক্ষেতে নিরাপত্তা মানা হচ্ছিল কি না এবং দুর্ঘটনার বিস্তার এড়াতে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল—এসব প্রশ্ন এখন তদন্তের বিষয় হবে বলে জানিয়েছেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান। তিনি বলেন, বিষয়টি তারা তদন্ত করবেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় প্রভাব
শিপইয়ার্ড এলাকায় এমন দুর্ঘটনা স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই শিল্পাঞ্চলে বহু শ্রমিক প্রতিদিন জাহাজচালনা, রিসাইক্লিং ও মেরামত কাজ করেন। নিরাপত্তার অস্তিত্ব ও জরুরি চিকিৎসা সেবা দ্রুততার সঙ্গে পৌঁছে দেওয়া না হলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে—এমন শঙ্কা স্থানীয়দের মধ্যে দেখা যাচ্ছে।
- মৃত: 3 জন (ঘটনাস্থলে)
- আহত: 10 জন (চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে)
- স্থান: ভাটিয়ারী, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম
| প্যারামিটার | সংখ্যা / বিবরণ |
|---|---|
| মৃত | ৩ |
| আহত | ১০ |
| প্রতিষ্ঠান | ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ |
স্থানীয় সূত্র ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ক’জনের অবস্থা গুরুতর তা সময়ের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। পুলিশের প্রাথমিক বিবরণে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি—অর্থাৎ সহমানের গ্যাস নির্গমনই মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা প্রশ্ন ও তদন্তের নির্দেশ
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিজন জানাচ্ছেন, তদন্তে তারা তিনটি দিক খুঁজে দেখবেন—গ্যাসের উৎস কী, সেখানে প্রয়োজনীয় কর্মস্থল নিরাপত্তা ছিল কি না এবং উদ্ধারে ব্যবহৃত পদক্ষেপসমূহ সঠিক ছিল কি না। যদি নিরাপত্তাবিধি উপেক্ষিত হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রতিষ্ঠানকে দায়ি করা হতে পারে।
এ ধরনের দুর্ঘটনা চট্টগ্রাম বন্দরের পঞ্চাননশীল শিপইয়ার্ড এলাকায় কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রশ্নকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া এবং ভবিষ্যতে এ রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নির্দেশনা জারি করতে হবে—এটাই স্থানীয়রা আশা করছেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ওবাৎসবকৃত চিকিৎসাব্যবস্থা, রিকভারি পরিস্থিতি এবং তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আসলে আপডেট দেওয়া হবে।
সংবাদদাতা: নাসির উদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, WE NEWS