তফসিল ঘোষণা ও নির্বাচন বোর্ড
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গত বছরের স্থগিতাদেশ উঠার প্রায় নয় মাস পরে সিলেটে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ-এর নতুন নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে চেম্বারের হলরুমে তফসিল ঘোষণা করেন সংস্থাটির প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা। ঘোষিত হিসাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ নভেম্বর।
পরিচালনা পরিষদ ও নির্বাচনকালীন সময়সূচি
নির্বাচন থেকে নির্বাচিত হবেন মোট ২৭ সদস্য; এদের মধ্যে একজন সভাপতি, একজন সিনিয়র সহ-সভাপতি, একজন সহ-সভাপতি ও ২৪ জন পরিচালক থাকবেন। চেম্বারের দুই বছর মেয়াদি এই পরিষদ গঠন করা হবে নির্বাচনের মাধ্যমে।
- প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে: ১৩ সেপ্টেম্বর
- তালিকার বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিলের শেষ সময়: ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা
- চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর
- মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিক প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ: ৩ অক্টোবর
- চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ নোটিশ: ১২ অক্টোবর
- প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়: ১৫ অক্টোবর দুপুর ১২টা
- ভোটগ্রহণ: ৫ নভেম্বর, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা
নির্বাচন পরিচালনা ও আপিল বোর্ড
নির্বাচন পরিচালনার জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) আইশা আক্তার। বোর্ডের অন্য দুই সদস্য হলেন সহকারী কমিশনার তানভীর আহমেদ সজীব এবং সহকারী কমিশনার লাবণ্য ইসলাম।
এছাড়া আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মাসুদ রানা।
“বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখের ৮০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হয়,”
নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান আইশা আক্তারের এক কথায় জানানো হয়েছে যে ভোটের আগে সদস্যপদ নবায়ন ও বকেয়া মুছে ফেলাসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
নির্বাচনের প্রভাব ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের করণীয়
সিলেট চেম্বার স্থানীয় বণিক ও ব্যবসায়ীদের সংগঠন হিসেবে শহরের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে থাকে। নতুন পরিচালনা পরিষদ নির্বাচিত হলে চেম্বারের নীতি, সেবা ও স্থানীয় বাণিজ্যিক লবিং-কার্য পরিবর্তন হতে পারে। ঘোষিত তফসিল অনুসারে ভোটার হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য বকেয়া শোধ করে সদস্যপদ নবায়ন করতে হবে; নির্বাচন বোর্ড জানিয়েছে যে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে প্রার্থীরা নির্বাচনের ৬০ দিন আগে পর্যন্ত সদস্যপদ নবায়ন করে বকেয়া পরিশোধ করতে পারবেন।
| ইভেন্ট | তারিখ/সময় |
|---|---|
| প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ | ১৩ সেপ্টেম্বর |
| চূড়ান্ত ভোটার তালিকা | ২০ সেপ্টেম্বর |
| প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ | ৩ অক্টোবর |
| চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থীর নোটিশ | ১২ অক্টোবর |
| প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় | ১৫ অক্টোবর দুপুর ১২টা |
| ভোটগ্রহণ | ৫ নভেম্বর, সকাল ৮টা–বিকেল ৪টা |
গত বছরের ৪ আগস্ট প্রথম যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল—সেটি অনুযায়ী ভোটগ্রহণের দিন ছিল ১ নভেম্বর। এরপর ২৬ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠিতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়; নতুন তফসিল এই স্থগিতাদেশের পরই ধরে নেয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা এখন তফসিলের অনুযায়ী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, জমা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন বলেই জানা গেছে।
চেম্বারের নির্বাচন সম্পন্ন হলে সিলেটের বাণিজ্যিক ও শিল্পক্ষেত্রে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে নতুন নেতৃত্বের কার্যক্রম স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। তাই সদস্যপদ নবায়ন, ভোটার তালিকা যাচাই ও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার মতো সময়সীমা মেনে চলা ব্যবসায়ী ও প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।