সিলেট — সরকারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মিফতাহ্ সিদ্দিকীকে তিন বছরের মেয়াদে সিলেট ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা. আকতারুন নেছা স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে।
নীড়ভূমি ও নিয়োগের আইনি ভিত্তি
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই নিয়োগ পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের তারিখে বিস্তারিত প্রকাশ করা হলেও প্রশাসনিকভাবে তাকে তিন বছরের জন্য চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যানের পরিচয় ও প্রতিজ্ঞা
মিফতাহ্ সিদ্দিকী বিএনপি দলের একজন সক্রিয় নেতা; তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রাজনৈতিক পরিচিত। নিয়োগের পর সংবাদমাধ্যমকে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন,
“আমার ওপর দেওয়া দায়িত্ব আমি সঠিকভাবে পালনের চেষ্টা করব।”
তবে তার দায়িত্ব গ্রহণের সময়সূচি, বা ভবিষ্যতে নেওয়া নীতিমালার বিবরণ সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনে কিংবা তার কথ্য বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
নগরবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যা ও প্রত্যাশা
প্রতিবেদনে সরকার ও নিয়োগকর্তারা স্পষ্ট করে বলেননি যে নতুন চেয়ারম্যান কীভাবে নগরীর দীর্ঘদিনের পানিসঙ্কট ও পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যাগুলো সমাধান করবেন। স্থানীয় সূত্রে এবং মন্ত্রী বিভাগের দূরদর্শিতায় সিলেট নগরীতে দীর্ঘদিন থেকে সুপেয় ও খাবার পানির সংকট রয়েছে—এটিই নিয়োগের এক প্রধান প্রেক্ষাপট হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
নগরবাসী এবং বিভিন্ন সংগঠন আশা করবে যে, ওয়াসার নেতৃত্ব দ্রুত কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করবে—বিশেষত পানির সরবরাহ বৃদ্ধি, নলকূপ/পাম্পিং ব্যবস্থা উন্নয়ন, পয়ঃনিষ্কাশনের সমাধান এবং সেবার মান উন্নয়নে।
এমডি পদে অনিশ্চয়তা
প্রজ্ঞাপনে বোর্ড পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ প্রদানের কথা বলা হলেও একই সঙ্গে জানানো হয়েছে যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে এখনও কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এই শূন্যতা বোর্ডের কার্যক্ষমতা ও সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—বিশেষত অপারেশনাল ও প্রকৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে।
- নিয়োগকর্তা: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ
- আইনি ভিত্তি: পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬, ধারা ৭(১)
- মেয়াদ: তিন বছর (প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে)
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিয়োগপ্রতিষ্ঠান | সিলেট পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা) |
| নিয়োগকর্তা | স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় |
| আইনি রেফারেন্স | পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ — ধারা ৭(১) |
| নিয়োগকাল | ৩ বছর |
স্থানীয় প্রভাবে গুরুত্ব ও প্রশ্নবলি
সিলেট শহরের নাগরিকদের জন্য পানিসরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন সেবা সরাসরি জীবনযাত্রার মান নির্ধারণ করে। এজন্য সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কৌশলগত অগ্রাধিকার ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ শূন্য থাকায় বাস্তবায়ন-নিয়ন্ত্রণে কিছু বিলম্ব বা কাঠামোগত জটিলতা দেখা দিতে পারে।
নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় প্রশাসনকে এবারের নিয়োগকে কেন্দ্র করে ওয়াসার কার্যক্রমের প্রতি তদারকি ও অংশগ্রহণ বাড়াতে অনুরোধ করতে দেখা যাবে—বিশেষ করে যেখানে সাশ্রয়ী, স্বচ্ছ ও দীর্ঘমেয়াদি পানিসমাধান প্রয়োজন।
পরবর্তী কার্যক্রম
সরকারি প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী এখন প্রশ্ন থাকবে: নতুন চেয়ারম্যান কত দ্রুত কর্মপ্রক্রিয়া সাজাবেন, কীভাবে এমডি পদ ভরাট করা হবে এবং স্থানীয় পানিসংক্রান্ত প্রকল্পগুলোতে কোন_prioritization_ নির্ধারণ করা হবে। এই বিষয়ে সিলেট ওয়াসা, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পৌর কর্তৃপক্ষের পরবর্তী ঘোষণাকে নজরে রাখা হবে।
বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় ওয়ার্কার্স, নাগরিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মন্তব্য সংগ্রহ করে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।