নারায়াণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় পারিবারিক কলহের জের ধরে গৃহবধূ তানিয়া আক্তার (২৪) হত্যার ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অভিযুক্ত স্বামী সোহাগ মিয়া জুলহাস (৩৩)কে গ্রেপ্তার করেছে। পিবিআই জানিয়েছে, ঘটনার পর আত্মগোপনে থাকা সোহাগকে গাইবান্ধা থেকে নারায়াণগঞ্জগামী একটি দূরপাল্লার বাসে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়।
ঘটনার সারসংক্ষেপ ও উদ্ধারকালের বিবরণ
পিবিআই জানিয়েছে, গত ২৬ জুলাই সকালে নিহত তানিয়ার খালা নাছিমা আক্তারের কাছে ঘরের চাবি রেখে বলা হয় যে তানিয়া গার্মেন্টসে গেছে। কিছুক্ষণ পর যখন নাছিমা সেখানে গিয়ে দেখেন তানিয়া কর্মস্থলে উপস্থিত নয়, তখন বাড়ি ফিরে তালা খুলে ঘরের ভেতরে তানিয়ার নিথর দেহ পান। স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়াণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠায় এবং খালা বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
পিবিআই তদন্তে পাওয়া তথ্যে অভিযোগ রয়েছে যে দম্পতির সম্পর্কের শুরু হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে পরিচয়ের মাধ্যমে; কিন্তু বিয়ের পর থেকেই সংসারে পারিবারিক কলহ, অভাব-অনটন ও সহিংসতার ঘটনা ঘটত। তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তের স্থায়ী কোনো কর্ম ছিল না এবং তিনি স্ত্রীকে মারধর করতেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
পিবিআই অভিযান ও গ্রেপ্তার
ঘটনার আগে সোহাগ ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। পিবিআই সূত্রে জানানো হয়েছে, তফসিলভুক্ত মামলার অধীনে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। প্রথমে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে গাইবান্ধা থেকে নারায়াণগঞ্জ ফিরতি পথে তিনি যে দূরপাল্লার বাসে ছিলেন, সেখানে অভিযান চালিয়ে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
‘গ্রেপ্তার আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’
পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ স্বীকার করেছেন যে সাংসারিক অভাব-অনটন ও বারবারের ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি তানিয়ার গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন। ঘটনার পর তিনি ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে তানিয়ার নাকের সোনার নাকফুল খুলে নিয়েছিলেন এবং চাবি খালার কাছে রেখে পুলিশের চোখ বের করে পালিয়ে যান—এই কথাও তাদের বক্তব্যে এসেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য ও মামলার অবস্থান
পিবিআই নারায়াণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে; তবু ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হবে। মামলার আন্য অনুসন্ধান চলমান আছে বলে তিনি জানান।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ২৬ জুলাই | নাচিমা আক্তারের কাছে চাবি রেখে বলা হয় তানিয়া গার্মেন্টসে গেছেন; পরে বাড়ি গিয়ে তানিয়ার মৃতদেহ পাওয়া যায়। |
| পরবর্তী | বাড়তি তদন্তে মামলা পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হয়; অভিযুক্ত মোবাইল বন্ধ করে পালায়। |
| ১১ আগস্ট | গাইবান্ধা থেকে নারায়াণগঞ্জগামী বাসে অভিযান চালিয়ে সোহাগ মিয়া জুলহাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। |
সামাজিক ও নিরাপত্তা প্রভাব
একটি পারিবারিক বিবাদে নারায়াণগঞ্জে এইরকম হত্যাকাণ্ড জনসাধারণের নিরাপত্তা ও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তোলে। প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা বলছেন, দাম্পত্য কলহ ঘনঘন হলে তা শোনার মধ্যেই থামানো প্রয়োজন—তবে গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে বিচার নিশ্চিত করা দরকার।
পুলিশ ও তদন্তকারীদের নির্দেশ্য হলো—ঘটনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রমান সংগ্রহ করে সঠিক অভিযোজন করা। আদালত প্রক্রিয়া ও তদন্তাধীন কাগজপত্র বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
- নিহত: তানিয়া আক্তার, ২৪ বছর
- গ্রেপ্তার: সোহাগ মিয়া জুলহাস, ৩৩ বছর
- তদন্তকারী: পিবিআই, এসআই মোস্তাফিজুর রহমান নেতৃত্বে
এ ঘটনায় মামলা ও তদন্ত চলছে। পিবিআই জানিয়েছে, ঘটনার সত্যতা ও সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়টি গুরুত্বを持って অনুসন্ধান করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও তদন্তকারীরা বলছেন, মৌখিক স্বীকারোক্তি ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের পাশাপাশি আরও প্রমাণ যোগাড় করা হবে যাতে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।