শেরপুর-এর সীমান্ত পরিকাঠামো নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত এক নতুন অভিযানে ৩৯ বিজিবি শনিবার রাতের দিকে শ্রীবরদী উপজেলার রেবনন্দপাড়া থেকে মোট ১৫০ বোতল ভারতীয় উৎপত্তির বেভারেরেজ উদ্ধার করেছে। অভিযানকালে উদ্ধারকৃত মালিকবিহীন প্যাকেজ থেকে যাত্রীবিহীন অবস্থায় এই মদ বার করা হয়েছে বলে বিজিবি সূত্রে জানানো হয়েছে।
অভিযানের বিবরণ ও জব্দ মালামাল
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর দায়িত্বরত দল সীমান্ত এলাকায় অবৈধ চলাচল ও চোরাচালান প্রতিরোধকল্পে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছিল। ওই অভিযানকালে রেবনন্দপাড়া এলাকা থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত সামগ্রীর আনুমানিক সিজার মূল্য রাখা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা।
সামঞ্জস্যপূর্ণ তদন্তে বিজিবি জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে চারজন ব্যক্তি পালিয়ে যায়; তাদের বিরুদ্ধে শ্রীবরদী থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে, জব্দকৃত পণ্য স্থানীয় পুলিশকে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।
বিজিবির প্রতিক্রিয়া
“ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষাসহ যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি দিনরাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তে মাদক, চোরাচালানি মালামাল ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবির কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এই মন্তব্য করেছেন ৩৯ বিজিবি‑এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ। তিনি বলেন অভিযানের ধারাবাহিকতা থাকবে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশাসনিক কাজ
রেবনন্দপাড়া অঞ্চলে সীমান্ত পার করে চোরাচালানের ঘটনা পূর্বেও রিপোর্ট করা হয়েছে; এই ধরনের অভিযান সেখানকার জনজীবন ও ব্যবসায়িক পরিবেশে তাত্ক্ষণিক নিরাপত্তা বার্তা দেয়। তবে, জব্দকৃত পণ্যের মালিক যদি শনাক্ত না হয়ে থাকে, তাহলে আইনি প্রক্রিয়া ও প্রমাণ সংগ্রহের ওপরই নির্ভর করবে মামলা পরিচালনা ও সাজার সিদ্ধান্ত।
এ সম্পর্কিত প্রশাসনিক উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- জব্দকৃত পণ্যের তালিকা তৈরি ও সিজার মূল্য নির্ধারণ
- পালাতক ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা ও সেগুলো বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের
- স্থানীয় পুলিশকে পণ্য হস্তান্তর এবং ফরেনসিক/তদন্ত কার্যক্রম শুরু
জরুরি নজরদারি ও পরবর্তী ধাপ
বিজিবির অভিযানে উদ্ধারকৃত পণ্যের মালিকত্ব প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত তা প্রাথমিকভাবে শক্ত কড়ায় রাখা হবে এবং পরে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পুলিশ হস্তান্তর করবে। তদন্তে কাগজপত্র, বোতলের লেবেল বা পরিবহন ব্যবস্থার সূত্র ধরে পাচার রুট ও সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালানো হবে।
| আইটেম | পরিমাণ | সিজার মূল্য |
|---|---|---|
| ভারতীয় মদ (বিভিন্ন ব্র্যান্ড) | ১৫০ বোতল | ২,২৯,৫০০ টাকা |
স্থানীয়ভাবেই এই ধরণের জব্দ অভিযান সীমান্তে নির্ধারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করে। তবে, প্রতিনিয়ত সীমান্ত সুরক্ষা জোর দিয়ে কাজ করলেও পাচারকারীরা নতুন কৌশল অবলম্বন করে বলে বিজিবি ও পুলিশকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
রেহনন্দপাড়া এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ জনরা বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার নিয়মিত টহল এবং অভিযানের ফলে নিরাপত্তা বোধ বাড়ে। অন্যদিকে একাধিক ব্যক্তি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, প্রান্তিক অনুসন্ধান বা গোপন সুপারভিশন না থাকলে একই রকম ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
ওই ব্যাটালিয়নের কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, সীমান্তসহ জেলায় মাদক ও চোরাচালানি রোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যে কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।