শেরপুর (বগুড়া) — শেরপুর পৌরশহরের ঘোষপাড়া এলাকায় অবস্থিত দুইটি দই-মিষ্টি তৈরির কারখানাকে (চৈতি দধি ভান্ডার ও প্রান্ত দধি ভান্ডার) উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের যৌথ অভিযানে সকল অনিয়ম ও শুদ্ধাচারের অভাবে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানটি সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযান ও অনিয়মের চিত্র
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রাসেল, শেরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল হাসান ও উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক তাহমিনা বেগম। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর থানা-পুলিশের একটি নিরাপত্তা দল।
তদন্তে পাওয়া অনিয়মের মধ্যে প্রধান ছিল—
- কারখানার বাথরুমে তেলাপোকার উপস্থিতি,
- খোলা অবস্থায় মিষ্টি সংরক্ষণ,
- খাবারের ওপর ব্যবহারের কাপড় রাখা,
- আগের দিনের তৈরি দই নতুন দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রির জন্য সংরক্ষণ করা,
- কারখানার ভেতরেই গোসল করার মতো অপ্রচলিত কার্যক্রম।
এই অবস্থায় প্রতিষ্ঠান দুটিকে প্রতিটি ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মনিটরিং ও অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানান কর্তৃপক্ষ।
জরিমানার বিবরণ
| প্রতিষ্ঠান | জরিমানা (টাকায়) |
|---|---|
| চৈতি দধি ভান্ডার | 50,000 |
| প্রান্ত দধি ভান্ডার | 50,000 |
| মোট | 100,000 |
জনস্বাস্থ্য ও ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত মনিটরিং করা এবং খাদ্যকারখানাগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা বলছেন, খাদ্যে দূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য সরাসরি হুমকি এবং এমন অনিয়ম শহরের খাদ্য সরবরাহ চেইনকে ঝুঁকিতে ফেলে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নাগরিকরা জানিয়েছেন, মিষ্টি-দই জাতীয় পণ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়। অনেকেই মনে করেন, খাদ্য প্রস্তুতকারক শ্রেণির ওপর নিয়মিত সচেতনতা কর্মসূচি এবং কঠোর তদারকিই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।
কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ও মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে পুনরাবৃত্তি ঘটলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এদিকে, জরিমানা প্রদানের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের কাছে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে খাদ্যপ্রস্তুতিতে পরিচ্ছন্নতা, প্যাকেজিংয়ের সঠিক পদ্ধতি এবং খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত নিয়মাবলী অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব
শেরপুর পৌরশহরের ঘোষপাড়া এলাকা মিষ্টি-দই বিক্রির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই ধরনের অভিযান এলাকা বাসী ও ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে একই সঙ্গে স্বল্পমেয়াদে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের আয়ের উপর প্রভাব পড়তে পারে। সরকারি তদারকির ধারাবাহিকতা ও ব্যবসায়ীদের সচেতনতা বাড়ানো হলে রাজস্ব ও গ্রাহকের আস্থা-উভয়ই বজায় রাখা সম্ভব হবে।
অভিযান ও জরিমানার এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছেন যে, অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা করা হবে এবং জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার থাকবে।