সৌদি আরবে রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রবাসীদের পরিচয় নিশ্চিত করে নওগাঁ জেলা প্রশাসক। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ১৩ জন নিহতের নাম-পরিচয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া গেছে এবং তারা প্রত্যেকেই নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
পরিচিত নাম ও গ্রামের তালিকা
নিচে জেলা প্রশাসনের সরবরাহকৃত তালিকা অনুযায়ী নিহতদের নাম ও আবাসস্থল দেওয়া হলো—
| ক্রমিক | নাম | গ্রাম/ইউনিয়ন | বয়স (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) |
|---|---|---|---|
| 1 | মহন প্রামাণিক | গন্ডগোহালি | ২২ |
| 2 | সুমন প্রামাণিক | গন্ডগোহালি | ১৬ |
| 3 | রুবেল প্রামাণিক | গন্ডগোহালি | ৩০ |
| 4 | কলিমুল্লাহ প্রামাণিক | গন্ডগোহালি | ৩৫ |
| 5 | সাগর | সাদনগর | ৩৮ |
| 6 | মজিদুল | খরসতি | ৩৪ |
| 7 | আবদুল জলিল | খরসতি | ৪৮ |
| 8 | ফরিদ শেখ | উজানপৈ | ৩২ |
| 9 | সুমন | ডুবাই | ৩১ |
| 10 | হাসিবুল হাসান শুভ | ডুবাই | ৩৭ |
| 11 | হৃদয় | গোয়ালা | ৩২ |
| 12 | মিনহাজ | মধ্য বোয়ালিয়া | ৩০ |
| 13 | শাহিন | ক্ষুদ্র বোয়ালিয়া | ৩৮ |
অভিভাবকদের বেদনা ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
নিহতের পরিবারের একাধিক সদস্য জানান, প্রবাস যাত্রা ছিল তাদের পরিবারে অর্থনৈতিক ভারবহন করার উদ্দেশ্যে। নিহতদের মধ্যে কেউ আবার কোরগামী বা নতুন যোগদানকারী প্রবাসীও ছিল। জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বাড়ীঘরে গিয়ে হতাহতের খবর জানাচ্ছেন এবং শোকাহত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করছেন।
"আমার তো আর দুনিয়ার বুকে কেউ থাকলো না বাবা। আমার নাতনি হছে, কেবল ১৪ দিন হচ্ছে। দুনিয়ার বুকে তো আমাক আর দেখার মতো কিছু থাকলো না ।"
উপরের কথাগুলো ওই তালিকাভুক্ত রুবেল প্রামাণিকের পিতার শোকযুক্ত ভাষ্য, যেখানে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন একমাত্র কামিয়াব সদস্যের মৃত্যুর ফলে পরিবারে অতি গম্ভীর সংকট সৃষ্টি হওয়া নিয়ে।
স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ করণীয়
জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়ায় সৌদি আরবে বাংলাদেশের কূটনীতিকদের শ্রমকল্যাণ সংক্রান্ত ওয়িং কাজ করছে। যথাযথ কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে দ্রুত লাশ হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে।
- স্থানীয় প্রশাসন: নিহতদের পরিবারকে প্রাথমিক সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছে।
- কর্মসংস্থান সংকট: বহু পরিবারই প্রবাসী সদস্যদের রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করত—এখন অস্থায়ী আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন হবে।
- আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া: লাশ পরিবহন ও কাগজপত্র চূড়ান্ত হতে কিছু সময় লাগতে পারে।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও স্থানীয় প্রত্যাশা
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত লাশ দেশে আনার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জেলা প্রশাসক জানান। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনকে বর্তমানে মূলত সংবেদনশীল সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কার্যক্রম সমন্বয় করতে বলা হয়েছে।
এই দুর্ঘটনা আত্রাই উপশহরের সমাজে গভীর ছাপ ফেলবে—কোন পরিবারই হঠাৎ করে উপার্জনশূন্য হতে তৈরি নয়। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সমাজকর্মী এখন পরিবারের জন্য তৎপর হবেন—অর্থিক, আইনগত ও সামাজিক সহায়তা নিয়ে কাজ করা হবে বলে জানা গেছে।
WE NEWS রবিবার থেকে সংশ্লিষ্ট দফতর ও পরিবারগুলোর সঙ্গে আরও যোগাযোগ রাখবে এবং লাশ প্রত্যাবর্তন, সরকারি সহায়তা ও পরিবারের পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট জানাবে।