লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বাজার এলাকায় সোমবার সকাল থেকে কয়েকশ কৃষক 정부 নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার না পাওয়ার প্রতিবাদে লালমনিরহাট–পাটগ্রাম–বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়ক আংশিক বা মোটামুটি দুই ঘণ্টা বন্ধ রাখেন। অবরোধের সময় উভয় পাশে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট তৈরি হয় এবং বহু পণ্যবাহী যান ও পাথরবাহী ট্রাক আটকে যায়।
বিক্ষোভের কারণ ও কৃষকদের অভিযোগ
কৃষকেরা বলেন, চলতি আমন মৌসুমে মাঠে সময়মতো সার না পেলে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাদের অভিযোগ, সরকারি ঘোষিত মূল্যের চেয়ে বাজারে সার অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহও নিশ্চিত নয়। সূত্র অনুযায়ী অভিযোগগুলোর প্রধান দিকগুলো:
- টিএসপি সার: সরকারের নির্ধারিত দাম প্রতি বস্তা ১,৩৫০ টাকা হলেও বাজারে তা প্রায় ২,২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
- ডিএপি সার: সরকারি দাম ১,০৫০ টাকা; বিক্রির দাম ১,৭০০–১,৮০০ টাকা পর্যন্ত বলে কৃষকরা জানান।
- ইউরিয়া সার: সরকারি মূল্য প্রতি বস্তা ১,৩৫০ টাকা, বাজারে তা প্রায় ১,৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, অনেক কৃষক সকাল থেকেই নির্দিষ্ট ডিলার পয়েন্টে সার নেওয়ার জন্য লাইনে থাকেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও কাজে লাগার মতো পরিষ্কার সাপ্লাই না পেয়ে অবশেষে তারা মহাসড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নেন।
| সারের ধরন | সরকারি নির্ধারিত দাম (প্রতি বস্তা) | কৃষকদের অভিযোগ অনুযায়ী বাজার মূল্য (প্রতি বস্তা) |
|---|---|---|
| টিএসপি | ১,৩৫০ টাকা | ২,২০০ টাকা |
| ডিএপি | ১,০৫০ টাকা | ১,৭০০–১,৮০০ টাকা |
| ইউরিয়া | ১,৩৫০ টাকা | ১,৮০০ টাকা |
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও প্রতিশ্রুতি
অবশ্য অবরোধের খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম ও কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রশাসন কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ইউএনও আন্দোলনরত কৃষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, দ্রুত কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার বিতরণে উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধিগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
“প্রকৃত কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সার নিয়ে কোনো ধরনের সংকট তৈরির চেষ্টা করলে এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” — মো. সাইফুল ইসলাম, ইউএনও, কালীগঞ্জ
ইউএনওর আশ্বাসে আন্দোলনরতরা প্রায় দুই ঘণ্টা পর মহাসড়ক থেকে সরে যান এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে কৃষকরা বলে রেখেছেন, তত্ক্ষণাত্ পর্যাপ্ত ও সঠিক দামে সার না পৌঁছালে ভবিষ্যতে পুনরায় কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে।
স্থানীয় প্রভাব ও সম্ভাব্য ঝুঁকি
সরবরাহের এই অনিশ্চয়তা আমন ফসলের উৎপাদন ব্যয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বলে কৃষকদের উদ্বেগ। সার উচ্চ মূল্যে বা সময়মতো না এলে জমিতে সার প্রয়োগ বিলম্বিত হবে, যা ফলন কমাতে পারে। প্রয়োজনে কৃষকরা বিকল্প সরবরাহ পয়েন্ট খোঁজার চেষ্টা করছেন, তবে মৌসুমের কাজে দেরি হলে ক্ষতিটা সহজে পূরণ হবেনা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মনগড়া সংকট তৈরি বা অতিরিক্ত দাম ধার্য করলে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে; সেই প্রেক্ষাপটে আগাম বিচারে বাজারে অনিয়ম থাকলে অনুসন্ধান শুরু হতে পারে।
কৃষকসমাজের জন্য এখন প্রধান দাবিটা পরিষ্কার—সরকারি মূল্য অনুযায়ী ও সময়মতো পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা। স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি কার্যকর হয় কি না, তা আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে পরিষ্কার হবে।