কক্সবাজারে সম্প্রতি প্রকাশিত এক সন্ন্যাসী হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিকদের ওপর আনা ভয় ও ঘুষি-ঠাট্টার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে শহরের কেন্দ্রস্থলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেওয়া স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, সংবাদ-প্রকাশের কারণে কাউকে হুমকি, হয়রানি বা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা স্বাধীন সাংবাদিকতার সরাসরি বিরুদ্ধে একটি আক্রমণ।
মিছিল থেকে সমাবেশ
প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয় কক্সবাজার পৌরসভা চত্বর থেকে। সেখানে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল এলে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তা কক্সবাজার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে শেষ হয়। বিকেল ৪ টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রশাসনের পরিচয় ব্যবহার করে সাংবাদিকদের উত্ত্যক্ত করা এমনকি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া—সবই সংবাদ-ক্ষেত্রে ভয়ভীতি ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা। তারা দ্রুত এ ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সভাপনা ও সঞ্চালনা
সমাবেশে সাংবাদিক জয় বৈদ্য সঞ্চালনা করেন। সভাপতিত্ব করেন ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজার (ক্র্যাক) জেলার সভাপতি জসিম উদ্দিন। বক্তব্য দেন ক্র্যাক-এর সাধারণ সম্পাদক ও চ্যানেল ২৪-এর জেলা প্রতিনিধি আজিম নিহাদ, দৈনিক কক্সবাজারের স্টাফ রিপোর্টার তাজুল ইসলাম পলাশ, সাংবাদিক সংসদ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি আজিজ রাসেল এবং মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজারের সভাপতি মোজাম্মেল হক।
অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গ্রীন টিভির জেলা প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ খান, নিউজ ২৪-এর জেলা প্রতিনিধি ইরফান উদ্দিন, খেলাঘর কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক এম. জসিম উদ্দিন ও কক্সবাজার সংবাদের স্টাফ রিপোর্টার আনোয়ার হোসেন।
স্থানীয সাংবাদিকদের অবস্থান
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাংবাদিক নেতারা বলেন, সংবাদ প্রতিবেদনগুলো যাতে স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষভাবে পরিবেশিত হয় তা নিশ্চিত করা সকলের দায়িত্ব। সরকারি বা প্রশাসনিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত আক্রমণ, পেশাগত ভয়ভীতি কিংবা ভাষাগত হেনস্থা সহ্য করা হবে না। তারা আহ্বান জানান—সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যে কোনও ধরনের মানসিক চাপের সঙ্গে ন্যায্য আইনি ও সাংগঠনিকভাবে লড়াই করা হবে।
- মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কক্সবাজার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হয়।
- প্রতিবাদীরা দাবি করেন, হুমকির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
- স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সংগঠন একত্রে এই প্রতিবাদে অংশ নেয়।
কোন কোন সংগঠন ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন
মানববন্ধনে উপস্থিত দলের নাম ও কিছু প্রতিনিধির নাম নিচের তালিকায় সংকলিত করা হলো। এটা সমাবেশে উপস্থিত মূল প্রতিনিধিদের সামান্য অংশ মাত্র—অনুষ্ঠানে আরও অনেকে ছিলেন।
| সংগঠন/মিডিয়া | প্রতিনিধি (উল্লেখযোগ্য) |
|---|---|
| ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজার (ক্র্যাক) | জসিম উদ্দিন, আজিম নিহাদ |
| দৈনিক কক্সবাজার | তাজুল ইসলাম পলাশ, আনোয়ার হোসেন |
| মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজার | মোজাম্মেল হক |
| গ্রীন টিভি, নিউজ২৪, চ্যানেল ২৪ | আব্দুল্লাহ খান, ইরফান উদ্দিন, আজিম নিহাদ |
অত-এর পাশাপাশি অনেক স্বাধীন সাংবাদিক, ফ্রিল্যান্স রিপোর্টার ও মিডিয়া কর্মীও সমাবেশে অংশ নেন। তালিকাভুক্তদের মাঝে শংকর বড়ুয়া রুমি, মুহিব উল্লাহ মুহিব, সিরাজুল ইসলাম আজাদ ও মিজানুর রহমানের নাম পাওয়া গেছে।
পথে-পথে প্রশ্ন—প্রভাব ও পরবর্তী করণীয়
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর সাংবাদিকদের উপর হতে থাকা হুমকি শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়—এটি সংবাদ পরিবেশ ও জনস্বার্থের ক্ষতিতেও রূপ নিতে পারে। সাংবাদিকরা জানান, যদি প্রশাসনের পরিচয় ব্যবহার করে হুমকি-ধমকি বা কুপ্রচেষ্টা দেখা যায়, তা হলে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরেও আনার জন্য প্রস্তুত। জনগণের জানার অধিকার রক্ষার জন্য নিরপেক্ষ ও চাপমুক্ত পরিবেশ অপরিহার্য বলে বক্তারা জোর দেন।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শেষে বিক্ষোভকারীরা ভবিষ্যতে অনুরূপ হলে আরও ব্যাপক কর্মসূচির হুমকি দেন এবং অনতিবিলম্বে ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তারা কর্মসূচি সমাপ্ত করেন।
এ ঘটনা কক্সবাজারের সাংবাদিকতার পরিবেশ ও স্থানীয় প্রশাসন-সামাজিক সম্পর্কের ওপর স্বতঃস্ফূর্ত প্রশ্ন জাগিয়েছে—ঘটনাগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত ও দ্রুত প্রতিকার নয়তো মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় ধকল দেখা দিতে পারে, এমন আশঙ্কা স্থানীয় পেশাজীবী মহলে দেখা যাচ্ছে।