পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজ করার সময় এক রুশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম দোরোখিন সের্গেই—তিনি ওই প্রকল্পে নিয়োগপ্রাপ্ত এটোম টেক এনার্গো কোম্পানিতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনার সময়ে এবং উদ্ধার
পুলিশ ও প্রকল্প সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে প্রায় সাড়ে ১০টাএর দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণাধীন এটোম টেক এনার্গো কোম্পানির কার্যালয় থেকে দোরোখিন সের্গেইর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তথ্যে কী বলা হচ্ছে
ঈশ্বরদী থানা তদন্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দীন জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
“খবর পেয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে,”
ময়নাতদন্ত ও তদন্ত প্রক্রিয়া
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে—এই কথা তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন। মরদেহ বর্তমানে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। পুলিশ ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষ মিলে ঘটনাস্থল ও কর্মপরিবেশের তদারকি করবেন বলেও সূত্রের খবর।
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পটি দেশের একটি সংবেদনশীল ও বড় প্রকল্প। এখানে বিদেশি কর্মীর আকস্মিক মৃত্যু স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা বিধি, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এবং যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থার প্রসঙ্গ নতুন করে সামনে এসেছে।
প্রকল্প ও কর্মীদের নিরাপত্তা বিষয়ক দিক
এমন ঘটনায় সাধারণত যে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হয়:
- কর্মস্থলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার পর্যাপ্ততা
- কোনও পূর্ববর্তী অসুস্থতার ইতিহাস বা চিকিৎসা নথি থাকা-না থাকা
- কর্মস্থলের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত অনুশীলন
- দূর্ঘটনা নয় কি স্বাভাবিক মৃত্যু—এই মৌলিক পার্থক্য নির্ণয় করা
ঘটনার তথ্যসমূহ সংক্ষিপ্ত টেবিলে
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | দোরোখিন সের্গেই |
| জায়গা | রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঈশ্বরদী, পাবনা |
| প্রতিষ্ঠান | এটোম টেক এনার্গো (নির্মাণকাজে নিয়োজিত) |
| সময় | ১২ আগস্ট, সকাল সাড়ে ১০টা এর দিকে |
| প্রাথমিক ধারণা | হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ |
| মরদেহ | পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে |
কীভাবে এগোবে তদন্ত?
আঞ্চলিক পুলিশ, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এবং সম্ভাব্যভাবে ওই কোম্পানির প্রতিনিধি মিলে এই ঘটনায় কি ধরনের তদন্ত হবে—তার মধ্যে রয়েছে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা, সহকর্মী ও উপস্থিতদের সাক্ষ্যগ্রহন এবং কর্মস্থলের নিরাপত্তা নথি যাচাই। ময়নাতদন্তের ফল পাওয়া মাত্রই তদন্ত কর্মকর্তা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রূপপুর প্রকল্প এলাকায় বিদেশি ও স্থানীয় কর্মী মিলে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ কাজ করেন—তাই যে কোনো আকস্মিক ঘটনার প্রভাব প্রকল্পের কর্মসংস্থান ও পরিবেশগত নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশ্ন তোলে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যাখ্যা এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাস্তব কারণ জানাতে বলা হচ্ছে।
এই ঘটনায় প্রকল্প পরিচালনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি জনদের নজর কাড়ার পাশাপাশি, এ ধরনের বড় ও সংবেদনশীল স্থানে কর্মরত বিদেশিদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করা কতটা জরুরি তা পুনরায় উঠিয়ে এনেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে না—তবে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষ উভয়ই তদন্তে সহায়তা করছে বলে জানানো হয়েছে।