শুক্রবার সকাল আটটার দিকে পাবনা জেলা কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তা পাহারার মধ্যে দিয়ে ভাঙ্গুড়া পৌরসভার সরদারপাড়া মহল্লার নিজের বাড়িতে আনা হন আলহাজ্ব গোলাম হাসনাইন রাসেল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বজন, এলাকাবাসী ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে দেখতে ভিড় জমান। বাড়ির উঠোনে রাখা মৃত মায়ের মরদেহ দেখে তিনি ভেঙে পড়েন এবং পরে পুলিশি পাহারায় ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে নেওয়া হয়।
জানাজা ও দাফন
স্থানীয় সূত্র ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাসেলের মা নুরজাহান রেখা ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৩ আগস্ট মারা যান। তাঁর দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও অন্যান্য জটিলতায় ভুগছিলেন। জানাজার পূর্বে সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণে রাসেল বলেন, তাঁর মা সারাজীবন সাধারণ জীবনযাপন করেছেন এবং সবার প্রতি সদয় ছিলেন; মায়ের যেকোনো ভুল হলে সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
“আপনারা আমার মায়ের জানাজায় এসেছেন, আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন এবং পরিবারের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করার অনুরোধ জানাই।”
জানাজার সময় ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও ফরিদপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ এবং রাজনীতিক অংশ নেন। জানাজা শেষে পার ভাঙ্গুড়া কবরস্থানে মায়ের দাফন শেষে রাসেল মাটির ঢিবিতে অংশগ্রহণ করে এবং পরবর্তীতে তাকে পুনরায় পুলিশি প্রহরায় পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
প্যারোল ও তার পটভূমি
পরিবারের পক্ষ থেকে মামাতো ভাই রকিবুল ইসলাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে লিখিতভাবে প্যারোল আবেদন করেন, যাতে তিনি শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখতে পান ও জানাজায় অংশ নিতে পারেন। জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম চার ঘণ্টার জন্য প্যারোল মঞ্জুর করেন। পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে তিনি আদালতের নির্দেশে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মুক্তি পান এবং নির্ধারিত সময় শেষে পুনরায় কারাগারে নেওয়া হয়।
| ঘটনার মূল তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| প্যারোল সময় | সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত (চার ঘণ্টা) |
| মরহুমার নাম | নুরজাহান রেখা |
| রাস্তায়/স্থান | ভাঙ্গুড়া পৌরসভার সরদারপাড়া; ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ |
আইনি প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তা
গত ২০ জুলাই ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে পাবনা জেলা ডিবি পুলিশ রাসেলকে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয় সূত্রে বলা হয়, তিনি বিস্ফোরক আইনের একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে কারাবন্দি আছেন। মিরপুর থেকে গ্রেপ্তারের পর তিনি বর্তমানে জেলা কারাগারে রয়েছেন।
- প্যারোল মঞ্জুর করা হয়েছে পারিবারিক অনুরোধ ও মায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে।
- সরকারি সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময় শেষে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
- স্থানীয়দের সমাগম থেকে বিষয়টির রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
স্থানীয় নেতিবৃন্দ ও অংশগ্রহণকারীরা জানায়, মায়ের শেষকৃত্যে রাসেলের উপস্থিতি ও প্যারোল প্রদানের সিদ্ধান্তে এলাকায় মানসিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা পায়। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখতে পুলিশ ম্যাচে উপস্থিত ছিল ও তাকে কড়া নজরদারিতে চলে যায়।
এই ঘটনায় পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা ও আশপাশের রাজনৈতিক মানচিত্রে ক্ষণিকের জন্য উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেলেও পারিবারিক শোক ও জানাজার পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের একাগ্র অংশগ্রহণ যেন সামাজিক সংহতির একটি প্রতীকি ছবিও ফুটিয়ে তুলেছে। তদন্ত বা প্রশাসনিক আদেশ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে পরিবেশিত হবে।