অপরাধ চাটমোহর পাবনা (23)

শ্রীদাসখালী প্রাথমিক: প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, তদন্ত চলছে

চাটমোহরের শ্রীদাসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামকে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে জেলা-উপজেলা প্রশাসনকে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে; উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে জিজ্ঞাসাবাদ-মূলক তদন্ত কাজটি করা হচ্ছে।

শ্রীদাসখালী প্রাথমিক: প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, তদন্ত চলছে
©অলংকরণ শামীম রেজা / we-news.com

পাবনার চাটমোহর উপজেলার শ্রীদাসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম-কে নিয়েও পরিচালনা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে।

অভিযোগের প্রধান দিকগুলো

লিখিত অভিযোগে প্রশাসনিক ও আচরণগত কয়েকটি গুরুতর দাবির উদাহরণ দেয়া হয়েছে, যেগুলো স্কুলের স্বচ্ছতা ও শিশুশিক্ষার পরিবেশকে দুর্বল করে বলেই অভিযোগকারীরা মনে করছেন। অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:

  • বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রমে রাষ্ট্রায়ত্ত সময় মেনে আচরণ না করা—প্রতিদিন বিদ্যালয়ে দেরিতে আসা এবং বিদ্যালয় ছুটির আগেই স্থান ত্যাগ করার অভিযোগ।
  • জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় দিবসগুলো অনুপস্থিত বা যথাযথভাবে উদযাপন না করার অভিযোগ।
  • শিক্ষার্থীর সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলা ও অসদাচরণে জড়িত থাকার অভিযোগ।
  • বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ উন্নয়ন, আপ্যায়ন ও পরিচ্ছন্নতা অনুদানের বার্ষিক ১,২০,০০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।
  • অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন ও ফরম বিক্রয়ে অনিয়ম—ফরম বিক্রির নির্ধারিত সময় অতিক্রম করে বিক্রি ও ২৫ জুন ২০২৬-এ চারটি ফরম বিক্রির মাধ্যমে ৪০,০০০ টাকা লাভের দাবি।
  • বিদ্যালয়ের অপব্যবহারে সংরক্ষিত বয়সসীমা লঙ্ঘন করে পাঁচ বছরের নিচের তিন ও চার বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও তাদের অভিভাবকদের নির্বাচনে ব্যবহার।
  • কিছু নির্বাচিত সদস্য মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত—তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে অভিযোগকারী।

প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও তদন্ত

অভিযোগ পেয়ে উপজেলা প্রশাসন তদন্তের দায়িত্ব দুপুরে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে দেয়া হয়েছে। খসড়া সময়সূচি অনুযায়ী তদন্ত আগামীকাল, সোমবার ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে। তদন্ত শুরু হলে বিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্যগ্রহণ, নথি-প্রতিলিপি যাচাই ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য তলব করা হবে।

স্থানীয়দের উদ্বেগ ও শিক্ষা সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া

অভিযোগে যেসব বিষয় এসেছে সেগুলো স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্কুল চলাচলের স্বচ্ছতা ও শিশু শিক্ষার নিরাপত্তা—দুইটিই বিষয় উদ্বেগের কেন্দ্রে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, টিইও ও এটিইও উক্ত বিদ্যালয়ের কার্যক্রমের উপর নজরদারি করছে বলে সত্ত্বেও স্থানীয়ভাবে কোনও পূর্ববর্তী পদক্ষেপ নেয়া হয়নি; ফলে বর্তমান সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলছিল বলে তারা মনে করেন।

আইন ও শিক্ষা নীতির প্রাসঙ্গিকতা

প্রাথমিক শিক্ষা সংক্রান্ত সরকারি বিধি অনুযায়ী বিদ্যালয়ের নাম থেকে বরাদ্দ অনুদান নির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে ব্যয় করা উচিত। এছাড়া ভর্তিসংক্রান্ত বয়স সীমা ও অভিভাবক সদস্য নির্বাচনে বিদ্যালয়কেন্দ্রিক জবাবদিহি বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। অভিযোগে তালিকাভুক্ত আর্থিক অনিয়ম ও যেভাবে ফরম বিক্রি-আদায় দেখানো হয়েছে, তা প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হবে।

তদন্তের সম্ভাব্য ফলাফল ও পরবর্তী পথ

তদন্ত প্রতিবেদন যদি অভিযোগের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়, তাহলে বিদ্যালয় প্রধানকে বদলি, নির্বাচন বাতিল ও আর্থিক হিসাব-নিকাশ পুনঃতদন্তসহ অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া যেতে পারে—এমনটিই মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা। তবে তদন্তে প্রতিবাদী পক্ষের বক্তব্য, প্রমাণাদি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাব নথিভুক্ত করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

পাঠকদের জন্য সংক্ষিপ্ত নির্দেশনা

যারা বিদ্যালয় প্রশাসন বা স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থাপনায় অভিযোগ জানাতে চান, তারা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করতে পারেন। স্কুল-ক্ষেত্রে নিজের সন্তানের স্বার্থে যে কোনো অভিযোগ নিশ্চিত করে, লিখিত প্রমাণসহ দেয়া উচিত—যাতে তদন্তে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া যায়।

বিষয় অভিযোগ/তথ্য
বার্ষিক বরাদ্দ অনুকরণ ১,২০,০০০ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ
ফরম বিক্রি ও আদায় নির্ধারিত সময় অতিক্রম করে ২৫ জুন ২০২৬-এ চারটি ফরম বিক্রি, ৪০,০০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ
তদন্ত দায়িত্বরত উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (তদন্ত নির্ধারিত)

তদন্ত শেষ হলে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম সম্পর্কে WE NEWS রিপোর্টটি আপডেট করবে। তদন্ত সংক্রান্ত নথিপত্র ও অভিযুক্তের জবাব পেলে পরবর্তী প্রকাশনায় সেটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।

শামীম রেজা
শামীম এআই অপরাধ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি শামীম, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

23পাবনা

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো পাবনা, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব