পাবনায় আধুনিক মর্গ নির্মাণ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকায় মৃতদেহের সঙ্গে আচরণ ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সংকট তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয় ধরে ২৫০ শয্যার পাবনা জেনারেল হাসপাতালের জন্য শুরু করা এই প্রকল্পটি বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ আছে। তবে মামলার জটিলতার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে এবং গত প্রায় দু’বছর ধরে ভবনটি অব্যবহৃত।
মর্মান্তিক প্রেক্ষাপট: মর্যাদা ও ঝুঁকি
স্থানীয়রা জানান, অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর হিমঘর না থাকায় হাসপাতাল ও থানা চত্বরে মরদেহ ফেলে রাখতে হয়। একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে, একই দিনে একাধিক মরদেহ এসে হাসপাতালের মাঠ বা রাস্তায় অপেক্ষমাণ থাকতে হয়েছে। কর্তব্যরত ডোমদের বরাবরই সীমিত স্থান ও অতিরিক্ত গরমে মরদেহ দ্রুত পচনের আশঙ্কা থাকে, যা স্বজনদের মানসিক কষ্ট ছাড়াও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ায়।
“আমাদের যেভাবে হোক একটা ব্যবস্থা এখানে করে দিক। এই পরিস্থিতিতে পোস্টমর্টেম করা যায় না। আমরা চাই দীর্ঘদিনের যে ভবনটা আছে, সেটা যেন কমপ্লিট করে দেয়। আমাদের লাশঘরের ভবনটা যেন সুন্দর হোক, যেন আমরা কাজকর্ম করে একটু শান্তি পাই।”
এ উদ্ধৃতিটি স্থানীয় হাসপাতালের এক কর্মীর কথোপকথন থেকে সংগ্রহ করা বিবৃতি, যেখানে তিনি মর্গ ঘরের অনুপস্থিতি ও কাজের ব্যাহত অবস্থার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিকল্প ব্যবস্থার অব্যবস্থা ও সামাজিক প্রভাব
রাস্তায় রাখা মরদেহ বা সীমিত সংখ্যক লাশঘরে মরদেহ সংরক্ষণ—এসবই বর্তমান বিকল্প। আহত বা নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন যে, অন্তত ন্যূনতম সম্মানটুকু এখন আর মেলে না। ইতোমধ্যে নির্মাণাধীন ভবনটির আশপাশে মাদক সেবীদের আড্ডা গড়ে উঠেছে, যা নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
- প্রকল্প শুরুর বছর: ২০২২
- নির্ধারিত ব্যয় (আনুমানিক): আড়াই কোটি টাকা
- প্রকল্পের অগ্রগতি: ৮০% সম্পন্ন
- কাজ বন্ধের সময়কাল: প্রায় দুই বছর
আইনি মারপ্যাঁচ ও প্রশাসনের বক্তব্য
প্রকল্প বন্ধের অন্যতম কারণ স্থানীয় মানুষের মধ্যে কিছু অস্পষ্ট কাহিনি ও সেই ব্যপারে আইনি দাবি-প্রক্রিয়া। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্ট ডিভিশনে একটি রিট ডismiss করে দেওয়া হয়েছিল। নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবির বলেছেন যে মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনে যোগাযোগ করে রিটটি ১৭ জুন, ২০২৬ তারিখে খারিজ করা হয়। একই সঙ্গে জানা গেছে, রিটকারীর বিরুদ্ধে আপিলের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গণপূর্ত বিভাগ ও সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে মামলার জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে স্থানীয়রা এখনও তৎপর বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছেন না এবং প্রতিদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে মহামারীর মতো গরমের সিজনে কাজ করছে হাসপাতালের স্টাফ ও স্বজনরা।
স্থানীয় প্রভাব ও করণীয়
এই ধরণের পরিস্থিতি শুধু মর্যাদাহানি নয়—অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পচনশীল তাপমাত্রায় জীবাণু বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনে দ্রুত পোস্টমর্টেম বা ময়নাতদন্তে বাঁধা সৃষ্টি করে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও হাসপাতালের স্টাফদের বলাবহির্ভূত কাজের চাপ বাড়ে এবং স্বজনদের মানসিক চাপ বেড়ে যায়।
| সমস্যা | প্রভাব |
|---|---|
| হিমঘরের অভাব | মরদেহ দ্রুত পচা, পোস্টমর্টেমে বাধা |
| নির্মাণাধীন ভবন অনিরাপদ | মাদক সেবন ও নিরাপত্তা সংকট |
| আইনি স্থবিরতা | দীর্ঘকালীয় বিচ্ছিন্নতা—সেবা অনুপস্থিতি |
পরবর্তী প্রত্যাশা
আদালতের সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক তৎপরতার উপর নির্ভর করে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। সরকারি সূত্রে আশ্বাস রয়েছে যে দ্রুত জটিলতা কাটিয়ে নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু করা হবে এবং প্রকল্প সমাপ্ত হলে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়বে। স্থানীয়রা চান—শুধু দ্রুত নির্মাণই নয়, নির্মাণ সম্পন্ন হলে নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা থাকুক, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরণের দুরবস্থা আর না ঘটে।
স্থানীয় ও জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনকে এখনই ক্ষণস্থায়ী ব্যবস্থার দিকে মনোনিবেশ করতে বলা হচ্ছে—যাতে অতি জরুরি অবস্থায় মরদেহ সংরক্ষণ ও পোস্টমর্টেম নির্বিঘ্নে করা যায় এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাস পায়।