অব্যবস্থার লাগামছাড়া অবস্থা
উত্তরবঙ্গের দুটি জেলার প্রধান যোগাযোগ পথ হিসেবে পরিচিত তিস্তা সড়ক সেতু সন্ধ্যার পর ভোগাচ্ছে ব্যাপক অন্ধকারে। সেতুটির বহু ল্যাম্পপোস্ট তত্ত্বাবধানে না থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে আলোর অভাব দেখা দেয়। ফলে এখানকার চলাচলকারীরা নিরাপত্তাহীনতার শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, রেল সেতুটি নির্মিত হয়েছিল ১৯০১ সালে এবং এর গণ্ডগোলের মেয়াদ ২০০১ সালে সমাপ্ত হয়। পরে রেলসেতুর ওপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে যান চলাচলের সক্ষমতা দেওয়া হলেও এর উপর নির্ভরশীল থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরবর্তী পর্যায়ে ২০১২ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ রেলসেতুর পাশে নতুন সড়ক সেতু নির্মাণ করে, যেটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৮৫০ মিটার এবং তাতে স্থাপন করা হয়েছিল ৩০টি ল্যাম্পপোস্ট।
দৈনন্দিন চলাচলে প্রভাব ও বার্তাগ্রহণ
সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে হাজারো দূরপাল্লার বাস, ভারি পণ্যবাহী ট্রাক, প্রাইভেট যান, মাইক্রোবাস, অটোরিকশা, ভ্যান এবং নেকড়ে-মোটরসাইকেল। এছাড়া রেল সেতু দিয়ে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে গড়ে উঠে ১৪টি ট্রেন। রাতের বেলায় বাতি না জ্বলায় সেতু ও সংযোগ সড়কগুলো সম্পূর্ণ অন্ধকারে ডুবে যায়।
স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা
“সেতুর বাতিগুলো প্রায়ই নষ্ট হয়ে যায়। ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বাতিগুলো বন্ধ আছে। এগুলো দেখভালের জন্য কেউ আসে না,”
এই কথাগুলো বলছেন তিস্তা এলাকার বাসিন্দা রমজান আলী। তিনি জানান, আগের দিনগুলোতে পরিবারের সঙ্গে সন্ধ্যায় সেতু দিয়ে ঘোরাঘুরা করা হত; এখন তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
নিরাপত্তার হুমকি ও অপরাধ প্রবণতা
রাতের অন্ধকার সুবিধা নিয়ে সেতু ও আশপাশে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোজন রয়েছে। আলো না থাকায় যাত্রীরা সহজ টার্গেট হিসেবে পরিণত হচ্ছেন, ফলে এলাকায় ভয় কাজ করছে এবং রাতের অসময়ে চলাচল কমে গেছে।
রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার প্রশ্ন
উদঘাটনের পর থেকে সেতুটির ওপর সরকার ইজারাদারের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও বাতি মেরামতের উপযুক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি—স্থানীয়রা এই অন্যাকর্ষণীয় বাস্তবতাকে তুলে ধরেন। অনেক ল্যাম্পপোস্টই যাতায়াতের অস্বস্তি সহ্য করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে।
তথ্যসংক্ষেপ
| বিবরণ | তথ্য |
|---|---|
| রেল সেতু নির্মাণ | ১৯০১ |
| রেল সেতুর মেয়াদ শেষ | ২০০১ |
| সড়ক সেতু নির্মাণ | ২০১২ |
| সড়ক সেতুর দৈর্ঘ্য | প্রায় ৮৫০ মিটার |
| স্থাপিত ল্যাম্পপোস্ট | ৩০টি |
| প্রতিদিন চলাচলকারী ট্রেন | ১৪টি |
প্রতিকার ও স্থানীয় প্রত্যাশা
স্থানীয়রা চাইছেন দ্রুত ল্যাম্পপোস্টগুলোর মেরামত বা প্রতিস্থাপন করা হোক এবং নিয়মিত টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হোক। তারা দাবি করছেন, সেতুর রক্ষণাবেক্ষণে বহুমুখী অংশগ্রহণ দরকার—সরকারি দফতরের পাশাপাশি ইজারাদারকেও দায়িত্বশীল হতে হবে।
- পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা: ক্ষতিগ্রস্ত ল্যাম্পপোস্ট দ্রুত চালু বা বদল করা।
- টহল বৃদ্ধি: রাত্রীভোজে পুলিশি টহল বাড়িয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা।
- দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা: সেতুর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি নিশ্চিত করা।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মন্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তারা যোগাযোগ করেনি। স্থানীয়দের উদ্বেগ ও সেতুর জটিল ইতিহাস বিবেচনায় এনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে না—এমন ধরণের উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।
লালমনিরহাট—তিস্তা সড়ক সেতু নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা সংশয় নিয়ে এলাকাবাসী ও পথচারীরা এখন দিনশেষে রাস্তায় নামতে ভয় পাচ্ছেন। সেতুর আলোর সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের জীবন ও চলাচল ঝুঁকিতে থাকবে।