রাজধানীর যানজট-ওয়ার্ডে শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকাল থেকেই সড়কচলাচলে পরিবর্তন ও সীমাবদ্ধতা দেখবে সাধারণ মানুষ। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে বঙ্গভবন ও এর আশপাশে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করেছে।
সময় ও নির্দেশনা
ডিএমপি-এর মতিঝিল বিভাগের এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে অনুষ্ঠানের সুবিধার্থে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বঙ্গভবন এলাকা ও আশপাশের সড়কগুলোতে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা—এ বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
“অতিথিদের যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে ২১ আগস্ট বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বঙ্গভবনের আশপাশের এলাকায় চলাচলকারী যানবাহনকে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণের অনুরোধ করা হচ্ছে,”
বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বিদায়ী ও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা। এই জনগুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতির কারণে বিশেষ সুবিধা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে কেন্দ্রীয় এলাকার যানবাহন নিয়মিতভাবে প্রবেশবন্দি বা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।
নাগরিকদের জন্য পরামর্শ
- ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ শুরু হওয়ার আগে দুর্গম ও ব্যস্ত রুট এড়িয়ে চলুন।
- সম্ভব হলে জরুরি নয় এমন বাহন কলকাঠি শহরতলী বা বিকল্প রুটে রাখুন।
- ডিএমপি প্রদত্ত নির্দেশনা ও সাইনবোর্ড মেনে চলুন, প্রশাসনিক কর্মসূচিতে সহযোগিতা করুন।
মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমীর খসরু সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা জানানো হয়েছে। অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি যে সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে—তাই নাগরিকদের পরিকল্পনা সেই সময়ের ভিত্তিতেই করতে বলা হচ্ছে।
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| শপথ অনুষ্ঠান | বঙ্গভবনে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা |
| ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের সময় | বিকেল ৩টা – রাত ৯টা |
| প্রধান ব্যক্তিবর্গ | রাষ্ট্রপতি (বিদায়ী ও নবনির্বাচিত), প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভা সদস্য, কূটনীতিক |
শপথ অনুষ্ঠানে উচ্চপদস্থ অতিথিদের উপস্থিতি ও তাদের নিরাপত্তা ও যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতেই ট্রাফিক ব্যবস্থাটি নেওয়া হয়েছে। ফলে সন্ধ্যার পিকটাইমে শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন সড়কে প্রত্যাশিত পরিবহন ব্যাহত হতে পারে—বিশেষত বঙ্গভবনের আশপাশের এলাকা।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রস্তুতি
রাজধানীর বাসিন্দারা প্রতি সপ্তাহে এমন গুরুত্বপূর্ন অনুষ্ঠানে দফায় দফায় সড়কচলাচলের পরিবর্তন দেখে অভ্যস্ত। তবুও সরকারি বিজ্ঞপ্তি না জেনে সাধারণ যাত্রী, অফিসগামী ও বেসরকারি পরিবহনগুলো আচমকা বিধিনিষেধে আটকে পড়ে কর্ম ও দৈনন্দিন জীবনে বিরূপ প্রভাব ভোগ করে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কার্যকর থাকবে এমন সময়ে পাবলিক পরিবহন ব্যবহারকারীদের আগে থেকে সময়সূচী মিলিয়ে বের হওয়া বা বিকল্প রুট ব্যবহার করার অনুরোধ করা হচ্ছে।
ডিএমপি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন শপথ অনুষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে অনুষঙ্গ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট, অস্থায়ী ব্যারিয়ার এবং ট্রাফিক কন্ট্রোল ইউনিট মোতায়েন করতে পারে—এ ধরনের প্রস্তুতি থাকায় পথচারীরা কিছুটা স্থগিত পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন।
নাগরিকদের সুবিধার্থে অনুষ্ঠানের বিষয়ে যে কোনো আপডেট, নিষেধাজ্ঞা বা পথ পরিবর্তন দেখা দিলে তা ডিএমপি-এর অফিসিয়াল নোটিশ ও স্থানীয় মিডিয়া মাধ্যমে মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
শহরবাসী বিশেষ করে কাজের জন্য বিকেলে বের হতে বাধ্য লোকেরা তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা সংশোধন করে রাখুন—কারণ ৩টার পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রত্যেক সেকেন্ডেই সড়কে নিয়ম পরিবর্তন ঘটতে পারে।
দ্রুতগতির করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা জেলা