লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ ইউনিয়নের ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি এ বছর এসএসসি সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং শতভাগ পাসের ভিত্তিতে জেলায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। পরীক্ষা দিয়েছেন ৬৭ জন শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে ২৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের সর্বাঙ্গীণ ফলাফ্য শতভাগ পাসী হওয়ায় পাঠপরিবেশ ও শিক্ষাব্যবস্থার প্রশংসা উঠেছে স্থানীয় পর্যায়ে।
প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক সফলতা
সংস্থার বরাত দিয়ে জানা গেছে, ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি গত ছয় বছর ধরে জিপিএ-৫ ও শতভাগ পাসের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। বিদ্যালয়ের ধারাবাহিক এই সাফল্য রামগঞ্জ উপজেলার শিক্ষাক্ষেত্রে এক ধরনের ইতিবাচক মাত্রা যোগ করেছে এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুপ্রাণিত করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখছে।
ফলাফলের সার্বিক চিত্র
জেলা পর্যায়ে এই একাডেমির সাফল্যের সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থানও প্রকাশ্য হয়েছে। জেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানভুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ন্যায্য অবস্থান ও পাস শতাংশ নিচে দেওয়া হল:
- ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি (রামগঞ্জ) — পরীক্ষা দেয় ৬৭, জিপিএ-৫: ২৫ জন, শতভাগ পাস
- লক্ষ্মীপুর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ — ৯৯.২৩% পাস
- কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লক্ষ্মীপুর — ৯৮.৯৫% পাস
- রায়পুর এল এম পাইলট মডেল হাই স্কুল — ৯৬.০০% পাস (ভোকেশনাল শাখায় জেলায় প্রথম)
| প্রতিষ্ঠান | পরীক্ষার্থী (প্রদান) | জিপিএ-৫ | পাস শতাংশ |
|---|---|---|---|
| ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি | ৬৭ | ২৫ | ১০০% |
| লক্ষ্মীপুর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ | — | — | ৯৯.২৩% |
| কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লক্ষ্মীপুর | — | — | ৯৮.৯৫% |
| রায়পুর এল এম পাইলট মডেল হাই স্কুল | — | — | ৯৬.০০% |
প্রশংসা ও দায়িত্ববোধ
ফলাফলের পর একাডেমির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. গোলাম কিবরিয়া শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতির পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে এই সাফল্য হওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন —
“একাডেমির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়ার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রতিবছর এ সাফল্য অর্জিত হচ্ছে। শিক্ষার গুণগত মান ধরে রেখে আমরা আগামীতে আরও উন্নত ফলাফল অর্জন করতে চাই।”
এ মন্তব্যে প্রকাশ পাচ্ছে যে প্রতিষ্ঠানটি শুধু ফলাফলেও নয়, পরিকল্পনা ও শিক্ষাদানের ধারাবাহিকতা রক্ষায়ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
স্থানীয় পাঠকদের জন্য অর্থপূর্ণ দিক
রামগঞ্জ ও আশপাশের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের স্থানীয় সফলতা উৎসাহব্যঞ্জক: তা দেখায় গ্রামের বা ছোট শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ফলাফল দিতে পারে। তবে ফলাফল ভালো হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষার অভ্যন্তরীণ মান বজায় রাখতে নিয়মিত পরিকাঠামো, পাঠদান পদ্ধতি ও শিক্ষকের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়ার প্রয়োজন থাকে।
উপসংহার
ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির এই ফলাফল লক্ষ্মীপুুর শিক্ষাক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিকতা ও শতভাগ পাস—এই দুইয়ের সমন্বয় থেকেই বোঝা যায়, নিয়মিত পরিকল্পনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সমন্বিত প্রচেষ্টা ও প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের দৃঢ়তা ফলপ্রসূ হয়েছে। ভবিষ্যতে জেলার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও যদি এ ধরনের প্রয়াস করে, তাহলে সমগ্র জেলার শিক্ষার মান উন্নত হবে বলে প্রতীয়মান।