চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নে সম্প্রতি প্রকাশিত ফ্যামিলি কার্ড শুমারির বরাদ্দ তালিকাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিবাদ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদল অভিযোগ করেছে যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেন হয়েছে; সেই অভিযোগের প্রতিবাদ হিসেবে তারা বুধবার সন্ধ্যায় ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ের তালা ঝুলিয়েছেন।
কী কারণে প্রতিবাদ
স্থানীয় ছাত্রদল-যুবদলের নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা ও নির্যাতিতকে বিবেচনায় না রেখে পরিবারের সদস্য হিসেবে নানা দলের মানুষের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে বলা হয়েছে যে, ফলাফল প্রকাশের পরে তালিকায় থাকা নামগুলো দেখে পরিষ্কার হয়েছে যে আত্মীয়তার সূত্রে ও আর্থিক অনৈচ্ছিকতায় বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
ভিডিও বার্তায় নিজেকে থানা ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়া মোহাম্মদ আল-আমিন হোসেন দাবি করেন যে দেখা যায় বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিবারের সদস্যদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বহু পুরনো ও নিষ্ঠাবান নেতাকর্মী ওই তালিকায় জায়গা পাননি।
তাদের দাবি ও পরবর্তী পদক্ষেপ
- প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করে নতুন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়াতে তালিকা প্রকাশ করার দাবি করেছেন তারা।
- ইউনিয়ন বিএনপির নেতা-কর্মীদের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়ার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও কথা জানিয়েছে বিক্ষুব্ধরা।
- তালিকায় থাকা কিছু প্রার্থীর নামও তারা জনসাধারণের সামনে তুলে ধরেছে এবং তৎক্ষণাত বিবৃতি চেয়েছে।
তল্লাশি করা নামগুলো
অভিযোগকারী নেতারা তালিকায় থাকা নিম্নোক্ত নামগুলো প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, এদের অনেকের রাজনৈতিক পরিচয় বিএনপির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
| নাম | অবস্থা (অভিযোগ অনুযায়ী) |
|---|---|
| মোহাম্মদ নাসিম হোসেন | তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত |
| মিরাজুল ইসলাম | তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত |
| জাবেদ ওমর | তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত |
| শাহীন আলম | তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত |
| তানিয়া | তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত |
| জসিম উদ্দীন | তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত |
| ওমর ফারুক | তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত |
| তুহিন শেখ | তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত |
| মেহেরুন্নেসা | তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত |
| হাসিবুল হাসান হাবিব | তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত |
| লালচাদ বাদশা | তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত |
| মোহাম্মদ রেজাউল পারভেজ | তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত |
| মোহাম্মদ জুবাযায়েব হক | অপেক্ষমাণ তালিকায় দাবি করা হয়েছে |
স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
দামুড়হুদা উপজেলার রাজনৈতিক জীবনে বহুবার দেখা গেছে, সরকারি বা কোটাভিত্তিক সুবিধা বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছড়িয়ে পড়ে। ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত তালিকায় স্বচ্ছতা না থাকলে তাতে হতাহত জনগণের বাস্তব সেবা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে — এমনটাই মনে করেন স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
সমাধানের আহ্বান ও প্রশাসনিক ভূমিকা
অভিযোগকারীরা চেয়েছেন প্রশাসন এগিয়ে এসে তদন্ত করে অপরাধপ্রবণ চক্র চিহ্নিত করুক এবং অনিয়মের দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যদিকে, ইউনিয়ন বিএনপি নেতৃত্ব অথবা উপজেলা কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি বলে স্থানীয়রা জানায়।
কথা রাখার প্রশ্ন
যদিও ফ্যামিলি কার্ড পরিচালনার লক্ষ্য হলো সবচেয়ে নাটকীয়ভাবে দরিদ্র ও অরক্ষিত পরিবারকে সেবা পৌঁছে দেয়া, প্রয়োগে স্বচ্ছতা না থাকলে সেই লক্ষ্য ব্যাহত হয়। স্থানীয় সংগঠনের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার দাবি এ ঘটনার মূল পাঠ। কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের এই ঘটনা শালিসি-রাজনৈতিক সমাধান না হলে বৃহত্তর সামাজিক উদ্বেগ বাড়ানোর সম্ভাবনা রাখে।
এ সম্পর্কে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা প্রশাসন কিংবা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মন্তব্য না পেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।