কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়াড়হাট ইউনিয়নের ফেইচকার চরে জেলা প্রশাসন একটি দিনব্যাপী সমাবেশ ও মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ নেতৃত্ব দেন এবং জেলা পরিষদ, স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগসহ নানা দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
চরের বাস্তবতা ও প্রশাসনের উপস্থিতি
ফেইচকার চরটি নদীমুখে অবস্থিত; ব্রহ্মপুত্র পেরোতে হয় এবং বর্ষায় যোগাযোগ বিশেষত কঠিন হয়। এখানে বাস করেন প্রায় নয় হাজার মানুষ। প্রশাসনের দল সরাসরি চরবাসীর সঙ্গে আলাপ করে তাদের সমস্যার তালিকা সংগ্রহ করেন এবং স্থানীয় অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জীবিকা উন্নয়নে করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।
পশুপালনকে আয়ের কেন্দ্র হিসেবে দেখছে প্রশাসন
সমাবেশে জেলার প্রাণিসম্পদ বিভাগের উপাত্ত তুলে ধরে বিশেষভাবে বলা হয় যে কুড়িগ্রামে পশুসম্পদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য এবং চরে পশুপালন এলাকার মানুষের প্রধান আয়ের উৎস। প্রাণিসম্পদ বিভাগের দেওয়া সংখ্যাগুলো অনুযায়ী জেলা জুড়ে গড়ে পশুর বিস্তার নিম্নরূপ:
| প্রজাতি | জেলা মোট | চরাঞ্চলে সংরক্ষিত |
|---|---|---|
| গরু | প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার | প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার |
| ছাগল | প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার | প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার |
| মহিষ | প্রায় ১৬ হাজার | প্রায় ৫ হাজার |
| হাঁস-মুরগি | বহুসংখ্যক (আঞ্চলিক) | চরাঞ্চলে ব্যাপকভাবে পালন করা হয় |
বিশেষ দিকনির্দেশ ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ
জেলা পশুপালন কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান থেকে জানা যায়, চরের লোকজনকে শুধুমাত্র পশু পালনের ওপর নির্ভর না করে – পশুদের রোগ-প্রতিরোধ, খাবার, বাসস্থান ও নিয়মিত পরিচর্যার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। তিনি উপজেলার প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ রাখার অনুরোধ জানান এবং সময়মতো টিকাদান, রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
- সময়মতো ভ্যাকসিন প্রয়োগ ও রোগের লক্ষণ দেখা মাত্রই兽ষাধ্য ব্যবস্থা গ্রহণ
- সঠিক খাবার ও আশ্রয় নিশ্চিত করলে উৎপাদন বেড়ে যাবে
- ছোট খামারীদের জন্য সহজলভ্য যোগাযোগ সেবা জরুরি
চরবাসীর অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা
সমাবেশে অনেক চরবাসী জানান যে তারা দীর্ঘদিন ধরে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও হাঁস-মুরগি পালন করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, রোগ বা ইস্যু হলে তৎক্ষণাৎ চিকিত্সা ও টিকা পেতে অসুবিধা হয়। এতে প্রাণি মৃত্যুহার বৃদ্ধি পায় এবং আয়ের ক্ষতি হয়। প্রশাসনের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এসব সমস্যা সমাধানের জন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাঠপর্যায়ের সহায়তা বাড়ানো হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি-জ্ঞান ভাগাভাগি করা হবে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক বিষয়েও পদক্ষেপ
কর্মসূচিতে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাতকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা চরবাসীর কাছে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা নিয়ে কথা বলেন। তারা বলেন, পশুপালনই হবে না—সমাজের সচেতনতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নও সমভাবে জরুরি।
পলিসি ও বাস্তবায়ন—আগামিকাল কি থাকবে?
প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, চরের মানুষের হাতে থাকা পশুসম্পদ সুষ্ঠু পরিচর্যা ও রোগ-নিরোধ নিশ্চিত করলে তা পরিবারের আয় বাড়ানোর বড় মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। এজন্য পর্যায়ক্রমে টিকাদান ক্যাম্প, প্রশিক্ষণ ও মাঠসেবা শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হবে। তবে এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নির্ভর করবে নিয়মিত সম্পদ ও ক্রমাগত নজরদারির ওপর।
ফেইচকার চরকার্যক্রমটি যে শুধু একদিনের সমাবেশ নয়, সেটি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত সহায়তা ও ধারাবাহিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে—এটাই স্থানীয়রা আশা করছেন।