শেরপুরে জেলা পাসপোর্ট অফিসে কর্মরত সহকারী পরিচালক মো. রুস্তম আলীকে এক নারীর সঙ্গে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাতে; স্থানীয়রা রাতের দিকে অফিস ভবনের তৃতীয় তলায় তাকে ওই নারীর সঙ্গে দেখতে পায় এবং পরে পুলিশে খবর দেয়।
পুলিশ কী বলছে
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে আনে। ওসি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে ওই নারী সহকারী পরিচালকের দূরসম্পর্কের শালী এবং তার বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা বলে জানা গেছে; নামটিও প্রাথমিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
"খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ওই দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে আনে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটক ওই নারী সহকারী পরিচালক মো. রুস্তম আলীর দূরসম্পর্কের শালী," — ওসি মো. সোহেল রানা।
ঘটনার সময়রেখা
| ঘটনার ক্রম | সময় | বর্ণনা |
|---|---|---|
| ১ | রাত ≈ ১০টা | স্থানীয়রা সহকারী পরিচালকের তৃতীয় তলার কক্ষে এক অপরিচিত নারীকে প্রবেশ করতে দেখে সন্দেহ হয় |
| ২ | নিবন্ধিত রাত | স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়; পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তথ্য যাচাই করে |
| ৩ | দিবাগত রাত ≈ ২টা | সহকারী পরিচালক ও ওই নারীকে থানায় নিয়ে আসা হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য |
কেন এটি গুরুত্বপূর্ন?
পাসপোর্ট অফিস একটি সরকারি স্বীকৃত ও সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠান। এধরনের প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ও কর্মচারীদের আচার-আচরণ সাধারণ নাগরিকের আস্থা ও সরকারি সেবা প্রদানে প্রভাব ফেলে। ভবনের আবাসিক কক্ষে অপ্রত্যাশিত ভিজিট বা অনাকাঙ্ক্ষিত উপস্থিতি হলে প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা প্রশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিয়মাবলী নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ
স্থানীয়রা প্রথমে তৃতীয় তলায় কারো প্রবেশে সন্দেহ করে এবং পরে পুলিশকে জানান। থানার পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়েছে; ওসি জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনগত পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনার দিকগুলো যাচাই করছে এবং দরকারে অফিসের ম্যানেজমেন্টকে জানানো হবে বলে জানা গেছে।
- আটক ব্যক্তির পরিচয়: সহকারী পরিচালক মো. রুস্তম আলী।
- অন্য ব্যক্তি: প্রাথমিকভাবে নাম ওজিলা উল্লেখ করা হয়েছে, তার বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর।
- জরুরি জিজ্ঞাসাবাদ: ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হয়েছে; তদন্ত চলমান।
প্রেক্ষাপট ও করণীয়
সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আচরণ ও সুরক্ষাসংক্রান্ত দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির আওতায় থাকা উচিত। অফিসগুলোতে ডিউটি, ভেন্ডর প্রবেশ, গেস্ট রেজিস্ট্রেশন ও রাতভারি প্রবেশ সংক্রান্ত স্পষ্ট নীতি থাকা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। স্থানীয়রা বলছেন, ভবনস্থ ব্যক্তিগত কক্ষ থাকলেও নিরাপত্তার দিকটি আইনি ও প্রশাসনিকভাবে তদারকির আওতায় রাখা প্রয়োজন।
এখন পর্যন্ত পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেননি; জিজ্ঞাসাবাদের পর ও আইনগত বিশ্লেষণ শেষে তারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা এই ঘটনার সর্বোচ্চ গুরুত্ব নির্ধারণে সহায়ক হবে।
শেরপুর জেলার বাসিন্দারা এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাসপোর্ট অফিসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়ম-কানুন সংশোধনের দাবি উঠতে পারে।