পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের অমরখানা জামুড়িতলী গ্রামে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে নবনির্মিত একটি সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে বাবুরাম দেবসিংহ (৩১) নামে এক রাজমিস্ত্রি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের চাচা বুদ্ধ চরণ দেবসিংহ ওই ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ করে আট জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
ঘটনার আবেদন্য বিবরণ ও প্রথম প্রতিক্রিয়া
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে সেপটিক ট্যাংকের সংস্কারকাজের জন্য দুই ব্যক্তি—রাব্বি হোসেন ও উত্তম রায়—বাবুরামকে ডেকে নিয়ে যান। দীর্ঘদিন ট্যাংকের ঢাকনা বন্ধ থাকায় ভেতরে গ্যাস সঞ্চিত ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ আছে।
উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসা
ট্যাংকের ভেতরে নামার পরপরই বাবুরাম অসুস্থ হয়ে পড়েন। একই ঘটনায় আরেক শ্রমিক গৌতম চন্দ্র রায়ও অসুস্থ হয়ে পড়ে; তিনি বর্তমানে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর শ্রমিক ভাগ্য রায় চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন।
- ঘটনা: ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যায়ে
- স্থান: শালডাঙ্গা ইউনিয়নের অমরখানা জামুড়িতলী গ্রাম
- নিহত: বাবুরাম দেবসিংহ (৩১)
- চিকিৎসাধীন: গৌতম চন্দ্র রায়
মামলা ও অভিযুক্তদের নাম
নিহতের চাচা বুদ্ধ চরণ দেবসিংহ দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করেছেন যে, ট্যাংকের ভেতরে কোনো নিরাপত্তা বা সতর্কতা রাখা হয়নি এবং উদ্ধার কাজও তৎক্ষণিকভাবে না করার কারণে তার ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে। মামলায় নাম উল্লেখ করা হয়েছে নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের:
| নাম | বয়স (এজাহারে) |
|---|---|
| রাব্বি হোসেন | ৩৮ |
| বাবুল হোসেন | ৪৪ |
| জুয়েল ইসলাম | ৩৩ |
| উত্তম রায় | ২৮ |
| লাভলী বেগম | ৪২ |
| রানা সরকার | ২৬ |
| সাইফুল ইসলাম | ২৭ |
| মজিবুল ইসলাম | ৫৪ |
“ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।”
মামলার প্রধান আসামি হিসেবে নাম থাকা শালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রাব্বি হোসেন এ অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের কাছে এই বক্তব্য দিয়েছেন। বাড়ির মালিক নবির হোসেন জানান, তিনি ঢাকায় থাকেন এবং ঘটনার দিন শ্রমিকরা মূলত জানালার কাজ করছিলেন—তবে এ ব্যাপারে মামলার এজাহারে বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়েছে।
পুলিশি ব্যবস্থা ও ময়নাতদন্ত
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরে মরদেহ পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করেছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান ওসি মুসা মিয়া।
স্থানীয়ভাবে এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রশ্ন তোলে শ্রমিক নিরাপত্তা ও নির্মাণ কাজের সময় সতর্কতা বা পেশাদার নির্দেশনার অভাব সম্পর্কে। এলাকায় সেপটিক ট্যাংক বা ঘন ঘন বন্ধ রাখাসহ অনুপযুক্ত পরিমাণ বায়ু চলাচলের কারণে গ্যাস জমা হতে পারে—তাই বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এই ঘটনার পরিণতি ও পুলিশের তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযােগ ও সাজা ppাবে তা স্থানীয় জনগণ মনোযোগসহকারে দেখছে। নিহত বাবুরাম দেবসিংহের পরিবারের অভিযোগে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উত্থাপিত হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন থেকে তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আরও তথ্য পাওয়ার অপেক্ষা রয়েছে।