পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার সারিয়ালজোত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠ্যক্রমভিত্তিক নাট্যচর্চার নামকরণ করা হয়েছে “স্কুল সিলেবাস থিয়েটার”। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. শুকরিয়া পারভীন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং প্রাণ-প্রকৃতি, পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান কারিগর-এর বাস্তবায়নে কার্যক্রমটি চালু করা হয়েছে।
উদ্দেশ্য ও আয়োজনের ধরন
প্রকল্পটি মূলত প্রান্তিক এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠ্যবইভিত্তিক বিষয়গুলোকে নাট্যভাষায় তুলে ধরে শিক্ষার সঙ্গে সাংস্কৃতিক সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রণীত। আয়োজকদের বিবরণে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা নিজ বিদ্যালয়ের মাঠে নিজস্ব নাট্যচর্চা ও উপস্থাপনা করবে।
প্রশিক্ষণ ও অংশগ্রহণ
প্রকল্পের প্রথম পর্বে অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া হয়েছে সাত দিনের নাট্য প্রশিক্ষণ, যেখানে শুধু অভিনয় নয়, মোটিভেশনাল ও জীবনধারাগত বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায় যে, একটি থিয়েটার ক্লাবে পাঁচটি শ্রেণি থেকে মোট ২৫ জন শিক্ষার্থীকে বেছে নেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত ছিল:
- পাঠ্যবইভিত্তিক গল্প ও নাট্যচর্চা
- মেডিটেশন ও শারীরিক ব্যায়াম
- প্রমিত উচ্চারণ ও সাবলীল কথোপকথন
- সংগীত ও মঞ্চব্যবস্থা
- স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা ও ইতিবাচক আচরণ
উদ্বোধনী পারফরম্যান্স ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সারিয়ালজোত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের 'সারিয়াল থিয়েটার ক্লাব' মঞ্চস্থ করে নাটক “বাঁশিওয়ালা”। নাটকে অভিনয় করেন আরুশা, সারা, আশরাফি, রোমিও, মেহেদী, সাদিকুল, জেসিকা, রিমি এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় ছিলেন স্থানীয় নাট্যকর্মী ও শিক্ষাকর্মীরা।
“থিয়েটার একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্প মাধ্যম। এটি কেবল নিছক অভিনয় নয়; একজন শিল্পীকে নানা যোগ্যতায় গুণান্বিত হতে হয়,”
উক্তিটি অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. শুকরিয়া পারভীনের। তিনি আরও বলেন যে, এই ধরনের কর্মসূচি শিশুদের সামগ্রিক বিকাশে সাহায্য করবে এবং স্কুল-পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।
ভবিষ্যৎ ধাপ ও পরিকল্পনা
কারিগর’র নাট্যকর্মী মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, এই উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো প্রান্তিক অঞ্চলের শিশুদের কাছে নিয়মিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পৌঁছে দেয়া। তারা জানান, প্রকল্পটি পাইলট হিসেবে তেঁতুলিয়ার ১০টি বিদ্যালয়ে চালানো হবে এবং পরে এসব বিদ্যালয়ের নাট্যচর্চা থেকে নির্বাচন করে ১০টি নাটক নিয়ে একটি নাট্য উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
| বিষয় | সংখ্যা / বর্ণনা |
|---|---|
| প্রশিক্ষণের সময়কাল | ৭ দিন |
| প্রতি ক্লাবের সদস্য | ২৫ জন (পাঁচ শ্রেণি থেকে) |
| প্রথম ধাপের স্কুল | ১০টি (তেঁতুলিয়া উপজেলা) |
| ভবিষ্যৎ নাট্য উৎসব | ১০টি নাটক মঞ্চে প্রদর্শন |
স্থানীয় প্রভাব ও চিন্তা
শিক্ষাব্যবস্থা ও স্থানীয় সংস্কৃতিনির্ভর কর্মকাণ্ডে এই ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও ভাষা-ব্যবহারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে সাংগঠনিকরা মনে করেন। কারিগর সংস্থার কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রান্তিক অঞ্চলের শিশুদের কাছে পর্যাপ্ত সাংস্কৃতিক সুবিধা পৌঁছে না। তাই স্কুলভিত্তিক থিয়েটার তাদের শিক্ষাগত ও নৈতিক বিকাশে ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় অভিভাবক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, শিশুদের এই মঞ্চায়ন দেখে স্থানীয় মানুষও উৎসাহিত হয়েছে এবং স্কুল—কমিউনিটি মধ্যে সংযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আয়োজকরা আশা করছেন, ধাপে ধাপে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়বে এবং তেঁতুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম অঞ্চলের অন্য বিদ্যালয় থেকেও উদ্ভাবনী পাঠ্যক্রমভিত্তিক নাট্যের উদাহরণ তৈরি হবে।