পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলা ইউনিয়নে এক নাবালিকা মাদরাসাছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন ও প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ এবং ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ একজন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় ভাই দায়ী হয়ে অভিযোগপত্র (এজাহার) দায়ের করেছেন এবং মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও পরিবারের বরাতে জানা যায়, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত কিশোর একই মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। মাদরাসায় যাতায়াতের পথে অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলে। আরোপ আছে, গত ৭ মে রাতে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি না থাকায় অভিযুক্ত ওই কিশোরীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে।
মেয়েটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ্য হওয়ার পর পরিবার তাকে পরীক্ষা করাতে নিয়ে গেলে ৫ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড় লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে জানা যায়, সে ১৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। কথিত সম্পর্ক ও গর্ভাবস্থার তথ্য পরিবারকে জানানোর পর লোকালয়ে ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পরই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ আছে।
আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার
পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে অভিযোগ পেয়ে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং প্রধান আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
- ভুক্তভোগীর শ্রেণি: নবম
- অভিযুক্তের শ্রেণি: ষষ্ঠ
- আল্ট্রাসনোগ্রামে প্রকাশিত গর্ভাবস্থার সময়কাল: ১৭ সপ্তাহ
- ঘটনার সময়কাল: মূল ঘটনাটি ঘটেছে বলে বলা হচ্ছে ৭ মে; গর্ভাবস্থার তথ্য জানাজানি হয়েছে ৫ সেপ্টেম্বর
“মামলা করার পর আসামির পরিবারের পক্ষ থেকে আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে,”
এমনটাই দাবি করেছেন মামলাকারী শাহীনুর ইসলাম। তিনি এ ঘটনার প্রসঙ্গে জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ এবং মা বাক্প্রতিবন্ধী। এই শীর্ষভাঙা পরিবারের অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
পরিবার ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
আখিনুরের চাচা মনিরুল ইসলাম ঘটনার প্রতি তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সতর্কতা এবং অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, তার ভাতিজা এমনতম কাণ্ড ঘটাতে পারে না—এমনটিই তার বিশ্বাস। এছাড়া তিনি মামলাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন এবং আখিনুরের বয়স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আল্ট্রাসনোগ্রাম ফল | ১৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা |
| ঘটনার তারিখ (প্রধান ঘটনা বলে উল্লেখ) | ৭ মে |
| গর্ভাবস্থা তথ্য প্রকাশ | ৫ সেপ্টেম্বর |
| আখিনুরের জন্মতারিখ (চাচার দাবি) | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ |
আখিনুরের চাচার দাবি অনুসারে, আখিনুরের জন্ম ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২—এটি সত্য হলে তার বর্তমান বয়স আনুমানিক চারদশ বছরের কিছু বেশি হওয়া উচিত; কিন্তু মামলার এজাহারে তার বয়স ১৯ বছর উল্লেখ করা হয়েছে বলে চাচা অভিযোগ তুলেছেন।
স্থানীয় মাদরাসার সুপার হাবিবুর জানিয়েছেন, আখিনুর ওই মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। সম্প্রতি তাকে সিগারেট খাওয়ার অভিযোগে মাদরাসায় উপস্থিত থাকতে নিষেধ করা হয় এবং কিছুদিন পরে সে মাদরাসায় আসেনি বলেও তিনি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি উন্মোচিত হওয়ার পর পুলিশি তদন্ত, ডাক্তারি পরীক্ষাসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়রা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য এখন প্রধান চাহিদা—মামলার দ্রুত এবং সুষ্ঠু নিষ্পত্তি, পাশাপাশি নাবালিকা ও তার পরিবারের সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।