পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাতকাজলদিঘী ইউনিয়নের কাটাবাড়ি এলাকায় রাতে সরকারি গাছ কাটা যাওয়ার সঙ্গে স্থানীয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের নেতার নাম জড়ানোর অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় বনবিভাগ ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ২১টি ইউক্যালিপটাস গাছ জব্দ করেছে। এলাকার মানুষ তৎক্ষণাৎ জমায়েত হয়ে বনবিভাগ ও পুলিশের খবর দিলে ঘটনার সূত্রপাত।
ঘটনার সারমর্ম
জিটিলোকাল সূত্রে জানা যায়, কাটাবাড়ি এলাকায় ২০০৪ সালে রোপণ করা সরকারি ইউক্যালিপটাসের বাগান রয়েছে। রবিবার (১৯ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে স্থানীয়রা দেখতে পান কিছু ব্যক্তি গাছ কাটছে এবং তা অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। দ্রুত খবর পেয়ে বনবিভাগ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জব্দ কর্মসূচি গ্রহণ করে। জব্দকৃত গাছগুলোর আনুমানিক বাজার মূল্য স্থানীয়ভাবে প্রায় ৩০ হাজার টাকা বলা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে জড়িত উল্লেখ করা হয়েছে তাঁতী দলের জেলা/উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের নাম — জাহিরুল ইসলাম (পঞ্চগড় সদর উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি), হালিম ও আনিস। এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এলাকায় নামাজ-নামাজ ব্যক্তিটি নিজেই — তিনি বলেছেন যে তিনি ঘটনার সাথে জড়িত নন।
"আমি গাছ কাটার বিষয়ে কিছু জানিনা।"
প্রশাসন ও বনবিভাগের প্রতিক্রিয়া
জেলা বনবিভাগের পঞ্চগড় সদর উপজেলার বীট কর্মকর্তা জয়নুল আবেদিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, কাটা গাছ জব্দ করা হয়েছে এবং ঘটনার তদনুসারে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পঞ্চগড় সদর থানার ওসি মোখলেছুর রহমানও জানান, স্থানীয়রা ফোন করে ঘটনা জানালে পুলিশ ফোর্স পাঠিয়ে বনবিভাগকে সহযোগিতা করে গাছ জব্দ করা হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও আবির্ভূত উত্তেজনা
কাটাবাড়ি এলাকার স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ অবস্থায় বনবিভাগ ও পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন। সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. সোহেল ও পৌরসভার যুবদল নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান। একাধিক স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে গোপনে গাছ কাটা এমনকি ট্রলিতে তোলার ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলছে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
বাজার মূল্য, সংখ্যাগত তথ্য ও সময়সূচি
| ধর্ম | তথ্য |
|---|---|
| জব্দকৃত গাছ | ২১টি ইউক্যালিপটাস |
| আনুমানিক মূল্য | প্রায় ৩০,000 টাকা (স্থানীয় আনুমানিক) |
| ঘটনার সময় | রবিবার রাত ৮টার দিকে |
| স্থান | কাটাবাড়ি, বিষ্ণু নারায়নি মৌজা, কামাতকাজলদিঘী ইউনিয়ন, পঞ্চগড় সদর |
কী হয়েছি—স্থানীয়দের বক্তব্য
কামাতকাজলদিঘী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য গমিরউদ্দিন প্রধান জানিয়েছেন, গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—তবে এই বক্তব্যের প্রমাণাদি বা পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা তিনি এখনো দিতে পারেননি। অন্যদিকে কিছু স্থানীয় মানুষ বলছেন, কাটা গাছগুলি বাড়ির সামনে এখনও আছে এবং অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করছেন।
আশংকা ও পরবর্তী করণীয়
স্থানীয়রা পুলিশের মাধ্যমে ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত ও দুষ্কৃতীদের দ্রুত আইনি ভয় দেখানোর দাবি তুলেছেন। বনবিভাগ ও থানা কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত করে যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও বনবিভাগের তৎপরতা না থাকলে সরকারি সম্পদের অবক্ষয় এবং পরিবেশগত ক্ষতিও বাড়তে পারে—এ ব্যাপারে স্থানীয়রা উদ্বেগ ব্যক্ত করেছেন।
- স্থানীয়দের দ্রুত সাড়া দেওয়ার ফলে জব্দ করা হয়েছে ২১টি ইউক্যালিপটাস গাছ।
- ঘটনাস্থলে বনবিভাগ ও পুলিশ উপস্থিত ছিলেন; মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানানো হয়েছে।
- অভিযোগের মুখে থাকা জাহিরুল ইসলাম স্বীকার করেননি—তবে স্থানীয়দের দাবি আছে এবং তদন্ত চলছে।
এই ঘটনার পর অনুসন্ধান ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ যে দ্রুততার সঙ্গে হবে, তা স্থানীয় মানুষের আস্থা ও সরকারি সম্পদের রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পঞ্চগড় সদর থানার তদন্ত পটভূমি ও বনবিভাগের পদক্ষেপ পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোতে পাওয়া যাবে।