পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলায় রাতের অন্ধকারে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতির সময় নির্মাণাধীন প্রতিমার কিছু অংশ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা ঘটনাটি রাত দুটো নাগাদ লক্ষ্য করলে পরে বিষয়টি থানায় জানানো হয়।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত চিত্র
বলা হচ্ছে, দেবীদুবা ইউনিয়নের গালান্ধি চৌরঙ্গী এলাকার শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দিরে নির্মাণাধীন প্রতিমার মহিষ ও ময়ূরের অংশ ভেঙে ফেলে রাখা ছিল। মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক রাধানাথ বর্মন এই ঘটনায় দেবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় একজন বাসিন্দা দুজয় চন্দ্র মানিক ঘটনার কথা জানিয়ে বলেন, রাতের অন্ধকারে কয়েকজন প্রতিমার অংশ ভেঙে রেখে যায়, যা জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত
দেবীগঞ্জ থানা কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুসা মিয়া জানান, মন্দিরে কারিগর ও পুরোহিতরা কাজ শেষ করে চলে যাওয়ার পর রাতে কেউ বা কয়েকজন মণ্ডপে এসে প্রতিমার অংশ ভাঙেন। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই শুরু হয়েছে।
“পূজামণ্ডপে নির্মাণাধীন প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে পুরোহিত ও কারিগররা চলে গেলে রাত ১২টার পর মণ্ডপে কেউ প্রতিমার দুটি অংশ ভাঙচুর করে। মণ্ডপ এলাকার সিসিটিভি ভিডিও যাচাইসহ ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।”
ওসি মুসার উদ্ধৃতিটি ঘটনার তদন্তে বর্তমানে পুলিশ যে দিকগুলো দেখছে তার একটি সংক্ষিপ্ত সারাংশ। তারা মন্দিরের আশেপাশের মেয়ে-বয়স্কদের সাক্ষ্যগ্রহণ, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য মোটিভ চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
স্থানীয়রা এই ঘটনার কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। শারদীয় পূজা—যা লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—তার প্রস্তুতির সময় এই ধরনের ঘটনায় সম্প্রদায়ে অনিরাপত্তার বাতাবরণ তৈরি হতে পারে বলে তারা মনে করছেন। মন্দির কমিটির সদস্যরা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চান এবং অভিযোগ উত্থাপন করে আইনি ব্যবস্থার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা রাখছেন।
প্রাসঙ্গিক তথ্যের সারাংশ
- ঘটনা স্থান: দেবীদুবা ইউনিয়ন, গালান্ধি চৌরঙ্গী, শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দির
- মামলা করেছেন: রাধানাথ বর্মন (মন্দির সাধারণ সম্পাদক)
- পুলিশ উদ্যোগ: ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সিসিটিভি ভিডিও যাচাই, তদন্ত চলছে
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অঞ্চল | দেবীগঞ্জ, গালান্ধি চৌরঙ্গী |
| আহত/মৃত | কোনও হতাহতের খবর নেই |
| আইনি ব্যবস্থা | মামলা দায়ের; পুলিশ তদন্ত করছে |
এ বিষয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষ বলেছে যে, তৎক্ষণাৎ ক্ষতিগ্রস্ত অংশ বদলানো বা মেরামত সম্ভব হলে করা হবে যেন পূজার সময় কোনো প্রতিবন্ধকতা না ঘটে—তবে তারা এখনও সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাপ নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি।
কি করলে সাহায্য মিলতে পারে
স্থানীয় পর্যায়ে এমন ঘটনার ফলে উত্তেজনা ছড়ানো রোধ করতে কয়েকটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে:
- পুলিশ বেশি নজরদারি এবং ভোল্টেজ বাড়াতে পারে যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
- মন্দির কমিটি ও স্থানীয় নেতারা মিলছি আলোচনা করে সংহতি প্রকাশ করলে সম্প্রদায়ের উদ্বেগ কমবে।
- যদি আছে তবে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দ্রুত শেয়ার করে তদন্তে সহায়তা করা।
অতিরিক্তভাবে, স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার মুল কারণ উদঘাটনে এবং ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পদক্ষেপ নেবে বলে একাধিক সূত্রে বলা হচ্ছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দেবীগঞ্জ থানার তদন্ত প্রকৃতপক্ষে কাকে উদ্দেশ্য করে বা কোনো সূত্রে পরিকল্পিত ছিল কি না, তা তদন্ত শেষে সঠিকভাবে জানা যাবে। আপাতত এলাকাটি শিঘ্রতার সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।